চট্টগ্রাম, , বুধবার, ১২ ডিসেম্বর ২০১৮

শিশুকে বাঁচাতে রক্ত দিলেন সাতকানিয়া থানার ওসি রফিকুল

প্রকাশ: ২০১৭-০৮-৩০ ০০:০৯:৪০ || আপডেট: ২০১৭-০৮-৩০ ১২:৫৬:০৪

মিনা দাশের ১০ বছরের ছোট্ট শরীরটায় বাসা বেঁধেছে কঠিন অসুখ। নিয়মিত রক্ত দিতে হয় তাকে। যা জোগাড় করা বাবা সুকুমার দাশের জন্য রীতিমতো দুঃসাধ্যের। তিনি পেশায় মুচি। আয়ও সামান্য। সমাজে দৌড়টাই আর কত। কিন্তু মিনার ভাগ্যটা ভালো। তার পাশে দাঁড়িয়েছে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘অনুচক্রিকা’। সেই চক্রের সূত্র ধরেই মিনাকে এবার রক্ত দিয়েছেন সাতকানিয়া থানার ওসি মো. রফিকুল হোসেন।

মঙ্গলবার দুপুরে সাতকানিয়া ডায়াবেটিস জেনারেল হাসপাতালে মিনার জন্য রক্ত দেন ওসি রফিক। তিনি বলেন, শিশুটি জটিল রোগে আক্রান্ত। নিয়মিত রক্ত দিতে হয়। সুকুমার দাশ মেয়েকে নিয়ে হাসপাতালের আউটডোরে সকাল থেকে অপেক্ষায় ছিলেন যদি অনুচক্রিকা কোনো রক্তদাতার সন্ধান পান। বিষয়টি ওই সংগঠনের সদস্য মো. এনামুল হক আমাকে জানান। আমি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে রক্ত ম্যানেজ করতে অনুরোধ করি। কিন্তু কোনো ব্যবস্থাই হয়নি। যখন জানতে পারি মেয়েটির রক্তের গ্রুপ বি পজেটিভ। তখনি আমি নিজে হাসপাতালে গেলাম রক্ত দিতে।

এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, নির্দিষ্ট সময় অন্তর অন্তর রক্ত দিলে দাতার কোনো অসুবিধা হয় না। অনেকে ভয়ে রক্ত দিতে চান না। কিন্তু মুমূর্ষু-জটিল রোগীর জীবন বাঁচে। পুণ্যও সঞ্চয় হয়। আমি যখন ঢাকায় ছিলাম নিয়মিত রক্ত দিতাম। রক্ত আল্লাহর দান। যতদিন সুস্থ থাকব নিয়মিত রক্ত দিয়ে যাব। মানুষ তো মানুষের জন্যই।

১৯৮৯ সালে পুলিশের চাকরিতে যোগ দিলাম। ১৯৯২ সালের দিকে মতিঝিল থানার এসআই হিসেবে কাজ করছি। তখন একদিন ফকিরাপুলে দুপক্ষের মধ্যে প্রচণ্ড গুলি, পাল্টাগুলি হলো। দেখলাম ঘটনাস্থলেই ১৮ বছরের এক গুলিবিদ্ধ তরুণ ছটফট করছে। সারা শরীর রক্তে ভেসে যাচ্ছে। কেউ তাকে হাসপাতালে নিচ্ছে না। আমার মোটরসাইকেল একপাশে রেখে আরেকজন লোক সঙ্গে নিয়ে তাকে রিকশায় নিয়ে গেলাম জরুরি বিভাগে। সেখানে ওটিতে ঢোকানোর পর ডাক্তার বললেন রক্ত লাগবে। রক্ত পাবো কোথায়! সৌভাগ্য আমার রক্তের গ্রুপের সঙ্গে মিল ছিল। নিজেই দিয়ে দিলাম।’ যোগ করলেন মাদারীপুরের ছেলে ওসি রফিক।

অনুচক্রিকার উদ্যোগের প্রশংসা করে ওসি রফিকুল হোসেন বলেন, তারা মফস্বলে থেকেও অসহায় মানুষের জন্য যেভাবে রক্তদাতার খোঁজ করে, রক্ত জোগাড় করে দিয়ে মানুষের উপকার করে তা আমাকে বিস্মিত করেছে।