চট্টগ্রাম, , শুক্রবার, ১৬ নভেম্বর ২০১৮

অন্তর্দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়ছে রোহিঙ্গারা!

প্রকাশ: ২০১৭-১০-১২ ১৭:৪৩:২৫ || আপডেট: ২০১৭-১০-১২ ১৭:৪৩:২৫

রোহিঙ্গা শিবির গুলোতে একে অপরের সঙ্গে দ্বন্ধে জড়িয়ে পড়েছে

আমান উল্লাহ আমান
টেকনাফ (কক্সবাজার) প্রতিনিধি

দিন দিন আত্মঘাতি হয়ে উঠছে রোহিঙ্গারা। বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে বসবাসরত রোহিঙ্গা শিবির গুলোতে একে অপরের সঙ্গে দ্বন্ধে জড়িয়ে পড়েছে। বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের অশ্লিল বাক্যে আশপাশের পরিবেশ নোংরা হয়ে উঠছে। এ অবস্থায় অনিরাপদ বসতি হয়ে উঠেছে শিশুদের জন্য। তাছাড়া যে কোন মুহুর্তে হানাহানি ও মারামারিতে লিপ্ত হয়ে বড় ধরনের সংঘর্ষের আশংকা রয়েছে। বুধবার সরেজমিন শিবিরগুলো ঘুরে দেখা গেছে এসব চিত্র।

গত ২৮ সেপ্টেম্বর রাখাইনের মংডুর সিকদারপাড়া গ্রামের ইয়াছমিন (২০) নাফ নদ পেরিয়ে শাহপরীরদ্বীপ হয়ে এদেশে পালিয়ে এসে আশ্রয় নেয় জাদীমুরা গ্রামে। তার সাথে রয়েছে দেড় বছরের এক কন্যা সন্তান ও পিতৃ মাতৃহীন এতিম ছেলে মোঃ রফিক (৯)। সকাল ১১ টার দিকে মোঃ রফিক পাশ্ববর্তী স্থানে অন্যান্য সাথীদের সাথে খেলা করছিল। খেলা নিয়ে তর্ক বিতর্কের এক পর্যায়ে হাতাহাতি ও মারামারিতে লিপ্ত হয়ে পড়ে। এতে মোঃ রফিকের নাকে মুখে আঘাত করে মারাত্মকভাবে রক্তাক্ত জখম করে। শুধু তাই নই, বিষয়টি দুই পরিবারের বড়দের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। তাদের কথা বার্তায় অশ্লিল বাক্যে আশপাশের পরিবেশ নোংরা হয়ে উঠে। শুধু এই পরিবার নই। এমন কয়েকটি রোহিঙ্গা পরিবার দেখা গেছে নিজেদের মধ্যে ঝগড়া করতে। বেশীর ভাগ ঝগড়া ত্রান ভাগাভাগিতে অমিলের কারণে হয়ে উঠছে। হোয়াইক্যংয়ের রইক্ষ্যং ক্যাম্পে বসবাসরত হাইচ্ছুরাতার মোঃ হোসেন জানান, কয়েকজন মৌলভী শিশুদের জন্য ৩০ পিস রুটি ধরিয়ে দেন তার হাতে। তিনি সঠিক ভাবে বসতির আশপাশের শিশুদের বন্টন করছেন। এসময় খবর পেয়ে তার বসতি থেকে কিছু দুরের কয়েকজন মহিলা শিশুদের নিয়ে ঘিরে ধরে তাকে। কিন্তু চাহিদার চেয়ে অপ্রতুল হওয়ায় অনেক শিশুকে রুটি দিতে পারেনি। এনিয়ে মহিলারা তর্কবিতর্কে জড়িয়ে পড়ে তার সাথে। একপর্যায়ে তা মারামারিতে লিপ্ত হয়ে পড়ে। শুধু তাই নই। রোহিঙ্গারা স্থানীয়দেরও আঘাত করতে ভাবছেনা। ইতিমধ্যে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে শিরোনাম হয়ে আসছে খবরগুলো। এ অবস্থায় এখন থেকে সরকারিভাবে এসব ঘটনা থামাতে উদ্যোগ গ্রহন ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা না হলে যে কোন সময় বড় ধরনের বিপর্যয়ের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে শিবিরগুলোতে।

উল্লেখ্য, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে নিপীড়নের শিকার হয়ে গত ২৫ আগস্ট থেকে বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর প্রায় ৫ লক্ষাধিক মানুষ। যা নজিরবিহীন। ক্রমাগত বাংলাদেশের সীমান্ত এলাকার পাহাড় ও জঙ্গল দখল করে বিস্তৃত হচ্ছে রোহিঙ্গা বসতি। প্রতিদিন শরণার্থী শিবিরে আগমন ঘটছে নতুন নতুন মুখের। বিপন্ন রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর মানুষদের জন্য হাত পা ছড়িয়ে বেঁচে থাকার মতো অপ্রতুল স্থান আর জীবনের মৌলিক প্রয়োজন মেটাতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে মানবিক সহায়তা দানকারী দেশী ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর।