চট্টগ্রাম, , শুক্রবার, ১৭ আগস্ট ২০১৮

শিক্ষার্থীদের ক্লাস বর্জন, শ্রেণি কক্ষে তালা, অধ্যক্ষ অপসারণের দাবী

প্রকাশ: ২০১৭-০৮-২২ ২০:৪০:১৬ || আপডেট: ২০১৭-০৮-২৩ ০৮:২৫:৩৫

ফটিকছড়িতে অধ্যক্ষের হাতে প্রভাষক লাঞ্ছিত !

মীর মাহফুজ আনাম
সিটিজি টাইমস প্রতিবেদক

ফটিকছড়ি উপজেলার ভূজপুর ন্যাশনাল স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ মর্তুজা এনামুল ইকবাল হাতে বাংলা বিভাগের প্রভাষক মিজানুর রহমান লাঞ্ছিতের ঘটনায় শিক্ষার্থীরা ক্লাস বর্জন করেছে। আজ (মঙ্গলবার) তারা কলেজের শ্রেণিকক্ষে তালা লাগিয়ে এর প্রতিবাদ করেন। অবিলম্বে কলেজের অধ্যক্ষের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানায় তারা।

সংশ্লি¬ষ্ট সূত্র জানায়, গত সোমবার স্কুল এন্ড কলেজের একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির ক্লাস নেওয়া নিয়ে অপর প্রভাষক মুহাম্মদ তৈয়ব আলীর সাথে কথা কাটাকাটি হয় বাংলা বিভাগের প্রভাষক মিজানুর রহমান চৌধুরীর। বিষয়টি সুরাহার জন্য অধ্যক্ষকে জানায় মিজানুর রহমান। এসময় তাঁর সাথে বিমাতাসূলভ আচরণ করেন অধ্যক্ষ। অধ্যক্ষ তাঁর (তৈয়ব আলীর) পক্ষ নেন। এর সূত্রধরে অধ্যক্ষ ওই প্রভাষককে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং মানষিকভাবে লাঞ্ছিত করেন। গতকাল মঙ্গলবার সকালে এ ঘটনার আদ্যোপান্ত বিস্তার করে ওই প্রভাষক মিজানুর রহমান চৌধুরী বিষয়টি শিক্ষার্থীদের জানালে শিক্ষার্থীরা ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে। সেই সূত্রে শিক্ষার্থীরা সকাল থেকে প্রতিষ্ঠানের সব ক্লাস বর্জন করে। এসময় অধ্যক্ষের বিচার দাবি করে আন্দোলন শুরু করে এবং ২৪ ঘন্টার সময় বেঁধে দেন। ২৪ ঘন্টার মধ্যে উক্ত বিষয়ের কোন সুরাহা না হলে বৃহত্তর আন্দোলনের হুমকী দেয় শিক্ষার্থীরা।

একাধিক শিক্ষার্থী অভিযোগ করে বলে, ‘অধ্যক্ষ মর্তুজা এনামুল ইকবাল একজন দুর্ণীতিবাজ ও সেচ্ছাচারী ব্যক্তি হন। তার অদক্ষ পরিচালনায় প্রতিষ্ঠানটি আজ সমস্যায় জর্জরিত এবং পিছিয়ে। তারা অধ্যক্ষের পদত্যাগ দাবি করেন।

শিক্ষার্থীরা আরো জানান, আমাদের প্রিয় বাংলা বিভাগের প্রভাষকের উপর মানসিকভাবে লাঞ্ছিতের ঘটনায় বিচার দাবি করছি। অন্যথায় বৃহত্তর আন্দোলন ঘোষণা করা হবে।’
বাংলা বিভাগের প্রভাষক মিজানুর রহমান চৌধুরী বলেন, ‘ঘটনার পর থেকে অন্যায়ভাবে অধ্যক্ষ আমাকে প্রতিষ্ঠান ছেড়ে চলে যেতে বলেন এবং বেতন ছাড়া পাঠদান করাতে বলেন। আমি এর প্রতিবাদ করি। এছাড়া প্রতিষ্ঠানের সব দুর্ণীতি বন্ধে আমি অগ্রণী ভূমিকা পালন করে থাকি বলে তিনি আমার উপর ক্ষিপ্ত। তাই আমাকে তিনি মানষিকভাবে লাঞ্ছিত করেন।’
প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ মর্তুজা এনামুল ইকবাল বলেন, ‘এটা আমার বিষয় নয়, ইংরেজি বিভাগের প্রভাষক সাথে তাঁর মনোমালিন্য হয়েছে। আমি সমাধানের চেষ্টা করেছি। এতে সে ভুল বুঝেছে। শিক্ষার্থীরাও ভুল বুঝেছে। ইউএনও আমাদের ডেকে পাঠিয়েছেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দীপক কুমার রায় বলেন, ‘বিষয়টি সুরাহার জন্য দুই শিক্ষক এবং প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষকে আমার কার্যালয়ে ডেকে পাঠিয়েছি। তারা উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে সমাধানের ব্যবস্থা করা হবে।’