চট্টগ্রাম, , শুক্রবার, ১৭ আগস্ট ২০১৮

চট্টগ্রামে জমে উঠেছে পশুর হাট

প্রকাশ: ২০১৭-০৮-২৯ ১৮:১৯:০৩ || আপডেট: ২০১৭-০৮-৩০ ১৩:৫৪:০৯

ইব্রাহিম খলিল
প্রধান প্রতিবেদক, সিটিজি টাইম্‌স

কোরবানির ঈদের সময় যতই ঘনিয়ে আসছে। ততই ক্রেতার ভিড় বাড়ছে চট্টগ্রামের পশুর হাটগুলোতে। আজ মঙ্গলবার সাপ্তাহিক হাট হওয়ায় প্রচুর ক্রেতা দেখা দেখা গেছে বিবির হাটে। পাশাপাশি ক্রেতা বেড়েছে সাগরিকা বাজারসহ সবকটি বাজারে।

বাজারের ইজারদাররা জানান, ক্রেতা নামায় পশু বেচা-কেনাও বেড়েছে। অনুপাতে এর আগে বিক্রি কম ছিল। কাল-পরশুর মধ্যে বাজারগুলো আরো জমজমাট হয়ে উঠবে বলে জানান তারা।

কর্ণফুলী বাজারের ইজারাদার সোলায়মান জানান, রবিবার থেকে মানুষ বাজারমুখী হয়েছেন। তবে পশু তেমন বিক্রী হয়নি। শুধু দাম শুনে উল্টো দিকে হেঁটেছেন। তবে আজ মঙ্গলবার সকাল থেকে তিন শতাধিক গরু বিক্রি হয়েছে বলে জানান তিনি।

একই কথা বলেছেন সাগরিকা গরুর বাজারের ইজারাদার সাইফুল হুদা জাহাঙ্গীর। তিনি বলেন, আজ মঙ্গলবার সকাল থেকে প্রায় ৪০০ মতো গরু বিক্রি হয়েছে। গতকাল সোমবারও কিছু গরু বিক্রী হয়েছিল। তবে কাল পরশু বিক্রী আরও বাড়বে।

কুষ্টিয়া থেকে বিবিরহাটে ২৫টি গরু এনেছেন মানিক মিয়া। তিনি জানান, গতকাল তিনটি গরু বিক্রি করেছি। তবে আজ মঙ্গলবার সকালে ৭টি গরু বিক্রী হয়েছে। চাপাইনবাবগঞ্জ থেকে বাশার মোল্লা এনেছেন ৪৪টি গরু। তিনি জানান, তিন দিনে ৫টি গরু বিক্রি করেছি। আজ মঙ্গলবার সকাল থেকে ৪টি গরু বিক্রী হয়েছে।

তাদের অভিমত, ক্রেতারা বাজারমুখী হচ্ছেন। তবে এখনো পুরোদমে বেচাকেনা শুরু হয়নি। কারণ চট্টগ্রামের মানুষ স্বাভাবিকভাবে কোরবানির জন্য দুই-তিন আগে পশু কিনেন। রাখার জায়গা না থাকায় আগে-ভাগে পশু কেনেন না। সেই হিসেবে বাজার জমে উঠছে ধীরে।

জানা যায়, নগরীর স্থায়ী পশুরহাট সাগরিকা ও বিবির হাট ছাড়াও ৬টি অস্থায়ী বাজারে গরু বাজার বসেছে। এরমধ্যে কয়েকটি হাট সাপ্তাহিক হলেও কোরবানি উপলক্ষে ঈদের দিন শুক্রবার পর্যন্ত পশু বেচা-কেনা চলবে।

ইজারাদারদের অভিযোগ, পশুরহাট ছাড়াও নগরীর মোড়ে মোড়ে শতাধিক অস্থায়ী গরুর বাজার বসেছে। এসব বাজারের কারণে হাট ইজারাদাররা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। ইজারাদার সাইফুল হুদা জাহাঙ্গীর বলেন, ফইল্যাতলী বাজার, কলেজ রোড, পইল্ল্যাতলী স্কোয়ারসহ অন্তত ৬০ স্থানে অবৈধ বাজার গড়ে উঠেছে। এগুলো বসতে না পারলে পশুরহাটগুলো আরও জমত।

সরেজিমেন বাজার ঘুরে দেখা যায়, ভারতীয় গরুর চেয়ে দেশি জাতের গরু বেশি উঠেছে। কোরবানিদাতাদের কাছে দেশীয় জাতের গরুর চাহিদাও বেশি। কোরবানির পশুর হাটে এখনো ট্রাকে ট্রাকে পশু আসছে।

গবাদিপশু ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ মোস্তফা সওদাগর জানান, বিবিরহাটে গত বছর ৩০ হাজার কোরবানির গরু উঠেছিল। এবার ভারত ও মিয়ানমার থেকে গরু আসায় ৪০ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। সাগরিকা বাজারে ৭০ হাজারেরও বেশি গরু আনা হয়েছে।

চট্টগ্রাম জেলা প্রাণীস¤পদ কর্মকর্তা রেয়াজুল করিম জসিম জানান, চট্টগ্রাম মহানগর ও ১৪ উপজেলায় ৫ লাখ ৯১ হাজার পশুর চাহিদা নির্ধারণ করা হয়েছে। এরমধ্যে কোরবানিযোগ্য ৫ লাখ ২ হাজার ৪৩০টি পশু মজুদ আছে। কিন্তু দেশের বিভিন্ন প্রান্ত ও পাহাড় থেকে যে হারে গরু আনা হচ্ছে; তাতে চাহিদার চেয়ে ৫০ শতাংশ বেশি হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ফলে গরুর দাম পাওয়া নিয়ে খামারিরা শঙ্কিত। এ সময় এনথ্রাক্স কিংবা অন্যকোন রোগে আক্রান্ত পশু কি না সে বিষয়ে ক্রেতাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন তিনি।