চট্টগ্রাম, , মঙ্গলবার, ২০ নভেম্বর ২০১৮

আর্জেন্টিনার বাঁচামরার লড়াই ৯ হাজার ফুট উপরে

প্রকাশ: ২০১৭-১০-১০ ১১:২০:৩২ || আপডেট: ২০১৭-১০-১০ ১১:২১:০২

আর্জেন্টিনাকে ছাড়া বিশ্বকাপ, ভাবতেই কষ্ট লাগে। ব্রাজিল, জার্মানি, স্পেন যেখানে বিশ্বকাপ নিশ্চিত করছে সেখানে আর্জেন্টিনা নেই ভাবাই যায় না। আগামী রাশিয়া বিশ্বকাপে খেলা এখনও অনিশ্চিয়তার মধ্যে রয়ে গেছে মেসিদের। আর তাইতো নিজেদের বাঁচামরার লড়াইয়ে বুধবার (১১ অক্টোবর) ভোরে মাঠে নামছে সাম্পাওলির শিষ্যরা।

আন্দিজ পর্বতমালার ওপরে শেষ ভাগ্য পরীক্ষা দিতে ইতোমধ্যেই পৌঁছে গেছেন লিওনেল মেসি অ্যান্ড কোং। জীবনে এর চেয়ে আর কঠিন কোনো পরীক্ষায় পাঁচবারের বিশ্বসেরা ফুটবলার লিওনেল মেসি পড়েছেন কি না সন্দেহ। একটি বিশ্বকাপের ফাইনাল কিংবা দুটি কোপা আমেরিকার ফাইনালও হয়তো এর চেয়ে সহজ ছিল মেসির কাছে। বিশ্বকাপ বাছাই পর্বের এই ম্যাচ যতটা না কঠিন।

রাশিয়া বিশ্বকাপ যদি মেসিকে ছাড়াই মাঠে গড়ায়, তাহলে অর্ধেক আকর্ষণই কমে যাবে। কিন্তু সেই বাস্তবতার দিকেই এগিয়ে চলেছে আগামী বিশ্বকাপের ভাগ্য। আর মাত্র একটি ম্যাচ। এই ম্যাচের পরই সব নির্ধারণ হয়ে যাবে। মেসির দেশ বিশ্বকাপে খেলতে পারবে কি পারবে না।

মেসিদের শেষভাগ্য এখন পুরোপুরি ইকুয়েডর আর কিছু ইকুয়েশনের ওপর নির্ভর করছে। শেষ ম্যাচে ইকুয়েডরকে তো হারাতেই হবে। সঙ্গে উরুগুয়ে, চিলি, কলম্বিয়া এবং পেরুর ম্যাচগুলোর দিকেও তাকিয়ে থাকতে হবে মেসিদের। তবে, এটা ঠিক, জিতলেই অন্য ইকুয়েশনের হয়তো খুব বেশি প্রয়োজন হবে না। সেরা চারের মধ্যে থেকেই বিশ্বকাপ খেলা নিশ্চিত করতে পারবে আর্জেন্টিনা।

ইকুয়েডরের রাজধানী কুইটোতে গিয়ে খেলতে হবে লিওনেল মেসিদের। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে যে শহরটির উচ্চতা ৯ হাজার ৩৫০ ফুট। তবে এস্টাডিও অলিম্পিকো আতাহুয়ালপা স্টেডিয়ামটির উচ্চতা প্রায় দেড়শ ফুট কম। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৯ হাজার ১২৭ ফুট ওপরে। এত উচ্চতায়, যেখানে কিছুক্ষণ দৌড়ানোর পরই দম বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হবে, সেখানে কিভাবে মেসিরা ইকুয়েডরকে হারাবে, সেটাই এখন সবচেয়ে চিন্তার বিষয়।

অতীত ইতিহাস খুব বেশি শঙ্কা জোগাচ্ছে মেসিদের মনে। কারণ, ১৯৬০ সালের পর ইকুয়েডরের মাটিতে একটি মাত্র ম্যাচ জিততে পেরেছিল আর্জেন্টিনা। ২০০১ সালে বিশ্বকাপ বাছাই পর্বের ম্যাচে ২-০ গোলে ইকুয়েডরকে হারিয়েছিল আর্জেন্টিনা। এরপর আরও চারবার ইকুয়েডরের মাটিতে খেলতে গিয়ে আর্জেন্টিনা হেরেছে দু’বার, ড্র করেছে দু’বার।

যেকোনো হিসেবেই একুয়েডরের মাঠে আর্জেন্টিনার সামনে জয়ের বিকল্প নেই। সাম্পাওলির অবশ্য আত্মবিশ্বাসে কোনো কমতি নেই।