চট্টগ্রাম, , মঙ্গলবার, ২১ আগস্ট ২০১৮

মিরসরাইয়ে জমে উঠেছে গরু-ছাগলের বাজার

প্রকাশ: ২০১৭-০৮-২৯ ১১:১০:৩৫ || আপডেট: ২০১৭-০৮-২৯ ১৬:১১:১৯

ক্রেতাদের পছন্দের শীর্ষে দেশী গরু

এম মাঈন উদ্দিন
মিরসরাই (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি

চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে জমে উঠেছে পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে গরু-ছাগলের বাজার। ঈদের বাকী আছে হাতে গোনা আর কয়েক দিন এরই মধ্যে জমে উঠতে শুরু করেছে উপজেলার বাজারগুলো। অন্যান্য বছরের তুলনায় এই বছর দেশী গরু ক্রয়ের প্রতি ক্রেতাদের বাড়তি আগ্রহ লক্ষ্য করা গেছে। তবে স্থানীয় বাজারগুলোতে দেশী গরুর পাশাপাশি ভারত, নেপাল, মায়ানমার থেকে বিক্রির জন্য আনা যথেষ্ট গরু রয়েছে। পাশ্ববর্তী দেশগুলো থেকে প্রতিদিন প্রচুর পরিমাণ কুরবানীর গরু আসতেছে এমন সংবাদে এবছর গরুর দাম তুলনামুলক কম।
দেশীয় পদ্ধতিতে লালন পালন করা গরুতে খরচ বেশী হওয়ায় বিক্রেতারা কম দামে গরু বিক্রিতে আগ্রহী না। আর দেশের বাহির থেকে গরু আসবে এমন খবরে ক্রেতারাও বেশী দামে দেশী গরু কিনতে সংশয়ে রয়েছেন। ঈদের আগ মহুর্তে পাশ্ববর্তী দেশ থেকে গরু আসলে হয়তো গরুর দাম কমতে পারে। ক্রেতারা বাজারে গিয়ে গরুর দাম দেখে রীতিমত অবাক। বাজারে গো খাদ্যের দাম বেশী হওয়ায় দেশী গরু লালন পালন করতে খরচ বেশী হয়েছে তাই কম দামে গরু বিক্রী করতেছেনা বিক্রেতারা। ইতমধ্যে উপজেলার ১৬টি ইউনিয়ন এবং দু’টি পৌরসভার প্রায় প্রতিটি বাজারে জমতে শুরু করছে কুরবানীর পশুর হাট।

জানা গেছে, প্রতি বছরের ন্যায় এবারও উপজেলার বাজারগুলোতে জিলহজ্ব মাসের চাঁদ উদিত হওয়ার শুরু থেকে প্রত্যেকটি বাজারে গরু-ছাগল বেচাকেনা শুরু হয়ে গেছে। উপজেলার মিঠাছরা বাজার, করেরহাট বাজার, বারইয়ারহাট পৌর বাজার, শান্তিরহাট, জোরারগঞ্জ, ঝুলনপোল, আবুরহাট দুর্গাপুর, মিঠাছরা, বামনসুন্দর, মিরসরাই পৌর বাজার, বড়তাকিয়া, নিজামপুর, কমলদহ, মৌলভী বাজার, হাদি ফকিরহাট, বড়দারোগারহাট বাজার ছাড়াও ঈদুল আযহা উপলক্ষে আরও ছোট ছোট কয়েকটি স্থানে বসেছে এবার কুরবানীর হাট। কোরবানী উপলক্ষ্যে বিভিন্ন ছোট বাজারগুলোতে পশুর হাট বসায় বড় বাজারগুলোর চাহিদা কমে গেছে ক্রেতাদের কাছে। বড় বাজারের ইজারাদাররা সরকারকে রাজস্ব দিয়ে ব্যবসা করে কিন্তু প্রত্যেক বছর ঈদ উপলক্ষ্যে স্থানীয় প্রভাবশালীরা বিভিন্ন ছোট বাজারগুলোতে পশুর হাট বসানোর কারণে রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার। দেশীয় পশু কেনার ক্ষেত্রে মোটতাজা পশুতে পাম ইনজেকশান ব্যবহার হয়েছে কিনা এমন ভয়ে অনেকে দেশী পশু কেনা থেকে বিরত থাকছেন। তাছাড়া জাল নোট পরীক্ষার জন্য বিভিন্ন বাজারে বসানো হচ্ছে মেশিন। ঈদের আরো ৪ দিন বাকি থাকাতে এখনো অধিকাংশ বাজারে পশুর হাট বসলেও বিক্রি হচ্ছে কম। যেসব বাড়ীতে কুরবানীর পশু দেখাশুনার লোক রয়েছে এমন পরিবার আগে থেকে পশু কেনা শুরু করেছেন। আর যেসব পরিবার চাকুরীজীবি বা পশু দেখাশুনা করার মত কেউ নেই ওইসব পরিবার এখনো কুরবানীর গরু কিনতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। তবে এক্ষেত্রে অনেকে যতদিন যাচ্ছে তত দাম কমবে এমন বিষয়টিও বিবেচনা করছেন।

