চট্টগ্রাম, , শনিবার, ১৮ আগস্ট ২০১৮

চট্টগ্রামে ভদ্রলোকের বাস দেখে বিদ্যুতের লোডশেডিং!

প্রকাশ: ২০১৭-০৮-২৭ ১৭:৪৪:৩২ || আপডেট: ২০১৭-০৮-২৮ ১১:৩০:৫০

ইব্রাহিম খলিল
প্রধান প্রতিবেদক,সিটিজি টাইম্‌স 

গেলে ১৫ থেকে ২০ মিনিট। আসলে থাকে ১ থেকে ৩ মিনিট থাকে। এভাবে দিনের বেশিরভাগ সময় ঘন্টায় ৩ বার বিদ্যুতের লোডশেডিং হচ্ছে চট্টগ্রাম মহানগরীতে। তবে সবখানে নয়, ভদ্রলোকের বসবাসের এলাকাগুলোতেই হচ্ছে বেশি।

এমন কথাই জানালেন নগরীর চান্দগাঁও আবাসিক এলাকার হাজী নজরুল ইসলাম। মোহাম্মদপুর আবাসিকের জমির হোসেন ও নুরুল আলম। এশিয়ান হাউজিং সোসাইটির ইঞ্জিনিয়ার বাহাদুর শাহ, মৌসুমি আবাসিকের খায়রুল আলম ও নিলুফার ইয়াসমিনসহ আরও অনেকে।

তারা জানান, প্রতিদিন ভোর ৬টায় বিদ্যুৎ যায় আসে ৮টায়। ৯টায় গেলে আসে ১১টায়। ১টা থেকে শুরু হয় বিদ্যুতের মিসকল। গেলে ১৫ থেকে ২০ মিনিট। আসলে থাকে ১ থেকে ৩ মিনিট। এভাবে চলে রাত ১২ টা পর্যন্ত। এরপর রাত ১টায় যায় ২টায় আসে। আড়াইটায় যায় ৪টায় আসে। ৪ টা থেকে ৬ টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ থাকে। যা দিনের সর্বোচ্চ সময়।

এশিয়ান হাইজিং সোসাইটির ইঞ্জিনিয়ার বাহাদুর শাহ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বিদ্যুতের লোডশেডিংয়ে প্রতিদিন ২/১টি বাল্ব ও টিউবলাইট নষ্ট হচ্ছে। নষ্ট হচ্ছে টিভি, ফ্রিজ ও শীতাতাপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র। বিদ্যুতের আসা-যাওয়ায় মুঠোফোনে চার্জ দেওয়া সম্ভব হয় না। বাসাবাড়িতে কম্পিউটার খুলে কাজ করা যায় না। বিদ্যুতের কারণে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা ঠিকমতো পড়তে পারছে না। মাসজুড়ে এভাবে বিদ্যুতের লোডশেডিং হলেও বিদ্যুৎ বিল কম হয় না।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, আবাসিক এলাকাগুলোতে বিদ্যুতের এমন লোডশেডিং থাকলেও পাশ্ববর্তি স্থানীয় বসতি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোতে বিদ্যুতের তেমন লোডশেডিং নেই। ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোতে দিনে একবার মাঝে-মধ্যে দু‘বার বিদ্যুতের লোডশেডিং হলেও স্থানীয় বসবাসকারী এলাকায় বিদ্যুৎ একদম যায় না।

চান্দগাঁও আবাসিক এলাকার বাসিন্দা হাজী নজরুল ইসলাম জানান, দিনে ১৫-২০ বার বিদ্যুতের লোডশেডিং হলেও পাশ্ববির্ত ফরিদের পাড়া ও শমসের পাড়া এলাকায় একবারও লোডশেডিং হয় না। এতে আবাসিক এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভের সঞ্চার হলেও ভদ্রলোক বলে সবার মুখ বন্ধ।

এ ব্যাপারে ফরিদের পাড়া এলাকার বাসিন্দা মুরাদ হোসেন বলেন, গত কয়েকবছর আগে ফরিদের পাড়া এলাকায়ও বিদ্যুতের এমন লোডশেডিং ছিল। এ সময় স্থানীয় লোকজন বিদ্যুৎ অফিস ঘেরাও করে সংশ্লিষ্টদের পিটুনি দেওয়ায় লোডশেডিং হয় না। ভদ্রলোকের বাস বলেই আবাসিক এলাকায় এখন লোডশেডিং হচ্ছে বেশি।

এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে চট্টগ্রাম জেলা বিদ্যুৎ বিভাগের এক প্রকৌশলী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, কোনো এলাকায় দিনে একবার সর্বোচ্চ এক ঘন্টার বেশি বিদ্যুৎ লোডশেডিং করার কথা নয়। কিন্তু সংশ্লিষ্ট কতিপয় লোকজন চট্টগ্রাম মহানগরের আবাসিক এলাকাগুলোতে অসহনীয় বিদ্যুৎ লোডশেডিং করে যাচ্ছে। যার দ্বারা সরকারের ভাবমুর্তিও ক্ষুন্ন হচ্ছে।

চট্টগ্রাম চান্দগাঁও আবাসিক, মোহাম্মদপুর ও এশিয়ান হাউজিং সোসাইটিতে বিদ্যুৎ সরবরাহকারী কালুরঘাট বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক আমিনুল ইসলাম বলেন, আবাসিক এলাকাগুলোতে বিদ্যুৎ সরবরাহ লাইন ঝুঁকিপূর্ণ এবং ট্রান্সফরমারগুলো অতিরিক্ত লোডেড। ফলে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা যায় না। বাধ্য হয়েই লোডশেডিং করতে হচ্ছে। একই কথা বলেছেন মৌসুমি আবসিক, নাসিরবাদ ও হালিশহর আবাসিক এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহকারী আগ্রাবাদ বিদ্যুৎ বিতরণ কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক মুহাম্মদ ইরফানুল কিবরিয়াও।

যা মানতে নারাজ এসব আবাসিক এলাকার ভুক্তভোগীরা। তাদের মতে, জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, বিদ্যুৎ বিভাগের লোকজন যেখানে বাস করেন সেখানে বিদ্যুৎ সরবরাহে কোনো ঝুঁিক নেই। সর্বক্ষণ বিদ্যুৎ থাকে সেখানে। স্থানীয় লোকজনের বসবাসের এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক থাকে সারাদিন। ঝুঁকি শুধু আবাসিক এলাকায়, যা অজুহাত মাত্র। আবাসিক এলাকায় বিদ্যুতের এমন লোডশেডিংয়ের নেপথ্যে দুরভিসন্ধি রয়েছে বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।

চট্টগ্রাম বিদ্যুৎ বিতরণ বিভাগের নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রিয়াজুল হক এ প্রসঙ্গে বলেন, দিনে একঘন্টা এবং একবারের চেয়ে চট্টগ্রামের কোথাও বিদ্যুতের লোডশেডিং হচ্ছে তা আমার জানা নেই। এ ব্যাপারে খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।