চট্টগ্রাম, , শুক্রবার, ১৭ আগস্ট ২০১৮

আমাকে ওই হুমকি দিয়ে লাভ নেই

প্রকাশ: ২০১৭-০৮-২১ ২০:২৬:০৭ || আপডেট: ২০১৭-০৮-২১ ২০:২৬:০৭

‘পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট প্রধানমন্ত্রীকে ইয়ে (অযোগ্য) করল। সেখানে কিছুই (আলোচনা-সমালোচনা) হয়নি’- প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার এমন মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বলেছেন, আর যাই সহ্য করার, পাকিস্তানের সঙ্গে তুলনা তিনি সহ্য করবেন না। এই মন্তব্য করায় জনগণের কাছে বিচারও চেয়েছেন তিনি। বলেছেন, এই হুমকি তাকে দিয়ে লাভ নেই।

২০০৪ সালের ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার স্মরণে সোমবার বিকালে রাজধানীতে এক আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন। ১৩ বছর আগের গ্রেনেড হামলা ছাড়াও সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী অবৈধ ঘোষণা করে আপিল বিভাগের রায় নিয়েও দীর্ঘ বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রী। কথা বলেন, রবিবার উচ্চ আদালতে প্রধান বিচারপতির করা মন্তব্য নিয়ে।

নিম্ন আদালতের বিচারকদের চাকরির শৃঙ্খলাবিধি গেজেট প্রকাশের শুনানিতে প্রধান বিচারপতি ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘আজকে একজন কলামিস্টের লেখা পড়েছি… সেখানে ধৈর্যর কথাই বলা হল। আমরা ধৈর্য ধরেছি। পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট প্রধানমন্ত্রীকে ইয়ে (অযোগ্য) করল। সেখানে কিছুই (আলোচনা-সমালোচনা) হয়নি। আমাদের আরও পরিপক্কতা দরকার।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘পাকিস্তানের সাথে তুলনা করা… সব সহ্য করা যায়, কিন্তু পাকিস্তানের সঙ্গে তুলনা সহ্য করব না।’

‘পাকিস্তান রায় দিল বলে (প্রধানমন্তী পদে নওয়াজ শরিফের ক্ষমতায় থাকা অবৈধ ঘোষণা) কেউ ধমক দিল, আমি জনগণের কাছে বিচার চাই।’

প্রধান বিচারপতির বক্তব্য উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সবচেয়ে অপমানজনক আজকে পাকিস্তানের সঙ্গে তুলনা। যে পাকিস্তানকে আমরা যুদ্ধে হারিয়েছি, যুদ্ধে হারিয়ে বিজয় অর্জন করেছি। অনেকেই পাকিস্তানের দালালি করেছে।’

‘জনগণের আদালত বড় আদালত, জনগণের আদালতকে কেউ অস্বীকার করতে পারে না’ মন্তব্য করে জনগণের কাছে প্রধান বিচারপতির বক্তব্যের জন্য বিচার দেন শেখ হাসিনা।
প্রধানন্ত্রী বলেন, ‘পাকিস্তান রায় দিল দেখে কেউ ধমক দেবে, আমি জনগণের কাছে বিচার চাই। জনগণের কাছে বিচার চাই, পাকিস্তানের সাথে কেন তুলনা করবে, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর সাথে কেন তুলনা করবে।’

প্রধান বিচারপতি পাকিস্তানের উদাহরণ দিয়ে যে বক্তব্য রেখেছেন, তাকে সরাসরি হুমকি হিসেবে দেখছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেনম ‘ওই হুমকি আমাকে দিয়ে লাভ নাই’ মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা আইয়ুব খান দেখেছি, ইয়াহিয়া খান দেখেছি, জিয়া, এরশাদ, খালেদা জিয়া…’

১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি আওয়ামী লীগ ও সমমনাদের বর্জনের মুখে বিএনপির জাতীয় সংসদ নির্বাচন করার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ভোট চুরি করে যারা সংসদ সদস্য হয়েছিল তাদের মধ্যে একজন তো এখনও বিচারক। খালেদা জিয়া তাকে বিচারক বানিয়েছে। কই চিফ জাস্টিস তো তাকে বের করে দেয় নাই।’

‘আমি শুধু দেশবাসীর কাছে এই বিচারটা চাই যে পাকিস্তানকে আমরা যুদ্ধ করে হারিয়েছি, যে পাকিস্তান ব্যর্থ রাষ্ট্র, আজকে সেই পাকিস্তানের সাথে আমাদের তুলনা করবে? আন্দোলন সংগ্রামের মধ্য দিয়ে যে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছি, আজকে দেশের উন্নয়ন হচ্ছে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘প্রত্যেকটা প্রতিষ্ঠানকে আমরা প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়েছি। প্রত্যেকটা প্রতিষ্ঠান যেন স্বাধীনতভাবে চলতে পারে, সেই ব্যবস্থা করে দিয়েছি। তবে স্বাধীনতা ভাল, তবে তা বালকের জন্য নয় বলে একটা কথা আছে। কাজেই বালকসুলভ আচরণ আমরা আশা করি না।’