চট্টগ্রাম, , মঙ্গলবার, ২০ নভেম্বর ২০১৮

বিশ্বকাপে খেলা হচ্ছে না আর্জেন্টিনার !

প্রকাশ: ২০১৭-১০-০৬ ০৯:১০:৩৭ || আপডেট: ২০১৭-১০-০৬ ১০:৩৪:১৯

জাতীয় সঙ্গীতের সময় গলা মেলানো; ম্যাচের শুরু থেকেই স্লোগান-গান, যথাসাধ্য চেষ্টা করেছে বোকা জুনিয়র্সের মাঠ লা বোমবোনেরার দর্শকরা। কিন্তু ফরোয়ার্ডদের ব্যর্থতায় শেষ পর্যন্ত হতাশ হয়েই বাড়ি ফিরতে হলো তাদের। পেরুর সঙ্গে ড্র করে রাশিয়া বিশ্বকাপে জায়গা করে নেওয়াটা দুরূহ হয়ে গেছে আর্জেন্টিনার জন্য।

বুয়েনস আইরেসে বাংলাদেশ সময় শুক্রবার ভোরে শুরু ম্যাচটি গোলশূন্য ড্র করে ১৯৭০ সালের পর আবার ফুটবল বিশ্বকাপ থেকে বাদ পড়ার শঙ্কায় থাকল আর্জেন্টিনা।

বিশ্বকাপের দক্ষিণ আমেরিকা অঞ্চলের বাছাইপর্বে ষষ্ঠ স্থানে আছে হোর্হে সাম্পাওলির দল। সেরা চার দল সরাসরি খেলবে আগামী বছরের বিশ্বকাপে। পঞ্চম দলটির সুযোগ পেতে হলে প্লে-অফ খেলে জিততে হবে ওশিয়ানিয়া অঞ্চলের চ্যাম্পিয়ন নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে। বিশ্বকাপে খেলাটা নিজেদের হাতে রাখতে শেষ ম্যাচে একুয়েডরের মাঠে প্রতিকূল পরিবেশে জিততেই হবে মেসিদের।

একাদশে পাওলো দিবালা ও মাওরো ইকার্দির বদলে লিওনেল মেসির সঙ্গে আক্রমণভাগে কোচ সাম্পাওলি রাখেন ইতালির দল আতালান্তার ফরোয়ার্ড আলেহান্দ্রো দারিও গোমেস ও স্থানীয় ক্লাব বোকা জুনিয়র্সের স্ট্রাইকার দারিও বেনেদেত্তোকে। শুরু থেকে বল নিয়ন্ত্রেণে রেখে আক্রমণ চালায় স্বাগতিকরা। ১৪তম মিনিটে কর্নার থেকে মেসির শট প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়ের গায়ে লেগে দিক পাল্টায়। ১০ মিনিট পর ডি-বক্সের প্রান্তে বল পেয়ে আনহেল দি মারিয়া নেন লক্ষ্যভ্রষ্ট শট।

বাঁ দিক থেকে ডি-বক্সে ঢোকা আলেহান্দ্রো দারিও গোমেসের কঠিন কোণ থেকে নেওয়া শট কর্নারের বিনিময়ে ফিরিয়ে ৩৩তম মিনিটে ম্যাচের প্রথম সেভ করেন পেরুর গোলরক্ষক পেদ্রো গালেসে।

এর পরপরই প্রথমার্ধের সবচেয়ে ভালো সুযোগটা পেয়েছিল পেরু। বাঁ দিক থেকে নিচু ক্রসে ছয়-গজী বক্স থেকে গোল করতে পারেনি ফারফান।

৩৮তম মিনিটে গোল করার আরেকটু কাছে গিয়েছিলেন মেসি। ডি-বক্সের বেশ বাইরে থেকে নেওয়া বার্সেলোনার ফরোয়ার্ডের শট একটুর জন্য পোস্টের বাইরে দিয়ে যায়।

বিরতির আগে মেসির নিখুঁত ক্রসে খুব কাছ থেকে হেড লক্ষ্যে রাখতে পারেনি বেনেদেত্তো।

প্রথমার্ধে অনুজ্জ্বল আনহেল দি মারিয়াকে বিরতির সময় বদলে ফেলেন সাম্পাওলি। জাতীয় দলের হয়ে প্রথম ম্যাচ খেলতে নামেন জেনিতের মিডফিল্ডার এমিলিয়ানো রিগোনি।

