চট্টগ্রাম, , মঙ্গলবার, ২০ নভেম্বর ২০১৮

বাড়ি ও কর্মস্থলে নজরদারি বৃদ্ধি, চট্টগ্রামে গ্রেফতার আতঙ্কে বিরোধী জোটের নেতাকর্মীরা!

প্রকাশ: ২০১৭-১০-১২ ২৩:২১:৩১ || আপডেট: ২০১৭-১০-১৩ ২২:২৪:১৪

সাঈফী আনোয়ারুল আজিম
সিটিজি টাইমস প্রতিবেদক

চট্টগ্রামে এক ধরণের আতঙ্কে দিন কাটছে ২০ দলীয় জোটের শরিক দলগুলোর নেতা কর্মীদের। শরীক দলগুলোর নেতাকর্মীরা এখন গ্রেফতার আতঙ্কে ভুগছেন। বিশেষ করে যাদের বিরুদ্ধে মামলা ও গ্রেফতারি প্ররোয়ানা রয়েছে, তারা এখন গ্রেফতার আতঙ্কে ভুগছেন। অনেক নেতাকর্মী গ্রেফতার এড়াতে ইতিমধ্যে এলাকাও ত্যাগ করেছেন।

গত সোমবার রাতে ২০ দলীয় জোটের অন্যতম শরীক দল জমায়াতের ৯ শীর্ষ নেতাকে আটক, চট্টগ্রামে লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ও ন্যাশনালিস্ট পার্টির মহাসচিবকে আটকের পর জোটের শরীকদের মধ্যে এখন গ্রেফতার আতঙ্ক বিরাজ করছে।

সূত্রমতে, বিএনপি-জামায়াতের যৌথ আন্দোলনের পরিকল্পনা নস্যাৎ করা ,দল দুইটির সব স্তরের নেতাকর্মীদের মধ্যে ভীতিসঞ্চার করতে গ্রেফতার অভিযান শুরু করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এই অভিযান থেমে থেমে অব্যাহত থাকবে। তবে এ গেফতার অভিযানকে পুলিশের চলমান কাজের অংশ বলেও দাবি করেছেন ক্ষমতাসীন দলের নেতারা।

সূত্রমতে, সারা দেশে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা নতুন করে তথ্য সংগ্রহ সমাপ্ত করেছে। যারা বিরোধী রাজনীতির সাথে জড়িত তাদের বাড়ি বাড়ি তল্লাশি ও তাদের কর্মস্থলে নজরদারিও বাড়ানো হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে যাদের বিরুদ্ধে মামলা ও গ্রেফতারি পরোয়ানা আছে এবারের গ্রেফতার তালিকায় তারা শীর্ষে রয়েছেন।

সূত্রমতে, এই মূহুর্তে জোটের কোনো গ্রেফতার হলে সহসা মুক্তি পাওয়ার কেনো সম্ভাবনা নেই। তাই জোটের সিনিয়র পর্যায়ের অনেক নেতাকর্মী গ্রেফতার এড়াতে এলাকা ছেড়েছেন।

২০ দলীয় জোটের কয়েকজন নেতার সাথে আলাপকালে তারা জানিয়েছেন, আগামী ৫ জানুয়ারি সরকার ক্ষমতার ৪ বছর মেয়াদপূর্ণ করবে। চার বছর পূর্তিকে কেন্দ্র করে বিরোধী জোটভূক্ত দলগুলো যাতে শক্তিশালী কোনো কর্মসূচী বাস্তবায়ন করতে না পারে সে লক্ষে ডিসেম্বর পর্যন্ত গ্রেফতার অভিযান চালাতে পারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

জোট নেতাদের মতে, এ গ্রেফতার অভিযানের মধ্যদিয়ে ২০ দলীয় জোটের জেলা ও তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মাঝেও এক ধরণের আতঙ্ক তৈরী করা হবে। যাতে তারা ৫ জানুয়ারিকে ঘিরে কোনো পরিকল্পনায় জড়ো হতে না পারেন এবং বৃহত্তম কোন কর্মসূচীর দিকে পা বাড়ান।

সরকার হঠাৎ কেন জোটের নেতাকর্মীদের গ্রেফতার অভিযানে নামলেন এমন প্রশ্নের জবাবে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, এগুলো জোটের নেতা কর্মীদের মধ্যে ভয়ভীতি সৃষ্টির একটি প্রক্রিয়া।

