চট্টগ্রাম, , মঙ্গলবার, ২০ নভেম্বর ২০১৮

মিরসরাইয়ে খাবারের অভাবে পাহাড় ছেড়ে লোকালয়ে নেমে আসছে বন্য প্রাণী

প্রকাশ: ২০১৭-১০-০৫ ১১:৫৪:১৭ || আপডেট: ২০১৭-১০-০৫ ২৩:৫০:৫৩

এম মাঈন উদ্দিন
মিরসরাই (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি

খাবারের অভাবে একের পর এক প্রাণীরা ছুটে আসছে লোকালয়ে। তার মধ্যে কিছু প্রাণী বনে অবমুক্ত করা হলেও কিছু প্রাণী মানুষের হাতে মারা পড়ছে। প্রাণীদের থাকার জায়গায় মানুষের অবাধ বিচরনের কারণে এমনটা হচ্ছে বলে মনে করছেন অনেকে। চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ের পাহাড়ি বনাঞ্চলে তীব্র খাদ্যের সংকটে লোকালয়ে ধেয়ে আসছে বিভিন্ন প্রজাতীর বন্য প্রানী।

সাম্প্রতিক সময়ে অজগর, বানর, হরিন সহ বিভিন্ন প্রকার প্রাণীর লোকালয়ে ছুটে আসার প্রবণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। সামাজিক বনায়নের মাধ্যমে পশু পাখির আবাস্থল ধ্বংস, সংরক্ষিত বনাঞ্চল উজাড় সহ নানা কারনে খাদ্য সংকটে বন্যপ্রাণীদের এভাবে লোকালয়ে আসার প্রবণতা নিয়ে উদ্বিগ্ন পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা।

গত কয়েক মাসে, মিরসরাই পৌর এলাকায় কয়েকটি অজগরলোকালয়ে চলে এলে এলাকাবাসী বন বিভাগে খবর পাঠিয়ে ব পাহাড়ে নিয়ে এসব বণ্যপ্রাণী অবমুক্ত করে দেয়। এর পূর্বে বিভিন্ন প্রজাতির বানর, লক্ষিপেঁচা, কখনো হরিণ ও লোকালয়ে চলে আসার ঘটনা অহরহ। জনসচেতনতা বৃদ্ধি পাওয়ায় এখন আর আগের মতো তাদের মেরে ফেলা না হলে ও এসব বণ্যপ্রাণীর অভয়ারন্য রক্ষায় বনবিভাগের কার্যকর উদ্যোগ পরিলক্ষিত হচ্ছে না।

উপজেলার খৈয়াছরা ইউনিয়নের আমবাড়ীয়া গ্রামের নুরুল মোস্তফা জানায়,গ্রামের বালেক শাহ মসজিদ এলাকায় একটি বড় জাতের বয়স্ক বানর পাশ্ববর্তি ঘরের রান্না ঘরে প্রবেশ করে খাবার খাওয়ার সময় গ্রামের লোকজন বানরটিকে তাড়া করে পুকুরে ফেলে শেকল দিয়ে বাঁধে। এসময় স্থানীয় লোকজন বন বিভাগের কর্মকর্তাদের খবর দিলে তারা বনকর্মী মিজানুর রহমানকে পাঠিয়ে বানরটি উদ্ধার করে মিরসরাই পাহাড়ে অবমুক্ত করে।

মিরসরাই পৌরসভার মেয়র গিয়াস উদ্দিন বলেন,এক সময় এই মিরসরাইয়ের পাহাড়ে অনেক রকম ফলমূল থাকতো । এখন এসব প্রায় বিলুপ্ত তাই গহীন পাহাড়ে খাদ্য সংকটের কারণে বন্যপ্রাণীগুলো বাঁচার তাগিদে লোকালয়ে এসে খাবার খুঁজছে। নির্বিচারে বন উজাড়, পাহাড় কাটা, ফলের চাষ কমে যাওয়াসহ নানা কারণে এ অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে।

উন্নয়ন সংস্থা কোডেক ক্রেল প্রকল্পের সাইট অফিসার অসীম বড়ুয়া বলেন, পাহাড়ে নির্বিচারে উজাড় করার ফলে পশু পাকির তীব্র খাদ্য সংকট তৈরী হয়েছে। এই সংকট উত্তোরনে বন্য প্রানী অধ্যুষিত স্থান সমুহে বন নিধন বন্ধ করতে হবে।

বারৈয়াঢালা জাতীয় উদ্যান সহ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি সরওয়ার উদ্দিন বলেন, সামাজিক বনায়ন, নির্বিচারে বনের কাঠ উজাড় সহ বিভিন্ন কারনে বন্যপ্রানীদের আবাসস্থল নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এই সংকট থেকে উত্তোরনের জন্য ইতিমধ্যে একটি পরিকল্পনা প্রনয়ন করে মন্ত্রনালয়ে প্রেরন করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগের সহকারী বন সংরক্ষক আবু বক্কর জানান, বন বিভাগ থেকে ইতিমধ্যে বৃক্ষরোপন কর্মসূচী হাতে নেওয়া হয়েছে। বন্যপ্রানীর খাদ্য চাহিদা পুরনের লক্ষে বেশ কিছু পরিকল্পনাও হাতে নেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।