গরু ব্যবসায়ী ইব্রাহীম হুজুর বলেন, অন্যান্য বছরের তুলনায় এবছর পাশ্ববর্তী দেশ থেকে প্রচুর পরিমাণে গরু আসতেছে। ফলে ক্রেতা সাধ্যের মধ্যে গরু কিনতে পারতেছেন। ঈদের এখনো কয়েকদিন বাকী থাকায় গরুর দাম কমবে এমন আশায় অনেকে গরু কিনতেছেন না। শেষে হয়তো গরুর দাম বাড়তেও পারে অথবা কমেও যেতে পারে।

উপজেলার সবচেয়ে বড় গরুর বাজার মিঠাছরা বাজারে গিয়ে দেখা যায়, অন্যান্য বছরের চেয়ে এবার বাইরের গরু কম আর দেশী গরু বেশী। সপ্তাহের রবিবার আর বৃহস্পতিবার বসে এখানে গরু এবং ছাগলের বাজার। দেশী গরুর পাশাপাশি নেপাল, ভারত, মায়ানমার থেকে বিক্রির জন্য আনা গরুতে ভরপুর বাজার। অনেকে গরুর অতিরিক্ত দামের কারণে এখনো গরু কিনছেন না। মিঠাছরা বাজারের অন্যতম বৈশিষ্ট হলো দেশীয় গরু। দেশীয় গরু কেনার জন্য এখানে বিভিন্ন বাজার থেকে পাইকাররা এসে প্রতিবছর ভিড় জমান।

চট্টগ্রাম সিডিএ মার্কেট থেকে আসা গরু ব্যবসায়ী জামাল জানান, মিরসরাইয়ের বিভিন্ন বাজারে দেশী গরু উঠে কুরবানীর জন্য। প্রতিবছর আমরা শহর থেকে পাইকারীতে গরু কিনতে এখানে আসি। বিশেষ কওে মিঠছরা বাজার। যেখানে পুরো উপজেলা থেকে গরু আনা হয় বিক্রির জন্য।

উপজেলার মিরসরাই ইউনিয়নের কৃষক মুহিম ত্রিপুরা বলেন, ঈদ উপলক্ষ্যে ৪-৫ মাস পূর্বে দুই জোড়া বলদ গরু কিনেছি ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা দিয়ে বিক্রির জন্য। বাজারে গো খাদ্যের দাম বেশী হওয়ায় দু’টি গরুতে অনেক টাকা খরচও হয়েছে। গত রবিবার মিঠাছরা বাজারে বলদ দু’টি ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা উঠেছে। পাশ্ববর্তী দেশ থেকে কুরবানীর গরু আসতেছে এমন গুজবের কারনে বাজাওে ক্রেতা থাকলেও গরুর দাম কম। অথচ প্রতি গরুতে আমার দশ হাজাটর টাকা খরচ হয়েছে। সরকার যদি অন্য দেশ থেকে গরু আনা বন্ধ করে দিতো তাহলে আমরা গরু লালন পালন করে দাম পেতাম।

মিঠাছরা বাজারে মিরসরাই পৌরসভা থেকে গরু কিনতে আসা মো. আলা উদ্দিন বলেন, এবার ঈদে অন্যান্য বছরের তুলনায় বাইরের গরু এখনো তেমন আসে নাই। তবে যথেষ্ট পরিমাণ দেশী গরু রয়েছে। দেশের বাহির থেকে গরু আসবে এমন খবরে বাজারে গরু বেচাকেনা কম।

কমলদহ ও নিজামপুর বাজারের ইজারাদার আশরাফুল কামাল মিঠু বলেন, প্রতি বছরের ন্যায় এবারও এই দুই বাজারে দেশীয় গরুর সরবারহ এবং চাহিদা বেশী।

মিঠাছড়া বাজারের ইজারাদার আক্তারুন্নবী শামীম বলেন, আমি কোটি টাকা খরচ করে মিঠাছড়া বাজার ইজারা নিয়েছি ব্যবসার উদ্দেশ্যে। কিন্তু ঈদ উপলক্ষ্যে বিভিন্ন স্থানীয় বাজারে ইতোমধ্যে গরুর বাজার বসতে শুরু করেছে। যেসব বাজার থেকে সরকার রাজস্ব পায় উপজেলা প্রশাসন ওই বাজার গুলোকে কোন সহায়তা করতেছেনা। বিগত বছরগুলোর ধারাবাহিকতায় এবারও উপজেলার পাত্তারপুকুর, ফকিরহাট, চৈতন্যেরহাট বাজারে ইজারা না হলেও গরুর বাজার বসেছে।

সহকারী পুলিশ সুপার (মিরসরাই সার্কেল) ইঞ্জিনিয়ার মাহবুবুর রহমান বলেন, ঈদুল আযহার গরুর বাজার উপলক্ষে উপজেলার বিভিন্ন গরুর বাজারগুলোতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। নিরাপত্তার জন্য প্রত্যেক বাজারে সাদা পোশাকের পুলিশের পাশাপাশি পুলিশের বিশেষ টিম কাজ করতেছে।