চট্টগ্রাম, , বৃহস্পতিবার, ১৬ আগস্ট ২০১৮

শিক্ষার্থীদের নিরাপদ ডেটিং স্থান, নগরীর অভয়মিত্র ঘাট !

প্রকাশ: ২০১৭-০৮-২৩ ১৩:১৮:৪০ || আপডেট: ২০১৭-০৮-২৩ ১৫:৩৮:২৫

ক্লাস ফাঁকি দিয়ে সকাল নয়টার পর থেকেই খোশগল্প আর আড্ডায় মেতে উঠে স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীরা

সাঈফী আনোয়ারুল আজিম

খুব দ্রুত স্কুল কলেজের প্রেমিক যুগলদের দখলে চলে যাচ্ছে নগরীর অভয়মিত্র ঘাট। এখানেই গড়ে উঠছে স্কুল কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের আড্ডা দেয়ার নিরাপদ আস্তানা। স্কুল কলেজের প্রেমিকযুগল এখানে এসে লোক লজ্জাকে পেছনে ফেলে অন্তরঙ্গ জড়াচ্ছে প্রকাশ্যে। একে অপরকে জড়িয়ে চুমু খাচ্ছে প্রতিনিয়ত। সকাল নয়টার পর থেকেই অভয়মিত্র ঘাটে খোশগল্প আর আড্ডায় মেতে উঠে বিভিন্ন স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীরা। এমন খোলামেলা দৃশ্য প্রতিনিয়তই উপভোগ করছে অভয়মিত্র ঘাটের নৌযান চালক, শ্রমিকসহ হাজারো পেশার মানুষ। নিত্যদিনের এমন দৃশ্যে এখানকার স্থানীয় বাসিন্দারাও বিব্রত। কলেজ জীবনে নতুন পা রাখা ছাত্রছাত্রীদের আনাগোনা আর অন্তরঙ্গ হওয়ার দৃশ্য বারণ করার মতো যেন কেউ নেই।

অভিযোগ উঠেছে প্রসাশনের নাকের ডগায় নগরীর প্রাণ কেন্দ্রে এমনটি হলেও তারা রয়েছেন উদাসীন। আর এ কারণেই এখন অনেকটাই বেপরোয়া স্কুল কলেজের ছাত্রছাত্রীরা। স্থানীয় স্কুল কলেজের ছেলে-মেয়েরা ক্লাস ফাঁকি দিয়ে এখানে আসে প্রতিনিয়িত। ক্লাস ফাঁকি দিয়েই অভয়মিত্র ঘাটে এসে তারা আড্ডায় সময় পার করছে। স্থানটি তাদের জন্য নিরাপদ হওয়ায় এখানে প্রতিদিনই বাড়ছে নতুন নতুন জুটি। স্কুল কলেজের শিক্ষার্থী ছাড়াও ভাড়া খাটা অপরিচিত প্রেমিক প্রেমিকারাও এখানে আসে অনায়সে। তাদের কাঙ্কিত এই স্থানটিতে এসে যে যার মতো প্রেমে মত্ত হয়ে মেতে উঠেন প্রকাশ্যে। স্থানীয়রা জানালেন প্রতিদিনই এখানে বিভিন্ন কলেজের ছাত্রছাত্রীদের প্রেম নিবেদনে মত্ত হওয়ার দৃশ্য চোখে পড়ে।

অভয়মিত্র ঘাটে পান বিক্রেতা আলম জানান, শিক্ষার্থীদের এসব অসামাজিক কর্মকান্ডে আমরা বিব্রত। আমরা নিজের ছেলে মেয়েদের নিয়ে অভয়মিত্র ঘাট দিয়ে বের হতে পারিনা। এগুলো বন্ধে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ জরুরী।


অভয়মিত্র ঘাটের একজন নৌযান শ্রমিক জানান, নগরীর এই প্রাণ কেন্দ্রটি অরক্ষিত থাকায় এখন এটি স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীদের নিরাপদ অন্তরঙ্গ স্থানে পরিণত হয়েছে। ঘাটের আশেপাশের বাসিন্দারা প্রতিদিনই এমন কুরুচিপূর্র্ণ দৃশ্য প্রত্যক্ষ করলেও তা প্রতিকারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে উদ্যোগ নেয়ার আহ্বান জানান এই নৌযান শ্রমিক। তিনি আরও জানান, উপায়ন্তর না থাকায় এখন এমন দৃশ্য দেখেও তারা চোখ বুজে থাকার চেষ্টা করেন।

