চট্টগ্রাম, , বৃহস্পতিবার, ১৬ আগস্ট ২০১৮

মুসলিম উম্মাহকে ঐকবদ্ধ হওয়ার তাগিদ হজের খুতবায়

প্রকাশ: ২০১৭-০৮-৩১ ১৭:৪৫:১০ || আপডেট: ২০১৭-০৮-৩১ ১৭:৪৫:১০

পবিত্র হজের খুতবায় খতিব বলেছেন, আল্লাহ সব ক্ষেত্রে নিরাপত্তা বিধানের নির্দেশ করেছেন। প্রত্যেকের নিরাপত্তা বিধান করা ইসলামের নির্দেশ। অশান্তি সৃষ্টি করা যাবে না, অশান্তিমূলক কোনো কাজ করা যাবে না, এটা ইসলামে নিষিদ্ধ।

সৌদি আরবের সর্বোচ্চ ওলামা পরিষদের সদস্য, বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজ আল সৌদের রাজকীয় উপদেষ্টা শায়খ ড. সাআদ বিন নাসের আশ শিছরি আরাফার ময়দানে মসজিদে নামিরায় এই খুতবা দেন। স্থানীয় সময় দুপুর ১২টা ২৫ মিনিটে (বাংলাদেশ সময় ৩টা ২৫) খুতবা শুরু হয়। চলে প্রায় ২৫ মিনিট।

খুতবার পর মসজিদে নামিরায় একসঙ্গে জোহর ও আসরের নামাজ আদায় করেন হাজিরা। সূর্যাস্থ পর্যন্ত এখানে অবস্থানের পর রাতে হাজিরা যাবেন মুজদালিফায়। সেখানে রাতে অবস্থানের পর আগামীকাল মিনায় গিয়ে কোরবানি ও অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করবেন হাজিরা।

হজের খুতবায় খতিব তাওহিদ বা আল্লাহর একত্ববাদের প্রতি গুরুত্বারোপ করেন। একমাত্র আল্লাহর ইবাদত করতে বলেন। তিনি বলেন, যারা আল্লাহর পথ ধরবেন আল্লাহ তাদেরকে শান্তিতে রাখবেন।

আল্লাহ, ফেরেশতা, কিতাব, আখেরাত এসবের প্রতি ঈমান সুদৃঢ় করার প্রতি তাগিদ দেন খতিব। মুসলিম উম্মাহকে ঐকবদ্ধ হওয়ার তাগিদ দেন, বিচ্ছিন্ন না হতে বলেন।

খতিব বলেন, ‘শরিয়তের সৌন্দর্য হলো মানুষের প্রতি অনুগ্রহ ও জীবনের সবক্ষেত্রে ন্যায় ও সমতা প্রতিষ্ঠা করা।’ তিনি বলেন, ‘যারা ইমান এনেছে, সৎকর্ম করেছে, তাদেরকে আল্লাহ সাহায্য করবেন। ভয় ভীতি দূর করে দেবেন।’

খতিব মুসলিমদেরকে আল্লাহর নির্ধারিত গণ্ডি না পেরোনোর তাগিদ দেন। কোনো চুক্তি করলে তা রক্ষা করার কথা বলেন।

হজের খতিব মুসলিম উম্মাহর সবচেয়ে বড় এই সম্মেলনে ফিলিস্তিন সমস্যার সমাধান কামনা করেন। ফিলিস্তিনে যেন শান্তি প্রতিষ্ঠিত হয় এবং পবিত্র মসজিদে আকসা যেন আবার মুসলমানদের অধিকারে আসে সেই প্রত্যাশার কথা জানান।

শায়খ ড. সাআদ বিন আন নসর আশ শাসরি বলেন, ‘মানুষের মধ্যে কোনো ভেদাভেদ নেই। আল্লাহ কৃত্রিম ভেদাভেদ না করতে বলেছেন। তিনি পবিত্র হজের সময় হারাম শরিফে এসে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত কর্মকাণ্ড না করতে আহ্বান জানান। এখানে এসে দলাদলি না করার ব্যাপারে সাবধান করেন।

খতিব বলেন, আল্লাহর রাসুল সা. আমাদের জন্য দুটি জিনিস রেখে গেছেন, সেই দুটি জিনিস হলো কোরআনে কারিম ও আল্লাহর রাসুলের সুন্নত। প্রতিটি মুসলমানের উচিত এই দুটি জিনিসকে আঁকড়ে ধরা।

তিনি বলেন, কোরআন জীবনের সব ক্ষেত্রের জন্য। এজন্য কোরআনকে আঁকড়ে ধরতে হবে। কোরআন পড়তে হবে, সেই অনুযায়ী চলতে হবে।

পরিশেষে খতিব সৌদি বাদশা, হারামাইনের যার খেদমত করছেন এবং সমগ্র মুসলিম উম্মাহর জন্য দোয়া করেন।