চট্টগ্রাম, , বুধবার, ১৪ নভেম্বর ২০১৮

অব্যবস্থাপনার কারনে অস্থিত্ব হারাচ্ছে ঐতিহ্যবাহী কালুরঘাট-নৌঘাট

প্রকাশ: ২০১৭-১০-১০ ২২:৪০:৩০ || আপডেট: ২০১৭-১০-১১ ১৫:২৭:২৫

কাজ না থাকায় মানবেতর দিন কাটাচ্ছে কয়েক’শ মাঝি মাল্লা

সাঈফী আনোয়ারুল আজিম

এক দিকে অব্যবস্থাপনা অন্যদিকে প্রবল বর্ষন অনবরত বৃষ্টি ও জ্বলোচ্ছাসের কারণে জৌলুস হারাচ্ছে ঐতিহ্যবাহী কালুরঘাট-নৌকাঘাট। শুধু তাই নয় পাশাপাশি নৌকাঘাটের টোল ও মাশুল আদায়ের ডাককারীগণ প্রতিনিয়ত বিপুল অর্থ ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। নানামুখী সমস্যায় ব্যবসা বাণিজ্যে স্থবিরতার পাশাপাশি অতি সঙ্কটে দিন যাপন করছে এখানকার কয়েকশ মাঝিমাল্লারাও।

জানাগেছে বাংলাদেশ রেলওয়ের মালিকানাধীন এ নৌঘাটটি মূলত কর্ণফুলী নদীর কালুরঘাটস্থ পশ্চিম পাড়ে অবস্থিত হলেও এ ঘাট ব্যবহার হয় পাশ্ববর্তী ৩ উপজেলা বোয়ালখালী, রাউজান, রাঙ্গুনিয়ার মানুষগুলোর, এছাড়া রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি, বান্দরবনসহ ৩ পার্বত্য জেলার কাঁচামালের পাশাপাশি বিভিন্ন মালামাল ও লোডিং আনলোডিং করার ক্ষেত্রে এ ঘাটের ব্যবসায়িক পরিচিতি অনেক। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বিশেষ করে আঁড়তদারেরা কলারছড়া, লাউ, মিষ্টিকুমড়া, আম, জাম, কাঁঠাল, আনারস, লিচুসহ প্রভৃতি ফলমূল এনে চট্টগ্রাম নগরীর বিভিন্ন এলাকার পাইকারী ও খুচরা বাজারে তা বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করত। এ সময় স্থানীয় মাঝিমাল্লা ও শ্রমিকদের কদরও ছিল বেশ,

কিন্তু চলতি বৎসরে বর্ষা মৌসুম শুরুর অনেক আগে থেকেই প্রবল বর্ষণ ও প্রাকৃতিক দূর্যোগের কারণে ভারী বৃষ্টিপাত দফায় দফায় জোয়ারের পানি বৃদ্ধি ও রেকর্ড পরিমান জ্বলোচ্ছাসের কারণে ঘাট ব্যবহারের অনুপযোগী হওয়ায় ঐতিহ্য হারিয়েছে কালুরঘাট-নৌকাঘাট। স্থানীয় হোসেন মাঝির কাছে এ ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি জানান ঘাটে প্রায় প্রতিদিন জোয়ারের পানি ও সাম্প্রতিককালের জ্বলোচ্ছাসের কারণে পুরোনো নতুন সব ব্যবসায়ীরা এখন বিকল্প পথে ব্যবসা চালাচ্ছেন। ফলে মাঝিমাল্লাদের অনেকেই এখন বেকার দিন যাপন করছেন। স্থানীয় এলাকার প্রায় সব দোকানে বেচাকেনাও তেমন আগের মত নেই, অনেকেই ব্যবসা গুটিয়ে দিয়েছেন।

এলাকাটি সরেজমিনে পরিদর্শনের সময় চান্দগাঁও থানাধীন মধ্যম মোহরা নিবাসী আব্দুল করিম জানান, এক সময়কার ব্যস্ত এলাকাটি ক্রমে এখন জনশূন্যে পরিণত হয়েছে। তার মতে ১৯৯০ সালের প্রথম দিকে পাশ্ববর্তী ৩ উপজেলার ৬ ইউনিয়ন যথাক্রমে রাঙ্গুনিয়া বেতাগী ইউনিয়নের খেলারঘাট, রাউজানের লাম্বুরহাট, পাঁচখাইন, বাঘোয়ান, কোয়েপাড়া, বোয়ালখালীর খরণদ্বীপ, খেরানীবাজার, ভান্ডালজুরি, চরণদ্বীপের মসজিদঘাট, ফকিরাখালী, নোয়ারাস্তা, কধুরখীলের চৌধুরীহাট, জামতল ও গুইলদাখালী এলাকার প্রায় লক্ষাধিক মানুষ ইঞ্জিন চালিত নৌকায় চড়ে কালুরঘাট হয়ে শহরে যাতায়াত করত। তখন এটি ভ্রমণ পিপাসু মানুষের আনন্দের খোরাকও ছিল বটে। এতে একদিকে যেমন ভ্রমণে আনন্দ উপভোগ করার ব্যপার ছিল অন্যদিকে নিরাপদ ও সহজ বহন হওয়ায় আকর্ষণ ছিল খুব বেশি। কিন্তু আধুনিক যাতাকালে অনাদর অবহেলায় পিষ্ট হচ্ছে ঐতিহ্যবাহী কালুরঘাটের মত অনেক জনপ্রিয় এলাকা।

এদিকে নৌকাঘাট এলাকার স্থানীয় লোকজন জানিয়েছেন, নদীতে চলাচলকারী ইঞ্জিন চালিত নৌকা আগের চেয়ে অনেকাংশে কমে যাওয়ায় পূর্বের সে জৌলুস হারিয়ে গেছে। তিনি আরো বলেন, মাঝিদের অনেকেই মালামাল বহন করে সংসার চালালেও এখন ঘাটে কেউ মালামাল নিয়ে আসে না। কর্মহীন অনেক মাঝি ও দিনমজুর এখন মানবেতর দিন যাপনের পাশাপাশি পেশা বদলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।