চট্টগ্রাম, , বুধবার, ২১ নভেম্বর ২০১৮

৮ লাখ রোহিঙ্গাকে খাওয়ানো হবে কলেরা টিকা

প্রকাশ: ২০১৭-১০-০৬ ২৩:৪৪:৪৪ || আপডেট: ২০১৭-১০-০৭ ০৯:৪৪:২৯

স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে উখিয়া-টেকনাফের বাসিন্দারা

ইমাম খাইর
কক্সবাজার ব্যুরো

মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনীর নিপীড়নের মুখে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা ৮ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীকে কলেরা রোগের টিকা খাওয়ানো হবে। কক্সবাজারের টেকনাফ ও উখিয়ার ১ বছর থেকে সব বয়সী রোহিঙ্গা কলেরা টিকা পাবে। ১০/১২ অক্টোবর থেকে এ কার্যক্রম শুরু হচ্ছে। নতুনদের সাথে পুরনো রোহিঙ্গারাও পাবে এ টিকা।

প্রাথমিকভাবে উখিয়া-টেকনাফের ৪ লাখ পরবর্তীতে আরো ৪ লাখ রোহিঙ্গা নারী পুরুষ এ কর্মসুচির আওতায় আসবে। পাশাপাশি স্বাস্থ্য ঝুঁকিমুক্ত রাখতে উখিয়া-টেকনাফের ৪ লাখ বাংলাদেশীকে কলেরা রোগের টিকা খাওয়ানো হবে জানিয়েছেন কক্সবাজারের সিভিল সার্জন ডাঃ মোঃ আব্দুস সালাম।

তিনি বলেন, মিয়ানমার থেকে আসা রোহিঙ্গাদের মধ্যে কলেরা রোগের আশংকা রয়েছে। আগামী ১০ অথবা ১২ অক্টোবর থেকে প্রাথমিকভাবে ৪ লাখ রোহিঙ্গাকে টিকা খাওয়ানো হবে। পর্যায়ক্রমে আরো ৪ লাখ রোহিঙ্গা এ টিকার আওতায় আসবে। এছাড়া উখিয়া-টেকনাফকে স্বাস্থ্য ঝুঁকিমুক্ত রাখতে ৪ লাখ বাংলাদেশীকেও কলেরা টিকা খাওয়ানো হবে বলে জানান সিভিল সার্জন।

জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, রোহিঙ্গা ক্যাম্পকেন্দ্রিক সরকারী ২০টি এবং বেসরকারী ২৫টি মেডিকেল ক্যাম্প কাজ করছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও মোবাইল টীমসহ সরকারীভাবে ৪০ জন ডাক্তার রোহিঙ্গাদের চিকিৎসাসেবা দিচ্ছে। গত ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৬৪ হাজার ৩১৭ রোহিঙ্গা নারী-পুরুষ চিকিৎসা পেয়েছে।

এদিকে শিশুদের মাঝে নানা মাঝে সংক্রামক রোগ সৃষ্টি হতে পারে এমন আশংকায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পে টিকাদান কর্মসূচি শুরু করেছে স্বাস্থ্য বিভাগ। গত ১৬ সেপ্টেম্বর হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচি উদ্বোধন করা হয়।

জেলা স্থাস্থ্য বিভাগের কনট্রোল রুম থেকে জানা গেছে, ছয় মাস থেকে ১৫ বছরের মধ্যে সকল শিশুকে রুবেলা (হাম) টিকা, পাঁচ বছরের কম বয়সীদের রুবেলার পাশাপাশি পোলিওর টিকাও প্রদান করা হচ্ছে। এ পর্যন্ত প্রায় ৮০ হাজার রোহিঙ্গা শিশুকে সংক্রামক প্রতিরোধক টিকা দেয়া হয়েছে। উখিয়া ও টেকনাফের নিবন্ধিত-অনিবন্ধিত রোহিঙ্গাদের এ টিকা দেয়া হয়। এছাড়া ছয় মাস থেকে পাঁচ বছরের সকল শিশুকে ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানো হচ্ছে।

পরিবার পরিকল্পনা সেবা প্রদানের জন্য পৃথক ৪১টি মেডিকেল টিম কাজ করছে। যারা ৮/১০ প্রকার ওষুধ এবং কনডম, খাবার বড়ি, তিন মাস মেয়াদী ইনজেকশন বিতরণ করছে। এছাড়াও পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধিতি সম্পর্কে তাদের কাউন্সিলিং করতে ৮৬ জন স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ করা হয়েছে। প্রশিক্ষিত নার্স, মিডওয়াইফদের হাতে ১৭৩টি নরমাল ডেলিভেরির মাধ্যমে রোহিঙ্গা শিশু জন্ম নিয়েছে। রোহিঙ্গা শরণার্থীদের মধ্যে ১৬ থেকে ১৮ হাজার গর্ভবতী নারী রয়েছে।

সিভিল সার্জন কার্যালয়ের মেডিকেল অফিসার ডা. রঞ্জন বড়ুয়া রাজন বলেন, রোহিঙ্গাদের সাথে আসা শিশুদের হয় টিকা দেওয়া হয়নি অথবা যারা টিকা নিয়েছে তাদেরও সঠিকভাবে দেওয়া হচ্ছে। বেশিরভাগ শিশুরই এই অবস্থা। এদের মধ্যে রুবেলায় আক্রান্ত চারটি শিশুকে চিহ্নিত করা হয়েছে।

জাতিসংঘের শিশু বিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফের তথ্য বলছে, গত ২৫ আগস্টের পর পালিয়ে আসা প্রায় ৫ লাখ উদ্বাস্তুর মধ্যে অর্ধেকেরই বেশি শিশু। খাদ্য, আশ্রয়, বিশুদ্ধ পানি ও স্যানিটেশনের মত প্রয়োজনীয় সুবিধাগুলো থেকে এরা বঞ্চিত। রাখাইনে নিজ এলাকায় ভীতিকর অভিজ্ঞতার নিয়ে আসা এই শিশুদের অনেকেই দিনের পর দিন দুর্গম পথে হেঁটে দুর্বল হয়ে পড়েছে। অনেক শিশু পুষ্টিহীনতার শিকার।

ডায়রিয়া, সর্দি-জ্বর ও চর্মরোগের সমস্যা নিয়ে প্রচুর রোহিঙ্গা হাসপাতালে যাচ্ছে। রোগীদের মধ্যে বড় একটি অংশ শিশু বয়সী। টেকনাফ ও উখিয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্প এলাকায় স্বাস্থ্য সেবা সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন রোহিঙ্গা রোগীর সংখ্যা ক্রমাগত বেড়েই চলেছে।

জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা ও দেশি-বিদেশি এনজিওর সহায়তায় সরকারি হাসপাতালের ডাক্তার ও নার্সরা এই সেবা দিচ্ছেন। পুরো কার্যক্রমের তত্ত্বাবধান করছেন কক্সবাজারের সিভিল সার্জন।