চট্টগ্রাম, , শুক্রবার, ১৬ নভেম্বর ২০১৮

একি পরাজয়, নাকি অসহায় আত্মসমর্পণ?

প্রকাশ: ২০১৭-১০-০২ ১৭:৪৪:১৮ || আপডেট: ২০১৭-১০-০২ ১৭:৪৪:১৮

পচেফস্ট্রুম টেস্টে বাংলাদেশের প্রাপ্তি কি? একজন হয়তো এক কথায় বলে দেবেন- পরাজয়ে কোনও প্রাপ্তি থাকে নাকি? অন্যজন বলবেন- থাকে বৈকি! থাকেই তো!

৩৩৩ রানের পাহাড় সমান ব্যবধানে হারের পর এই টেস্টে কি পেল টাইগাররা। তেমন কোনও উল্লেখযোগ্য প্রাপ্তি না থাকলেও তৃতীয় দিন মুমিনুল-মাহমুদউল্লাহ জুটি ও চতুর্থ দিনের দ্বিতীয় সেশনে হুটহাট মুমিনুল ঘূর্ণিতে প্রোটিয়াদের তিন উইকেট তুলে নেয়াই এ টেস্টে সফরকারীদের জন্য ক্ষণিকের স্বস্তির মুহূর্ত এনে দিয়েছিল। তাতেই কি শেষ রক্ষা হয়েছে। হয়নি ঠিক!!

৪২৩ রানের টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে মাত্র ৯০ রানে গুটিয়ে গেছে বাংলাদেশ। কে ভেবেছিল এমন ধস নামবে তামিম-সাব্বিরদের ব্যাটে। এজন্যই বোধহয় ক্রিকেটকে ‘গৌরবময় অনিশ্চয়তার খেলা’ বলা হয়।

রানের দিক দিয়ে এটি বাংলাদেশের তৃতীয় বৃহত্তম হার। সেটি বড় কথা নয়, বড় কথা হচ্ছে- ৭ উইকেট হাতে রেখেও কেন একটি সেশনও ব্যাট করতে পারলো না বাংলাদেশ। মুশফিকুর রহিম, মাহমুদউল্লাহ, সাব্বির রহমান কিংবা লিটন দাসরা নিজেদের সর্বোচ্চটা দিয়েই চেষ্টা করবেন—এমন প্রত্যাশা তো অমূলক কিছু ছিল না। কিন্তু তারা ব্যর্থ হলেন খুব বাজেভাবেই। উল্টো বাউন্সি কিংবা পেসারদের আদর্শ উইকেটেও দুই ইনিংসে ৭ উইকেট তুলে নিলেন প্রোটিয়া স্পিনার কেশব মহারাজা।

প্রথম ইনিংসে ৩ উইকেটে ৪৯৬ রান করে ইনিংস ঘোষণা করে প্রোটিয়ারা। জবাবে ৩২০ রানে অলআউট হয় বাংলাদেশ। ১৭৬ রানে এগিয়ে থেকে দ্বিতীয় তৃতীয় ইনিংসে ৬ উইকেটে ২৪৭ রান তুলে বাংলাদেশের সামনে ৪২৪ রানের বিশাল টার্গেট ছুড়ে দেয় স্বাগতিকরা। লক্ষ্য তাড়া করতে নামা বাংলাদেশে শুরু থেকে বিপর্যয় সামলোর চেষ্টায় মাত্র ৯০ রানে গুটিয়ে যায়।

বীরোচিত পরাজয়েও প্রাপ্তি থাকে। তবে এমন অসহায় আত্মসমর্পণ অতীতের প্রাপ্তিগুলোকেও কখনও কখনও ম্লান করে দেয়।