চট্টগ্রাম, , শুক্রবার, ১৭ আগস্ট ২০১৮

চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন নায়করাজ রাজ্জাক

প্রকাশ: ২০১৭-০৮-২৩ ১২:০০:০৮ || আপডেট: ২০১৭-০৮-২৩ ১৩:০১:০৫

চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন কিংবদন্তি অভিনেতা নায়করাজ রাজ্জাক। বুধবার সকাল সোয়া ১০টায় রাজধানীর বনানী বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে এ তারকার দাফন সম্পন্ন হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন কাছের আত্মীয় ও সহকর্মীরা।

বুধবার ভোরে নায়করাজের কানাডা প্রবাসী মেঝো ছেলে বাপ্পি ঢাকায় পা রাখেন। বাপ্পি এক নজর বাবা দেখতে চেয়েছিলেন। এর কারণে একাধিকবার এ নায়কের দাফনের সময় পরিবর্তন করা হয়।

হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে সোমবার সন্ধ্যায় রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে মারা যান নায়করাজ রাজ্জাক। তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৫ বছর।

মঙ্গলবার বেলা ১১টায় রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতাল থেকে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশনে (বিএফডিসি) নেওয়া হয় এই কিংবদন্তির লাশ। সেখানে একে একে শ্রদ্ধা জানান রাজ্জাকের দীর্ঘদিনের সহকর্মী, ভক্ত ও শুভানুধ্যায়ীরা। শ্রদ্ধাঞ্জলি শেষে সেখানে তাঁর প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

এরপর এফডিসি থেকে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে নেওয়া হয় রাজ্জাকের লাশ। সেখানে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের আয়োজনে তাঁকে শ্রদ্ধা জানান সর্বস্তরের মানুষ।

১৯৪২ সালের ২৩ জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের টালিগঞ্জে জন্ম নায়করাজ রাজ্জাকের। তার পারিবারিক নাম আবদুর রাজ্জাক। নায়করাজ দেশভাগের পরে, ১৯৬৪ সালে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে সপরিবারে চলে আসেন। টেলিভিশনে ‘ঘরোয়া’ নামের একটি নাটকে অভিনয় করে দর্শকপ্রিয়তা অর্জন করেন। তার অভিনয় জীবনের সবচেয়ে বড় ‘ব্রেক’ এনে দেন চলচ্চিত্র পরিচালক জহির রায়হান। ‘বেহুলা’ ছবির নায়কের চরিত্রে জহির রায়হান নিলেন রাজ্জাককে।

তবে সব কিছুকে ছাপিয়ে যান ‘জীবন থেকে নেয়া’ ছবির মাধ্যমে। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার পরও রাজ্জাক একের পর ব্যবসা সফল ও চূড়ান্ত জনপ্রিয় সব সিনেমা নিয়ে দর্শকদের বুঁদ করে রাখেন। ওরা ১১ জন, অবুঝ মন, রংবাজ-এর মতো ছবিগুলো তো বাংলা সিনেমার ইতিহাস হয়ে ওঠে। রাজ্জাক অভিনীত কালজয়ী সিনেমার নামের তালিকায় বেশ দীর্ঘ। বাংলা সিনেমার এই মহানায়কের দেহ অবসান হলেও তার শিল্পীসত্তা অম্লান। চিরসবুজ, আধুনিক ভাবধারার মহানায়ক হয়ে তিনি ছিলেন, আছেন, থাকবেন- ফ্যাশনে, স্টাইলে আমাদের সত্যিকারের মহানায়ক তিনি।