তাছাড়া সরকার এখন চাচ্ছে জোটে বিভাজন তৈরী করতে। তিনি জানান, আমাদের নেতাকর্মীরা যাতে শক্তিশালী কোনো আন্দোলন সংগ্রাম গড়ে তুলতে না পারেন সে লক্ষেই জোটের নেতাকর্মীদেরকে ঢালাওভাবে গ্রেফতার করা হচ্ছে।

২০ দলীয় জোটের আরেক শরীক দল বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পাটির্র (ন্যাপ) চট্টগ্রাম মহানগর সভাপতি ওসমান গণি সিকদার জানান, আমরা যাতে সর্বদা গ্রেফতার আতঙ্কে থাকি এই জন্য জোটের নেতাকর্মীদেরকে আটকের মধ্যদিয়ে ভীতি ছড়ানো হচ্ছে।

লেবারপার্টির চট্টগ্রাম মহানগর সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান জানান, এটি সরকারের একটি গভীর ষড়যন্ত্র। নির্বাচনের আগে নেতাকর্মীদের মাঝে ভীতি ছড়ানোর জন্য সরকার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে দিয়ে গণগ্রেফতার চালাচ্ছে। তিনি আরও জানান, আগামী ৫ জানুয়ারি এ সরকারের ৪ বছর মেয়াদ পূর্ণ হবে। জোট যাতে চার বছর পূর্তির এই কোনো কর্মসূচী দিতে না পারে, সে লক্ষ সামনে রেখে এই গ্রেফতার অভিযান পরিচালনা করছে।

এরই মধ্যে চট্টগ্রাম থেকে বিএনপি ও জামায়াতে বেশকিছু নেতাকর্মীকে আটক করা হয়েছে। গত মঙ্গলবার চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব এলাকা থেকে আটক করা হয় লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরানসহ জোটের দশ নেতাকর্মীকে। জোটের নেতাদের মতে, আমাদের রাজনৈতিক মনোবল ভেঙ্গে দেয়ার জন্য সরকার এই গ্রেফতার অভিযান পরিচালনা করছে।

জানা গেছে, নির্বাচন পর্যন্ত সরকার দেশে কোনও অস্থিরতা চায় না। তাই অস্থিরতা তৈরির যেকোনও চেষ্টা অঙ্কুরেই নির্মূল করতে সম্ভাব্য সবকিছুই করবে সরকার। সে ক্ষেত্রে আগের মতোই জিরো টলারেন্স দেখানো হবে। ক্ষমতাসীন দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিএনপির আন্দোলন দুইভাবে মোকাবিলা করা হবে রাজনৈতিকভাবে মোকাবেলা করবে আওয়ামী লীগ, প্রশাসনিকভাবে মোকাবেলা করবে সরকার।

অন্যদিকে সরকারের গ্রেফতারের বিষয়টি আঁচ করতে পেরে এরই মধ্যে ২০ দলীয় জোটের শরিক দলগুলোকে জরুরি নির্দেশনা দিয়েছে বিএনপি। ‘রাজনৈতিক টানাপড়েন, দেশের চলমান পরিস্থিতি ও সরকার ফের জোট ভাঙার তৎপরতা শুরু করেছে’ এমন তথ্যের ভিত্তিতে আরও বেশি সতর্ক থাকতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে জোটনেত্রী খালেদা জিয়ার পক্ষ থেকে। বিএনপির দলীয় সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে। দলটির উচ্চ পর্যায় থেকে বলা হয়েছে, প্রকাশ্যে কোনও সভা বা সেমিনারে বেফাঁস মন্তব্য থেকে বিরত থাকতেও বিএনপি ও জোট নেতাদের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

তবে বিরোধী জোটের নেতাকর্মীদের গ্রেফতারের বিষয়টি অস্বীকার করে চট্টগ্রাম মেট্টোপলিটন পুলিশের(সিএমপি) অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম ও অপারেশন) ছালেহ মুহাম্মদ তানভীর বলেন, বিষয়টি সঠিক নয়। বিরোধী জোটের নেতা কর্মীদের গ্রেফতারের কোনো তালিকার বিষয়ে কিছুই জানেন না বলে তিনি জানান।