দ্বিতীয়ার্ধে দুর্দান্ত শুরু করে আর্জেন্টিনা। শুরুতেই মেসির বাড়ানো বলে বেনেদেত্তোর শট ঠেকান গোলরক্ষক। ফিরতি বলে মেসি গোল পেতেন যদি প্রতিপক্ষের এক খেলোয়াড়ের পাঁয়ের হালকা ছোঁয়া না লাগতো। খালি জালে না ঢুকে বল ফিরে পোস্টের গোড়ায় লেগে।

৫৭তম মিনিটে মেসির পাস থেকে গোমেসের শট দুর্দান্তভাবে ঠেকিয়ে পেরুর ত্রাতা গালেসে। চার মিনিটে মেসির পাস থেকে অনেকটা ফাঁকায় থাকা রিগোনি লক্ষ্যভ্রষ্ট শট নিয়ে সহজ একটি সুযোগ নষ্ট করেন।

৬৮তম মিনিটে মেসির দারুণ বাড়ানো বল থেকে বেনেদেত্তোর শট ঠেকান গালেসে। ম্যাচের শেষ দিকে বিপজ্জনক জায়গা থেকে মেসির ফ্রি-কিক বাধা পেলে শেষ ভালো সুযোগটাও নষ্ট হয় আর্জেন্টিনার।

সমর্থকদের জন্য আশার বিষয়, এখনও রাশিয়া বিশ্বকাপে জায়গা করে নেওয়াটা নিজেদের হাতে আছে আর্জেন্টিনার। কারণ শেষ রাউন্ডে আর্জেন্টিনার উপরে থাকা দুই দল পেরু ও কলম্বিয়া মুখোমুখি হবে। এই ম্যাচ ড্র হলে আর্জেন্টিনা নিজেদের ম্যাচে জিততে পারলে সরাসরিই পাবে রাশিয়ার টিকেট। আর এই ম্যাচে যে দল হারবে সেই দল থাকবে আর্জেন্টিনার নিচে। ফলে অন্য সব ম্যাচে যে ফলই হোক না কেন আর্জেন্টিনা জিততে পারলে অন্তত পঞ্চম স্থানে থেকে পাবে প্লে-অফ খেলার সুযোগ।

এক ম্যাচ বাকি থাকতে আর্জেন্টিনা আর পেরুর পয়েন্ট সমান ২৫। গোল ব্যবধানও সমান। তবে গোল করায় এগিয়ে থেকে পঞ্চম স্থানে আছে পেরু।

একই সঙ্গে হওয়া অন্য দুই ম্যাচের একটিতে একুয়েডরকে ২-১ গোলে হারানো চিলি ২৬ পয়েন্ট নিয়ে আছে তৃতীয় স্থানে। ২০ পয়েন্ট পাওয়া একুয়েডরের বিশ্বকাপ স্বপ্ন শেষ।

অন্য ম্যাচটিতে প্যারাগুয়ের কাছে ২-১ গোলে হেরে যাওয়া কলম্বিয়া সমান ২৬ পয়েন্ট ও সমান গোল পার্থক্য নিয়ে গোল করায় চিলির চেয়ে পিছিয়ে থেকে আছে চতুর্থ স্থানে। এই জয়ে ২৪ পয়েন্ট নিয়ে সপ্তম স্থানে থাকা প্যারাগুয়ের আশাও টিকে আছে।

দিনের প্রথম ম্যাচে নিজেদের মাঠে গোলরক্ষক কার্লোস লাম্পের নৈপুণ্যে ব্রাজিলকে গোলশূন্য ড্রয়ে রুখে দেয় বলিভিয়া।

বাছাইপর্ব পেরিয়ে সবার আগে বিশ্বকাপে ওঠা ব্রাজিলের পয়েন্ট ১৭ ম্যাচে ৩৮। ১৪ পয়েন্ট পাওয়া বলিভিয়ার বিশ্বকাপ স্বপ্ন অনেক আগেই ভেঙে গেছে।

পরের ম্যাচে ভেনেজুয়েলার সঙ্গে গোলশূন্য ড্র করা উরুগুয়ে ২৮ পয়েন্ট নিয়ে আছে দ্বিতীয় স্থানে। গোল পার্থক্যে বেশ এগিয়ে থাকায় দুই বারের চ্যাম্পিয়নদের সরাসরি বিশ্বকাপে জায়গা করে নেওয়াটা অনেকটাই নিশ্চিত। ৯ পয়েন্ট নিয়ে তলানিতে ভেনেজুয়েলা।