চট্টগ্রাম, , বৃহস্পতিবার, ১৬ আগস্ট ২০১৮

সাতকানিয়ায় মেহেদির রঙ না শুকাতেই প্রাণ গেল দম্পতির

প্রকাশ: ২০১৭-০৯-০১ ২৩:১৮:১৫ || আপডেট: ২০১৭-০৯-০১ ২৩:১৯:৫১

শহীদুল ইসলাম বাবর
সিটিজি টাইমস প্রতিবেদক

সাতকানিয়া পৌরসভার বাসিন্দা প্রকৌশলী গিয়াস উদ্দিন (২৬) মহা ধুমদামে গত ১৬ আগষ্ট বুধবার বিয়ে করেছেন হালিশহরের মেয়ে নুর নাহার নুর (২০) কে। এর এক দিন আগে অর্থাৎ ১৫ আগষ্ট বিয়ে করেন গিয়াস উদ্দিনের ছোট ভাই মেজবাহ উদ্দিন। কর্মস্থলের সুবাদে ঢাকা ও চট্টগ্রামে ভাড়া বাসায় থাকা গিয়াস উদ্দিন ও মেজবাহ উদ্দিন বিয়ের পর নববধুদের নিয়ে গ্রামের বাড়িতে এসেছিলেন। মাত্র কয়েক দিন গ্রামের বাড়িতে থেকে স্ত্রীসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের নিয়ে চলে যান শহরে। ১ সেপ্টেম্বর শুক্রবার সকালে চট্টগ্রাম থেকে যাত্রীবাহি বাসে করে বাড়িতে আসছিলেন প্রকৌশলী গিয়াস উদ্দিন, তার স্ত্রী নুর নাহার নুরু ও ছোট ভাই মেজবাহ উদ্দিনের স্ত্রী সাবরিনা আক্তার শাওন। তাদের বহন করা সাতকানিয়া-চট্টগ্রাম রুটে চলাচলকারী বাসটি চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের সাতকানিয়াস্থ নয়াখালের মুখ এলাকায় পৌছলে দ্রুত গতিতে ছুটে চলা বাসটি নিয়ন্ত্রন হারিয়ে সড়কের পাশের খাদেঁ পড়ে যায়। এতে গিয়াস উদ্দিন, নুর নাহারসহ গুরুতর আহত হয় অন্তত ৩০ জন। এদের মধ্যে নারি-শিশুও রয়েছে। সড়ক দূর্ঘটনার খবর পেয়ে স্থানীয় বাসিন্দা, হাইওয়ে পুলিশ ও সাতকানিয়া ফায়ার সার্ভিসের লোকজন দীর্ঘক্ষন প্রচেষ্টা চালিয়ে আহতদের উদ্ধার করে কেরানীহাটস্থ বিভিন্ন হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানেই মারা যান প্রকৌশলী গিয়াস উদ্দিন, তার স্ত্রী নুর নাহার নুর ও সাতকানিয়া উপজেলার সোনাকানিয়া ইউনিয়নের মির্জাখীল খালাইয়া পাড়ার বাসিন্দা আজিজুর রহমান (৫০)। দোহাজারী হাইওয়ে পুলিশের অফিসার ইনচার্জ মিজানুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

গাড়ির একাধিক যাত্রী জানায়, দূর্ঘটনা কবলিত গাড়িটির চালক চট্টগ্রামের নতুন ব্রিজ পার হয়েই চালক গাড়িটির গতি বাড়িয়ে দেন। এতে একাধিক যাত্রী তাকে গাড়ির গতি কমানোর জন্য বললেও সে কর্নপাত করেনি। শুরু থেকে পুরো পথই গাড়ি চালিয়েছে দ্রুত গতিতে। দ্রুত গতিতেই নয়াখালের মুখ এলাকা পার হয়ে ব্রিজের উপর উঠার সময়ই ঢালু রাস্তায় প্রচন্ড ঝাখুনি খেয়ে গাড়ি পড়ে যায় সড়কের পশ্চিম পার্শ্বের খাদে। এতে উক্ত বাসের সব যাত্রীই কম বেশি আহত হয়। সাতকানিয়া ফায়ার সার্র্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার মোহাম্মদ ইদ্রিস জানান, দূর্ঘটনার খবর পেয়েই আমরা লোকজন নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌছি। তবে এর আগেই স্থানীয় লোকজন দীর্ঘটনায় আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে আসে। আমাদের পরই হাইওয়ে পুলিশের লোকজন ঘটনাস্থলে পৌছে। দোহাজারী হাইওয়ে পুলিশের অফিসার ইনচার্জ মিজানুর রহমান বলেন, দ্রুত গতিতে গাড়ি চালানোর কারনেই দূর্ঘটনা ঘটেছে বলে ধারনা করছি। ঘটনার খবর পেয়েই আমরা লোকজন নিয়ে ঘটনাস্থলে যায়। ঘিয়ে ঘটনাস্থলে আমরা কোন লাশ দেখতে পাইনি। ঘটনাস্থলে গিয়ে গাড়িট উদ্ধার করি। কেরানীহাটের একাধিক হাসপাতালে খবর নিয়ে জানতে পেরেছি তিন জন নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে ৭ জন। নিহত গিয়াস উদ্দিনের চাচাত ভাই ঠিকাদার আবু হানিফ জানান, গত ১৬ আগষ্ট মহা আয়োজনের মধ্য দিয়ে গিয়াস উদ্দিনের বিয়ে অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়। নব বধুসহ তার মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। শুক্রবার সকালে সাতকানিয়া পৌরসভার ৮ নং ওয়ার্ড়স্থ সাম চৌধুরী পাড়ায় গিয়াস উদ্দিনের বাড়িতে গিয়ে দেখা বাড়ির সামনের উঠানেই কোরবাননীর গরু ঘাষ খাচ্ছে। আর বাড়ির ভেতর থেকে আসছে কান্নার আওয়াজ। টাইলস করা পাকা দালানের বারান্দায় এক পাশে আছে প্রকৌশলী গিয়াস উদ্দিনের মরদেহ। আর পর্দার অন্তরালে রাখা হয়েছে তার নব বধু নুর নাহারের মরদেহ। আর শাল ঘিরেই চলছে স্বজনদের কান্নার রোল। স্বজনদের কান্নায় ভারি হয়ে উঠে পরিবেশ। সাতকানিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান জসিম উদ্দিন জানান, দ্রুত গতিতে গাড়ি চালানোর কারনেই দূর্ঘটনা সংগঠিত হয়েছে। আমি নিহতদের রুহের মাগফেরাত কামরা করছি। আর শোকাহত পরিবারবর্গের প্রতি সমবেধনা জানাচ্ছি।