চট্টগ্রাম, , বুধবার, ১২ ডিসেম্বর ২০১৮

ফটিকছড়িতে ভন্ড ফকিরের কান্ড, দশ বছর ধরে কবরবাস !

প্রকাশ: ২০১৭-১০-০৬ ০৯:২২:৩৬ || আপডেট: ২০১৭-১০-০৬ ২২:৪৫:০৬

মীর মাহফুজ আনাম
সিটিজি টাইমস প্রতিবেদক

নির্জণ পুকুরপাড়ে একটি পাকা কবর। ভেতরে রয়েছে কাথা বালিশ। বৃষ্টি বাদলা থেকে রক্ষা পেতে উপরে টিনের ছাউনি দেওয়া হয়েছে। কবরের সামনের অংশে আরবিতে বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম লেখার পর বাংলা অক্ষরে লিখলেন রমজান অা: জিহাদী হক ভান্ডারী।

এ দৃশ্য ফটিকছড়ি উপজেলার লেলাং ইউনিয়নের দমদমা গ্রামের অালী অংশের বাড়িতে। মাইজভান্ডার পাঠানপাড়া হতে বাবুনগর বোর্ডস্কুল হয়ে নাজিরহাট যাত্রা পথে যে কারো চোখে পড়বে এ কবর। সম্প্রতি সরেজমিনে সেখানে গেলে দেখা হয় রমজান অালীর সাথে। প্রায় সত্তরের কাছাকাছি বয়স্ক লোকটির পাকা দালান থাকলেও তিনি নিজ ঘর থেকে তিনশ ফুট দূরে পুকুর পাড়ে তৈরী করেন এ কবর। এখানেই তিনি রাত দিন ঘুমান। ঘর থেকে খাবারও নিয়ে আসেন এখানে। তবে, প্রাকৃতিক দুর্যোগে বাধ্য হয়ে ঘরে চলে যান।


তার দু’ স্ত্রী ৬ সন্তান রয়েছে। তার ছেলেরা প্রবাসে বেশ ভালো অবস্থানেও রয়েছেন বলে স্থানীয়রা জানালেন।

জানা যায়, বিগত দশ বছর পূর্ব থেকে এ কবরে বসবাস করে আসছেন রমজান অালী। তিনি নিজ হাতেই এ কবর তৈরী করেন।

নিজ পাকা ঘর রেখে এখানে কেন বসবাস এমন প্রশ্নে রমজান অালী বলেন, ‘ আমাকেতো মরতে হবে, মারা যাওয়ার পরতো এখানেই থাকতে হবে, তাই আগে থেকে প্রস্তুতি নিচ্ছি। মৃত্যুর পর আমাকে এ কবরে দাফন করা হবে। ‘

এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে জানা যায়, তার এমন কান্ডে এলাকাবাসী ক্ষুব্ধ। বহুবার রাতের অন্ধকারে কবরটিকে ভেঙ্গে দেওয়া হয়। কিন্তু রমজান অালী পূনরায় তৈরী করে ফেলেন।

স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, রমজান অালী মূলত মাইজভান্ডারসহ বিভিন্ন মাজার ভক্ত। নিজেকে ফকিরও দাবী করেন। এমনকি কয়েকবার সেখানে ওরশেরও অায়োজন করেন। কিন্তু এলাকাবাসীর বাধায় তা এখন পালন করতে পারেন না। নিজেকে ফকির হিসেবে পরিচয় দিলেও ধর্ম কর্মের আশপাশে নেই বলেও এলাকার লোকজনের দাবী। এমনকি তিনি লোকজনদের নিয়মিত গালিগালাজও করেন। বছর দুয়েক আগে রমজানে মসজিদে ইতেকাফ নিলে মসজিদে বসে ভন্ডামী করলে মুসল্লীরা তাকে বের করে দেন।