চট্টগ্রাম, , বুধবার, ২১ নভেম্বর ২০১৮

ছুটিতে প্রধান বিচারপতি, কে আসছেন অস্থায়ী দায়িত্বে!

প্রকাশ: ২০১৭-১০-০২ ২২:৫৫:৫৩ || আপডেট: ২০১৭-১০-০২ ২২:৫৫:৫৩

এক মাসের ছুটিতে গেলেন প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা। সোমবার (০২ অক্টোবর) বিকেল ৩টার দিকে ছুটি সংক্রান্ত একটি চিঠি রাষ্ট্রপতি বরাবর পাঠান তিনি।

তাঁর এই ছুটিকালীন সময়ের জন্য সংবিধানের ৯৭ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি একজন ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি নিয়োগ দেবেন।

এ বিষয়ে আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক বলেছেন, ‘অসুস্থতার কারণে প্রধান বিচারপতি ছুটিতে গেছেন। প্রধান বিচারপতি নিজের ছুটি নিজেই মঞ্জুর করেন। যেহেতু আমাদেরকে ছুটি বিষয়ে তিনি একটি ইনটিমিশন দিয়েছেন, তাই ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি নিয়োগ করতে হবে। এখন সংবিধানের ৯৭ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি একজন অস্থায়ী প্রধান বিচারপতি নিয়োগ দেবেন।’

এ বিষয়ে রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল তার কার্যালয়ে সাংবাদিকদের বলেন, ‘প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা এক মাসের ছুটির কথা জানিয়ে রাষ্ট্রপতিকে জ্ঞাত করেছেন। ফলে আগামীকাল উনি আপিল বিভাগের বেঞ্চে বসবেন না। অন্য বিচারপতি যারা আছেন তারা বিচারকার্য পরিচালনা করবেন।’

দীর্ঘ অবকাশের পর আবার কেন এক মাসের ছুটির আবেদন করলেন- জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘উনি রাষ্ট্রপতির কাছে কি লিখেছেন সেটাতো আমি দেখিনি। তবে সাংবিধানিক পোস্টে যারা থাকেন তাদের বলার প্রয়োজন পড়ে না। তিনি ছুটিতে যাবেন এটা জ্ঞাত করানোই এক্ষেত্রে যথেষ্ট। যাতে সরকার পরবর্তী পদক্ষেপ নিতে পারেন।’

পরবর্তী পদক্ষেপ কি জানতে চাইলে অ্যাটর্নি জেনারেল আরও বলেন, ‘এখন কে প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব পালন করবেন- এ ব্যাপারে রাষ্ট্রপতি পদক্ষেপ নেবেন। এবং উনার (প্রধান বিচারপতি) এই ছুটিকালীন অবস্থাতে প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব কে পালন করবেন সে সম্পর্কে একটি গেজেট নোটিফিকেশন করা হবে।’

তিনি বলেন, ‘এটা সচারাচর দেখা যায় প্রধান বিচারপতির অবর্তমানে জ্যেষ্ঠ বিচারপতি যিনি থাকেন তিনিই এই দায়িত্ব পালন করে থাকেন।’

কোনও ধরনের চাপের মুখে প্রধান বিচারপতি এ ছুটির আবেদন করেছেন কি না জানতে চাইলে অ্যাটর্নি জেনারেল সাংবাদিকদের হালকা মেজাজে বলেন, ‘এটা সঠিক কথা না। যিনি সাংবিধানিক পদ হোল্ড করেন তিনি নিজেই সব সময় সরকারকে জ্ঞাত করেন।’

ষোড়শ সংশোধনীর রায়ের কারণে বা তার কোনও প্রভাব এই ছুটির নেপথ্যে আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ষোড়শ সংশোধনীর রায় তো তিনি একা দেননি। অন্যান্য বিচারপতিরাও ছিলেন। এমনকি এটা সর্বসম্মত রায়। সুতরাং এখানে রায়ের জন্য প্রধান বিচারপতিকে একা দায়ী করা হবে কেন। এটা ঠিক কথা না।’

প্রধান বিচারপতির হঠাৎ এই ছুটিতে বিচার বিভাগে কোনও শূন্যতা সৃষ্টি হবে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ‘একদমই না। শূন্যতা সৃষ্টি হওয়ার কোনও প্রশ্নই আসে না। কারণ, অন্যান্য বিচারপতি যারা আছেন তারাই বিচারকার্য চালাবেন।’

