চট্টগ্রাম, , বৃহস্পতিবার, ১৬ আগস্ট ২০১৮

কক্সবাজারে ১৯ ইয়াবা ব্যবসায়ীকে ১০ বছরের স্বশ্রম কারাদন্ড

প্রকাশ: ২০১৭-০৮-২১ ১৬:৩০:২৬ || আপডেট: ২০১৭-০৮-২১ ১৬:৩০:২৬

কক্সবাজার আদালতে দেড় বছরের মাথায় অবিস্মরনীয় রায়

ইমাম খাইর
কক্সবাজার ব্যুরো

১৯ ইয়াবা ব্যবসায়ীকে ১০ বছরের স্বশ্রম কারাদন্ড দিয়েছে কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালত। সোমবার (২১ আগষ্ট) সকাল সাড়ে ১১টায় এস.টি ১০১৩/১৬ মামলার দীর্ঘ শুনানী শেষে বিচারক মোহাম্মদ ওসমান গণি জনাকীর্ণ আদালতে এই রায় ঘোষণা করেন। একই সঙ্গে প্রত্যেক আসামীকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরো ৩ মাস বিনাশ্রম কারাদন্ডাদেশ দিয়েছে বিজ্ঞ বিচারক। পাচারের পথে ৪ লাখ ইয়াবার চালান উদ্ধারের চাঞ্চল্যকর মামলায় রায়ের মাধ্যমে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন বিচারক- এমনটি মনে করছে বিজ্ঞনেরা।
আলোচিত এই মামলায় রায় ঘোষণাকালে সকল আসামী, তাদের নিয়োজিত আইনজীবি আয়াছুর রহমানসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন। সরকার পক্ষে ছিলেন সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর মোকতার আহমদ ও দিলীপ কুমার। মামলার রায়ে রাষ্ট্রপক্ষ সন্তুষ্ট জানালেও আসামীপক্ষের কোন প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

সাজাপ্রাপ্ত আসামীরা হচ্ছেন- কক্সবাজারের টেকনাফ সদর ইউপির লেঙ্গুরবিল এলাকার আমির হামজার ছেলে সামছুল আলম কালু (৩২), জাকের আহমদের ছেলে জাহেদ হোছাইন (১৮), আবুল হোসেন এর ছেলে অছিউল্লাহ (২৭), দক্ষিণ লেঙ্গুরবিলের আবদুল মোনাফের ছেলে আইয়ুব আলী (৩১), বড় হাবিরপাড়ার জাহেদ হোসেনের ছেলে আজিজুল হক (২৬), নূল হোছাইনের ছেলে মকবুল আহমদ (১৮), আব্দুল হাকিমের ছেলে রফিক আলম (২১), দক্ষিণ লম্বরী মৃত নুরুল হকের ছেলে খাইরুল আমিন, উত্তর লম্বরী আবদুর রহিমের ছেলে বোটের মাঝি ফজল করিম (২৫), মৃত হাবীবুর রহমানের ছেলে জাহাঙ্গীর আলম (৩২), মোঃ ইলিয়াছ (২১), মৃত আবদুস সালামের ছেলে জিয়াউর রহমান (১৮), উত্তর লেরুরবিলের মোঃ তৈয়বের ছেলে আবদুল্লাহ (১৮), দক্ষিণ লেঙ্গুরবিলের আব্দুল মালেকের ছেলে আনোয়ার হোসেন (২৩), রঙ্গিখালীর নবী হোছেন প্রকাশ নজির আহমদের ছেলে মোঃ রুবেল (২), দক্ষিণ লেঙ্গুরবিলের আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে মোঃ রুবেল (২৩), রাশেদুল হক (৩১), সদর ইউপির মৌলভীরপাড়ার মৃত আব্দুস সালামের ছেলে নুরুল আলম (২৫) ও বড় হাবীরপাড়ার মৃত জামাল প্রকাশ আলী আহমদের ছেলে মোঃ ইমাম হোসেন।
কক্সবাজার আদালতের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) মোকতার আহমদ জানান, ২০১৬ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারী সেন্টমার্টিনের উত্তরে সাগর থেকে ৪ লাখ ইয়াবাসহ দন্ডপ্রাপ্ত আসামীদের আটক করে কোস্টগার্ড। এ সময় তাদের বহনকারী দুইটি বোটও জব্ধ করা হয়। এ ঘটনায় কোস্টগার্ডের কর্মকর্তা এম.এ তাহের বাদী হয়ে টেকনাফ থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করেন। থানা মামলা নং-৫৪/২০১৬। ওই বছরের ১৯ এপ্রিল এ মামলায় চার্জশীট দাখিল হয়। উভয়পক্ষের যুক্তিতর্ক ও শুনানী শেষে বিচারক রায় দেন। সুবিবেচনাপূর্বক আদালতের রায়ে তিনি সন্তুষ প্রকাশ করেন।

রাষ্ট্রেরপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ফরিদুল আলম বলেন, কক্সবাজার জেলার মাদকদ্রব্য আইনে যে মামলাগুলো রয়েছে এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ইয়াবা নিয়ে ধরা পড়া এই ইয়াবা মামলাটি। এই মামলায় প্রত্যেককে ১৫ বছর কারাদ- দেওয়া উচিত ছিল। কিন্তু, বিচারক সার্বিক বিবেচনায় ১০ বছর করে স্বশ্রম কারাদ- দিয়েছেন। এরপরও আমরা সন্তুষ্ট।

মামলাটি কক্সবাজার জেলার জন্য একটি মাইলফলক উল্লেখ করে এই আইনজীবী আরও বলেন, আসামিরা ইতিপূর্বে কারাগারে যে সময় অতিবাহিত করেছে সেটি সাজা থেকে বাদ যাবে।

 

ইমাম খাইর, কক্সবাজার
০১৮১৫৪৭১৪০০