চট্টগ্রাম, , বুধবার, ১৪ নভেম্বর ২০১৮

শাহজাহান-সামশু’র বিরোধ মেটাতে গিয়েই আটক কেন্দ্রীয় নেতারা!

প্রকাশ: ২০১৭-১০-১০ ১৫:২৬:২৭ || আপডেট: ২০১৭-১০-১০ ১৬:৩১:৪৩

চট্টগ্রামের জামায়াত নেতা শাহজাহান চৌধুরী ও সামশুল ইসলামের মধ্যকার বিরোধ মেটাতে গিয়েই গ্রেফতার হলেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় ৯ নেতা।

জেলার সাতকানিয়া আসনের এমপি নির্বাচন নিয়ে সৃষ্ট বিরোধই তাদেরকে গ্রেফতারের নিয়ামক হিসেবে কাজ করে। তবে যাদের নিয়ে বিরোধ চট্টগ্রাম জামায়াতের সেই দুই নেতাই রক্ষা পেলেন গ্রেফতার থেকে। তারা বৈঠকস্থলে পৌঁছুতে দেরি করার কারণে গ্রেফতার এড়াতে সক্ষম হন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে জামায়াতের একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্র এসব তথ্য নিশ্চিত করেছে।

সূত্র জানায়, শীর্ষ নেতাদের একসঙ্গে আটকের পেছনে সরকারের অন্য কোনও উদ্দেশ্য থাকলেও এই পরিকল্পনা সফল হয়েছে ভিন্ন কারণে। তাদের গ্রেফতারের আগে থেকে তৎপর ছিল গোয়েন্দা সংস্থাগুলো।

সোমবার রাতে ঢাকার উত্তরার একটি বাসায় আগামী নির্বাচনে চট্টগ্রামের সাতকানিয়া থেকে দলীয় মনোনয়ন কে পাবেন, এ নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা ছিল। পূর্বনির্ধারিত সময় অনুযায়ী কেন্দ্রীয় নেতারা ওই বাসায় একত্রিত হলেও বেঁচে গেছেন দুই নেতা। যাদের কেন্দ্র করে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল।

সংশ্লিষ্ট সূত্র আরও জানায়, সাতকানিয়া আসন থেকে এর আগে এমপি হয়েছেন শাহজাহান চৌধুরী ও নায়েবে আমির আ ন ম শামসুল ইসলাম। কিন্তু আগামী নির্বাচনে কে প্রার্থী হবেন, এ নিয়ে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা ও মহানগর নেতাদের মধ্যে মতবিরোধ ছিল। তবে এলাকায় সামশুল ইসলামের চেয়ে শাহজাহান চৌধুরীর জনপ্রিয়তা অনেকাংশে বেশি বলে মনে করছে দলটি।

এই মতবিরোধ মেঠাতেই দলের আমির মকবুল আহমাদ ও সেক্রেটারি জেনারেল শফিকুর রহমান ও মিয়া গোলাম পরওয়ার চট্টগ্রামের শীর্ষ নেতাদের ডেকেছিলেন। এই ডাকে সাড়া দিয়ে চট্টগ্রামের তিন নেতা বৈঠকস্থলে পৌঁছুলেও শাহজাহান চৌধুরী ও শামসুল ইসলাম দেরি করে ফেলেন। এরই মধ্যে গোয়েন্দারা তাদের অবস্থান চিহ্নিত করেন।

সরকারের প্রভাবশালী দু’টি গোয়েন্দা সংস্থার নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, বিগত এক মাসের বেশি সময় ধরেই জামায়াত নেতাদের গ্রেফতারে তৎপরতা শুরু হয়। কিন্তু একসঙ্গে এতজন কেন্দ্রীয় নেতাকে পেয়ে যাবেন, এটি তারাও ভাবেননি।

গোয়েন্দা সূত্রটি জানায়, চট্টগ্রাম থেকেই গোয়েন্দা সূত্র জানায়, শহরের গুরুত্বপূর্ণ নেতারা দ্বন্দ্ব মেটাতে ঢাকায় আসছেন। এরই মধ্যে তাদের আটক করার সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করে সংস্থাগুলো। জামায়াতের শীর্ষ নেতাদের আটকে সরকারের তিনটি গোয়েন্দা সংস্থা একযোগে কাজ করে।

সূত্রগুলো জানায়, আটককৃতদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধেই বিভিন্ন সময় দায়ের করা মামলা রয়েছে। খুব দ্রুতই তাদের সেসব মামলায় গ্রেফতার দেখানো হবে। এরই মধ্যে আমির মকবুল আহমাদের বিরুদ্ধে একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধে নতুন করেও মামলা হতে পারে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার প্রতিনিধিরা ইতোমধ্যে তার জেলা ফেনীতে গিয়েছেন দুই দফা।

আটকের বিষয়ে সোমবার রাতে তাৎক্ষণিক বিবৃতিতে দলের সিনিয়র নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান অভিযোগ করে গণমাধ্যমকে বলেন, ‘সন্ধ্যায় দলের আমিরের নেতৃত্বে ঘরোয়া বৈঠকের সময় পুলিশ অন্যায়ভাবে দলের আমিরসহ কেন্দ্রীয় নেতাদের আটক করে।’ তবে এ বিষয়ে দায়িত্বশীল কোনও নেতাই নাম প্রকাশে রাজি হননি।

সুত্র: ব্রেকিংনিউজ