প্রধান বিচারপতির এই ছুটির ঘটনাটি নজিরবিহীন নয় বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

এদিকে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার হঠাৎ এই ছুটি সংক্রান্ত খবরে বিহ্বল হয়ে পড়েন আইনজীবী সমিতির নেতারা। প্রধান বিচারপতির সঙ্গে দেখা করতে সন্ধ্যা পৌনে ৬টার দিকে তাঁর বাস ভবনে গিয়ে প্রবেশের অনুমতি না পেয়ে ফিরে আসেন তারা। এসময় আইনজীবী সমিতির সভাপতি জয়নুল আবেদীনের নেতৃত্বে বারের সদস্যরা সেখানে বেশ কিছুক্ষণ অপেক্ষা করেন।

পরে সমিতির সভাপতি জয়নুল আবেদীন সাংবাদিকদের বলেন, ‘তারা শুনেছেন তিনি (প্রধান বিচারপতি) হঠাৎ করে ছুটির কথা জানিয়েছেন। পাকিস্তান ও বাংলাদেশ কোনও আমলেই আদালত খোলার প্রাক্কালে প্রধান বিচারপতির ছুটিতে যাওয়ার ঘটনা ঘটেনি।’

তিনি বলেন, ‘প্রধান বিচারপতির এমন ছুটিতে জাতি উদ্বিগ্ন এবং একইসঙ্গে আমরাও।’

এ বিষয়ে বারের পরবর্তী কার্যক্রম কী হবে তা ঠিক করতে আগামীকাল সকাল সাড়ে ৯টায় জরুরি বৈঠক ঠেকেছেন বলেও জানান আইনজীবী সমিতির সভাপতি।

এদিকে প্রধান বিচারপতির ছুটিকালীন সময়ে কে হচ্ছেন ভারপ্রাপ্ত/অস্থায়ী প্রধান বিচারপতি সেটিই এখন দেখার অপেক্ষা।

তবে আইন অনুযায়ী জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে নিয়োগ দেয়া হলে আপিল বিভাগের বর্তমান জ্যেষ্ঠ সদস্য বিচারপতি আব্দুল ওয়াহাব মিয়াই অস্থায়ী প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পাবেন বলে মনে করছেন আইনজ্ঞরা।

এ বিষয়ে রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল বলেছেন, ‘এটা সচারাচর দেখা যায়- প্রধান বিচারপতির অবর্তমানে আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি যিনি থাকেন তিনিই এই দায়িত্ব পালন করে থাকেন।’

এ বিষয়ে আইন মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগ করা হলে আইন সচিব আবু সালেহ শেখ মো. জহিরুল হক ব্রেকিংনিউজকে জানান, ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি কে হবেন সেটি গেজেট প্রকাশ হলেই দেখতে পাবেন। গেজেট প্রকাশের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন আছে বলেও তিনি জানান।

প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার ছুটি নেয়ায় আপিল ডিভিশনে এখন ৫ জন বিচারপতি রয়েছেন। এর মধ্যে জ্যেষ্ঠতাক্রমে আছেন বিচারপতি আব্দুল ওয়াহাব মিয়া, বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন, বিচারপতি মোহাম্মদ ইমান আলী, বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী ও বিচারপতি মির্জা হোসেইন হায়দার।

সম্প্রতি বিচারপতি নিয়োগের ক্ষমতা সংসদের কাছ থেকে আদালতের হাতে পুনর্বহাল করে সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী ‘অবৈধ’ ঘোষণা করে প্রধান বিচারপতির দেয়া রায়কে অযৌক্তিক, আবেগী ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে মন্তব্য করে সংসদীয় কমিটি। এ রায়কে বিতর্কিত বলেও উল্লেখ করেন সরকারের এমপি-মন্ত্রীরা ও সরকারপন্থি আইনজীবীরা। তারা প্রধান বিচারপতির পদত্যাগেরও দাবি তোলেন। বিপরীতে ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায়কে শুরু থেকেই ‘ঐতিহাসিক’ আখ্যা দিয়ে আসছে বিএনপি।

সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী অবৈধ ঘোষণার পূর্ণাঙ্গ রায় গত ১ আগস্ট প্রকাশিত হয়। ওই দিনই পূর্ণাঙ্গ রায়টি সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে দেওয়া হয়।