চট্টগ্রাম, , বুধবার, ২২ আগস্ট ২০১৮

ফটিকছড়িতে এক রাতে দুই অগ্নিকান্ড: পুড়ে ছাই ৭ বসতঘর ও ৬ দোকান

প্রকাশ: ২০১৭-০৮-২৬ ১৪:০৪:০১ || আপডেট: ২০১৭-০৮-২৬ ১৮:১০:১৮

মীর মাহফুজ আনাম
সিটিজি টাইমস প্রতিবেদক

ফটিকছড়িতে একই রাতে দু‘টি অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার দিবাগত রাতে উপজেলার সমিতিরহাট ইউনিয়নের ছাদেক নগর ও সুয়াবিল বারমাসিয়া চৌমহনী এলাকায় এসব অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটে। পৃথক এ দুই ভয়াবহ অগ্নিকান্ডে পুড়ে ছাই হয়ে ঘেছে ৭ বসতঘর ও ৬ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। এ ছাড়া আরো দুই বসতঘরের আংশিক পুড়ে গেছে। উভয় ঘটনায় প্রায় ৭০ লক্ষ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে প্রাথমিক ধারণা।

প্রত্যক্ষদর্শী ও ফায়ার সার্ভিস সূত্র জানায়, উপজেলার সমিতিরহাট ইউপির ছাদেক নগর গ্রামের মুরাদ কাজীর বাড়িতে রাত ১২ টার দিকে আগুন লাগে। ধারণা করা হচ্ছে জাহাঙ্গীর আলম নামক এক কৃষকের ঘোয়াল ঘরের মশার কয়েল থেকে আগুনের সূত্রপাত। মুহূর্তেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে পুরো বাড়িতে। পুড়ে ছাই হয়ে যায়, কৃষক জাহাঙ্গীর, প্রবাসী আবুল মনসুর, দিল মোহাম্মদ, আনোয়ার হোসেন, বদিউল আলম, আবুল বশর, দাবির আহম্মদ এর কাঁচা ঘর। এ ছাড়া মুক্তিযোদ্ধা ফয়েজ আহম্মদ ও মো. আব্দুল্লাহ এর কাঁচা ঘর আংশিক পুড়ে গেছে।

স্থানীয় সমাজকর্মী ইয়থ বয়েস ব্লাড ডোনেশন গ্র“পের প্রতিষ্ঠাতা আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন,‘ ফায়ার সার্ভিসের কর্মী ও স্থানীয়দের প্রায় দু‘ঘন্টা প্রাণপন চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রনে আসে। অগ্নিকান্ডে আনোয়ার হোসেনের একধিক শিক্ষা সনদ ও তার মায়ের পাসপোর্ট পুড়ে ছাই হয়ে যায়। কাতার প্রবাসী আবুল মুনছুর ঘটনার এক ঘন্টা পূর্বে প্রবাস থেকে মালামাল নিয়ে ঘরে ডুকেছিলেন। তার সব মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।’

সকালে অগ্নিকান্ডস্থল পরিদর্শণ করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দীপক কুমার রায় ও স্থানীয় চেয়ারম্যান হারুন অর রশিদ ইমন। চেয়ারম্যান প্রত্যক পরিবারকে ব্যক্তিগত তহবিল হতে নগদ এক হাজার টাকা করে অনুদান দান।

এ দিকে রাত ২ টার দিকে অপর অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটে উপজেলার সুয়াবিল ইউনিয়নের বারমাসিয়া গ্রামের চৌমহনীতে। যেখানে ৬ টি দোকান সম্পূর্ণ পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আবু তালেব চৌধুরী বলেন,‘ রাতের অন্ধকারে আগুনে পুড়ে যায়, আবছারের ফার্নিচার দোকান, পঙ্কজ দেবে কুলিং কর্ণার, জাহাঙ্গিরের কুলিং কর্নার, শাহালমের কলিং কর্নার, মাষ্টার নাজিমের কম্পিউটারের দোকান, ইদ্রিছের সাইকেলের গ্যারেজ।

বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত বলে ধারণা। রাতে সবাই ঘুমন্ত ছিল বলে এবং ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা সমিতিরহাটে অপর অগ্নিকান্ড নেভানোতে ব্যস্ত থাকায় আগুন নিয়ন্ত্রন করতে সময় লাগে। এতে দোকানগুলোর মালামাল বের করা সম্ভব হয়নি। এখানে প্রায় ব্যবসাীয়দের ৩৪ লক্ষ টাকার মালামাল ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।