এখানকার মাছ বিক্রেতা আলমগীর জানান, প্রতিদিনই সকাল থেকে দুপুর এবং পড়ন্ত বিকেলে স্কুল কলেজের শিক্ষার্থী এবং প্রেমিক যুগলরা এখানে পাড়ি জমায়। ঘাট এলাকায় তেমন গাছ-গাছালি না থাকায় মেরিনার্স সড়কের জন্য নির্মিত সিসি ব্লকে বসে আড্ডায় মেতে উঠে প্রেমিক প্রেমিকরা। অনেক সময় এখানে আড্ডা করতে এসে বখাটে ও নেশাখোরদের হাতে সর্বস্ব খোয়াতে হয় অনেক প্রেমিক যুগলকে।

অভয়মিত্র ঘাট দিয়ে নিয়মিত পারাপারকারী যাত্রী কল্যাণী জানান, এখানে স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীদের বেপরোয়া দৃশ্যগুলো দেখলে লজ্জায় মুখ ফিরিয়ে নিই। তিনি এসব শিক্ষার্থীরা প্রকাশ্যে এমন অসামাজিক কাজ করবে কেনো? । তারাতো আমাদের ভবিষ্যত ।

একই কথা অভয়মিত্র ঘাটের চা বিক্রেতা জলিল ভান্ডারীর। তিনি জানান, এখানে আগত শিক্ষার্থীদের বাচন- ভঙ্গিমা দেখে হতভম্ব হয়ে পড়ি। ভাবি ভবিষ্যত প্রজম্ম নিয়ে। উঠতি বয়সী ছেলে-মেয়েরা এখানে এসে প্রকাশ্যে দিবালোকে একে অপরকে জড়াজড়ি করে। চুমো খায়। যে ভাবে বসে গল্প করে তা দেখে লজ্জায় এখানে থাকতে মন চায় না ।অভয়মিত্র ঘাটের আচার বিক্রেতা আরজু মিয়া জানান, সকাল ৯ টার পরপরই এখানে স্কুল কলেজের ছাত্র ছাত্রীরা এসে জড়ো হয়। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ওরা এখানে গল্প করে সময় পার করে দেয়। তিনি জানান, স্কুলের শিক্ষার্থীর চেয়ে কলেজ ছাত্র ছাত্রীরা সংখ্যা বেশি।

অভয়মিত্র ঘাটে পাঁচ বছরের শিশু সন্তানকে নিয়ে ঘুরতে আসা আফরোজা বেগম জানান, কলেজের ছাত্র-ছাত্রীরা এখানে এতই বেপরোয়া এবং উচ্ছৃঙ্খল যে এখানে কোমলমতি শিশুকে নিয়ে ভ্রমণে আসাও সম্ভব নয়। তিনি আরো জানান, জনসম্মুখে কিভাবে এসব শিক্ষার্থীরা বেপরোয়া হয়ে উঠতে পারে। এই নারী আরও জানান, অন্তত প্রত্যেক অভিভাবকের উচিৎ তার সন্তানের ক্লাসের উপস্থিতি যাচাই করা। সে ক্লাস ফাঁকি দিয়ে কোনো আড্ডা কিংবা বিনোদন পার্কে সময় পার করছে কিনা।

অভয়মিত্র ঘাটে দুই দিনের সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা যায় সকাল নয়টার পরপরই বিভিন্ন কলেজের ইউনিফর্ম পরিহিত ছাত্র ছাত্রীরা এসে জড়ো হয়। দুজন একসাথে জুটি জুটি করে বসে পড়ে। অনেক শিক্ষার্থী আবার ইউনিফর্মটি খোলে ব্যাগের মধ্যে ঢুকিয়ে রাখে। এদের সংখ্যাও অনেক।

জানতে চাইলে কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জসিম উদ্দিন জানান, ক্লাস ফাঁকি দিয়ে অভয়মিত্র ঘাট এলাকায় যে সকল শিক্ষার্থীরা আড্ডা দেয়। তাদের বিরুদ্ধে শিঘ্রই ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।