চট্টগ্রাম, , শনিবার, ১৭ নভেম্বর ২০১৮

শিবির ক্যাডার নাসিরের পাঁচ বছর কারাদণ্ড

প্রকাশ: ২০১৭-১০-০৪ ১৮:৩৭:৩৫ || আপডেট: ২০১৭-১০-০৫ ১১:৫৫:৫৪

পুলিশের ওপর হামলা ও গুলিবর্ষণের ঘটনায় দুই দশক আগের এক মামলায় ছাত্রশিবিরের ক্যাডার নাসির উদ্দিনের পাঁচ বছর তিন মাস কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত।

চট্টগ্রামের মহানগর হাকিম শফিউদ্দিন বুধবার এ রায় ঘোষণা করেন।

আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী সহকারী পিপি রায়হাদ চৌধুরী রনি বলেন, পুলিশের কাজে বাধাদান, হামলা ও গুলিবর্ষণের ঘটনায় তিনটি ধারায় আসামি নাসির উদ্দিনের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। এজন্য আদালত থেকে তিন ধারায় তার মোট পাঁচ বছর তিন মাস কারাদণ্ডের রায় এসেছে। এই সাজা একটির পর একটি কার্যকর হবে।

তিনি জানান, রায়ে দণ্ডবিধির ১৮৬ ধারায় তিন মাস কারাদণ্ড ও ৫০০ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ১৫ দিনের কারাভোগ দেওয়া হয়।

পাশাপাশি দণ্ডবিধির ৩৫৩ ধারায় তিন বছরের সাজা ও পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা। জরিমানার অর্থ অনাদায়ে আরও তিন মাসের কারাভোগ করতে হবে তাকে। এছাড়া ৩৩২ ধারায় অভিযোগ প্রমাণ হওয়ায় দুই বছরের সাজা ও পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা; অনাদায়ে আরও তিন মাসের কারাভোগের নির্দেশ দেওয়া হয়।

রায় ঘোষণার সময় শিবির নাসির হিসেবে পরিচিত এই আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়।

১৯৯৮ সালে সেসময়ের তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী ‘শিবির নাসিরকে’ গ্রেপ্তার করতে গেলে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় এ মামলাটি করা হয়েছিল। নাসিরের বিরুদ্ধে নগরী ও চট্টগ্রাম জেলার বিভিন্ন থানায় খুন, গুমসহ প্রায় ৩৬টি মামলা আছে। এরমধ্যে কয়েকটি মামলায় বিভিন্ন মেয়াদে তার সাজা হয়েছে।

মামলার নথি থেকে জানা যায়, ১৯৯৮ সালের ৬ এপ্রিল পুলিশ নাসিরকে গ্রেপ্তার করতে চট্টগ্রাম কলেজের শেরেবাংলা ছাত্রাবাস এলাকায় অভিযানে যায়। ছাত্রাবাসটির সামনে শিক্ষকদের আবাসনের পরিত্যক্ত ভবনের বাইরে থেকে তালা দেওয়া একটি কক্ষের ভেতর লুকিয়ে ছিল নাসির। এসময় পুলিশ দরজা ভেঙে ওই কক্ষে প্রবেশ করলে নাসির জানালা দিয়ে পালানোর চেষ্টা করে।

নগর গোয়েন্দা পুলিশের সেসময়ের সহকারী কমিশনার আতিকুর রহমান চৌধুরী ঝাপটে ধরে নাসিরকে আটক করেন।তখন পুলিশকে লক্ষ্য করে ছাত্রাবাস থেকে গুলিবর্ষণ করে ছাত্রশিবিরের সন্ত্রাসীরা। জবাবে পুলিশও পাল্টা গুলি ছোড়ে। এ ঘটনায় কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হয়।পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় নগরীর কোতোয়ালি থানায় নাসির, ইয়াকুব ও হুমায়ন নামে তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা করে পুলিশ। পরে নাজিরহাটে পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে ইয়াকুব ও হুমায়ন মারা যায়।

এ মামলায় ২০০১ সালের ১৭ নভেম্বর নাসিরের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগ গঠন করা হয়।মামলায় ছয় জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে গত ২৪ সেপ্টেম্বর রায় ঘোষণার দিন ধার্য করে আদালত।

নির্ধারিত দিনে কারাগার থেকে আদালতে আসতে অসম্মতি জানায় নাসির। তাই ওই দিন আর রায় ঘোষণা করা হয়নি।