চট্টগ্রাম, , বৃহস্পতিবার, ১৬ আগস্ট ২০১৮

আছে পশু-নেই ক্রেতা : পাহাড় ধসের প্রভাব রাঙামাটির পশুর হাটগুলোতে

প্রকাশ: ২০১৭-০৮-২৬ ১৮:০৩:০০ || আপডেট: ২০১৮-০৮-০৭ ০৭:০০:২২

আলমগীর মানিক
রাঙামাটি থেকে

মুসলিমদের বড় ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে রাঙামাটি ট্রাক টার্মিনালে বসেছে কোরবানি একমাত্র পশুর হাট। প্রতি বছর রাঙামাটির দুই থেকে তিনটি স্থানে কোরবানি পশুর হাট বসলেও এইবার শুধু মাত্র একটি স্থানে বসেছে এই পশুর হাট। শনিবার কোরবানি পশুর হাটের প্রথম দিন, তাই ট্রাক টার্মিনালে সরজমিনে গিয়ে দেখা যায় প্রায় ৪-৫ শত গরু এবং শত খানিক ছাগল থাকলেও প্রথম বাজারে দেখা নেই পর্যাপ্ত ক্রেতা। পর্যাপ্ত গরু বাজারে আছে এমন অভিযোগে প্রতিদিন শত শত ট্রাক গরু বোঝায় করে চট্টগ্রাম সহ সারাদেশে চলে যাচ্ছে। এতে অত্র বাজারে গুরুর সংকট থাকায় দাম বেশি মনে করছেন গরু দেখতে আসা ক্রেতারা। অন্যদিকে বাজার ঘুরে দেখা যায় এবার বাজারে গরুর মূল্য ৫০ থেকে ৯৫ হাজার টাকা এবং ছাগল ১৫ থেকে ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত দাম দেওয়া হয়েছে। ক্রেতারা অভিযোগ করছেন গত বছরের চেয়ে এবার দাম অনেক বেশি।

হাটে আসা গরু ব্যবসায়ি আব্দুল রশিদ বলেন, ‘আমি লংগদুর মাইনি থেকে ৬০টি গরু এবং ১০টি ছাগল নিয়ে এসেছি। শনিবার প্রথম বাজার উপলক্ষে তেমন কোন ক্রেতার দেখা নেই। আশা করছি আগামী দুই তিন দিনের মধ্যে বিক্রি বাড়বে। তবে পাহাড় ধসের প্রভাব পরবে বলে আশংঙ্খা জানিয়ে তিনি বলেন, রাঙামাটিতে পাহাড় ধসের ফলে দীর্ঘ দিন সকল ব্যবসা বন্ধ ছিলো। ফলে যারা কোরবানি মূল ক্রেতা তারাও এইবার তেমন একটা পশু কিনবে না বলে আশংঙ্খা করছি। যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি হওয়া এবং বেশি দামে গরু বিক্রির জন্য অনেকে চট্টগ্রাম সহ ঢাকা শহরেও অনেক ব্যবসায়ী গরু নিয়ে যাওয়ার কথা স্বীকার করলে এই ব্যবসায়ী।

মৌসুমি গরু ব্যবসায়ী কাঁলাচান চাকমা বলেন, ‘আমি ৬টি গরু নিয়ে বরকলের সুবলং থেকে এসেছি। গত কয়েক বছর প্রথম বাজারে যেভাবে ক্রেতাদের ভির দেখেছি কিন্তু এইবার তেমন ক্রেতা নেই। আশা করছি কয়েক দিনের মধ্যে ক্রেতার দেখা মিলবে’।

আরেক ব্যবসায়ী হারুন বলেন, ‘আমি সুবলং থেকে ৮টি গরু নিয়ে এসেছি। অনেকে দাম জিজ্ঞাস কওে চলে যাচ্ছে, কেউ নিচ্ছে না। এইবার ক্রেতাদের মধ্যে উৎসাহ দেখছি না। প্রতিটি গরুর মূল্য ৬০ থেকে ৯০ হাজার টাকা পর্যন্ত নির্ধারণ করেছি’। তিনি আরো বলেন, ‘রাঙামাটি মূল ক্রেতা হচ্ছে গাছ ব্যবসায়িরা। গত কিছুদিন পূর্বে রাঙামাটিতে পাহাড় ধসের কারণে গাছ ব্যবসা বন্ধ ছিলো দীর্ঘ দিন। তাই এইবার গরুর মূল্য পাবো কি না তা নিয়ে আমরা আশঙ্কায় আছি’।

গরু কিনতে আসা ক্রেতা জাকির হোসেন লিটন বলেন,‘শনিবার কোরবানি বাজারের প্রথম দিন। গরুর দাম দেখতে এসেছি। বাজারে পর্যাপ্ত গরু আছে তবে দাম গতবারের চেয়ে অনেক বেশি। এবার দাম কম হওয়ার কথা। আশা করছি আগামী কয়েকদিন গেলে মূল্য কিছুটা কমতে পারে’।

তিনি আরো বলেন, ‘সাধারণ মানুষ কোরবানি গরু কিনে কোরবানি কয়েকদিন আগে কারণ গরু রাখা এবং লালন-পালন করার কিছু সমস্যা আছে। তাই কোরবানির কয়েকদিন আগে গরু ক্রয় করবেন বলে জানান এই ক্রেতা।

গরু কিনতে আসা আরেক ক্রেতা মিজান জানালেন, ‘বাজারে কোনবানির পশু আছে পর্যাপ্ত পরিমাণে। কিন্তু দাম দিচ্ছে অধিকমাত্রায়। তাই আপাতত কয়েকদিন দেখবো। দেখা যাক দাম কমে কিনা’।

ট্রাক টার্মিনালের ইজারাদার সাওয়াল উদ্দিন জানান, ‘রাঙামাটিতে এবার একটি মাত্র কোরবানি পশুর হাট বসেছে। এই হাটে পর্যাপ্ত গরু এবং ছাগল রয়েছে। প্রথম বাজার অনুসারে মোটামোটি ক্রেতার ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে, আশা করছি কয়েক দিনের মধ্যে ক্রেতার ভিড় আরো বাড়বে’। তিনি আরো জানান, পাহাড় ধসের ফলে কিছুটা প্রভাব পরতে পারে এইবার কোরবানি হাটে। কারণ রাঙামাটি প্রায় কোরবানি পশুর ক্রেতা হচ্ছে গাছ ব্যবসায়িসহ বড় বড় সওদাগর। পাহাড় ধসে দীর্ঘদিন ব্যবসা বানিজ্য বন্ধ ছিলো। তবুও আশা করছি তেমন একটা খারাপ হবে না। প্রতি হাজারে ২০ টাকা হাসিল ধরা হলেও সে পরিমাণে নেওয়া হচ্ছে না। সবকিছু মিলে হাজারে ৭-৮ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।