চট্টগ্রাম, , মঙ্গলবার, ১৪ আগস্ট ২০১৮

পাঞ্জাব-হরিয়ানায় আগুন-ভাঙচুর-গুলি, নিহত ৩১

প্রকাশ: ২০১৭-০৮-২৬ ১১:০১:১৫ || আপডেট: ২০১৭-০৮-২৬ ১১:০১:১৫

ধর্ষণের মামলায় আলোচিত ধর্মগুরু গুরমিত রাম রহিম দোষী সাব্যস্ত হবার পর ভারতের পাঞ্জাব ও হরিয়ানায় সহিংসতায় এ পর্যন্ত অন্তত ৩১ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এরা সবাই গুরমিত রাম রহিমের ক্ষুব্ধ ভক্ত বলে ধারণা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে তারা দুটি রেল স্টেশনে আগুন লাগিয়ে দিয়েছে। রাস্তায় রাস্তায় গাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুর চালাচ্ছে।

এর আগে ধর্ষণ মামলায় আলোচিত ধর্মগুরু গুরমিত রাম রহিম সিংকে শুক্রবার (২৫ আগস্ট) দোষী সাব্যস্ত করেন আদালত। সেন্ট্রাল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (সিবিআই) একটি আদালত শুক্রবার এ রায় দিয়েছেন। আগামী সোমবার সার সাজা ঘোষণা করা হবে। এ অপরাধের শাস্তি হিসেবে রাম রহিমের ৭ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে।

ভারতীয় সংবাদ মাধ্যমগুলো বলেছে, বিকেলে এই রায় ঘোষণার পর রাম রহিমের ভক্তরা তাণ্ডব শুরু করেছে। দেশটির হরিয়ানা রাজ্যের পুলিশ এরই মধ্যে তাকে নিজেদের হেফাজতে নিয়েছে। একটি হেলিকপ্টারে করে আদালত থেকে তাকে রোহতাক কারাগারে নেয়ার কথা রয়েছে।

প্রায় ১৫ বছর আগে, ২০০২ সালে রাম রহিমের এক সাবেক নারী ভক্ত এ মামলা করেছিলেন। ওই নারীর অভিযোগ, হরিয়ানার শহর সিরসায় ডেরা সাচ্চা সৌদা গোষ্ঠীর প্রধান কার্যালয়ে রাম রহিম তার ওপর যৌন নির্যাতন করেন। এ মামলার পর রাম রহিমের অজস্র অনুসারী ক্ষোভে উন্মত্ত হয়ে উঠেছিলেন। ১০ বছর ধরে প্রায় ২০০টি শুনানির পর শুক্রবার এ মামলার রায় দেয়া হলো। এই সময়ের মধ্যে অসংখ্যবার উচ্চ আদালত এ মামলার বিচারকাজে স্থগিতাদেশ দিয়েছেন।

শুক্রবারের রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে আদালত প্রাঙ্গণ, সংশ্লিষ্ট এলাকা ও পুরো পঞ্চকূলা শহরে কড়া নিরাপত্তাব্যবস্থা নেয়া হয়। পাঞ্জাব ও হরিয়ানা রাজ্যজুড়ে পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনী মোতায়েন করা হয় এবং তাদের সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়। এমনকি সেনাবাহিনীকেও প্রস্তুত রাখা হয়েছে। রায় শোনার জন্য মোট ২০০টি গাড়ির এক বিশাল বহর নিয়ে আদালতে উপস্থিত হন রাম রহিম। উপস্থিত ছিলেন তার লক্ষাধিক অনুসারী।

ভারতীয় সংবাদ মাধ্যমগুলো বলছে, শুক্রবার পাঁচকুলার বিশেষ সিবিআই আদালত ধর্ষণ মামলায় ডেরা প্রধান বাবা রাম রহিমকে দোষী সাব্যস্ত করতেই উত্তাল হয়ে ওঠে পাঞ্জাব-হরিয়ানা। প্রথমে আদালত চত্বরের বাইরে শুরু হয়ে যায় প্রবল তাণ্ডব। লাঠি, বাঁশ, ইট-পাথর নিয়ে পুলিশের উপর হামলা হয়। লাঠি চালিয়ে এবং কাঁদানে গ্যাসের শেল ফাটিয়েও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে না পেরে পুলিশ গুলি চালায়।এতে অন্তত ৩১ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। জখম প্রায় ২৫০ জন। তবে তাণ্ডব শুধু পাঁচকুলায় সীমাবদ্ধ নেই। পঞ্জাবের দু’টি রেলওয়ে স্টেশনে ইতিমধ্যেই আগুন লাগিয়ে দিয়েছেন রাম রহিমের অনুগামীরা। ২ রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় থানা এবং সরকারি দফতরে আগুন লাগানো হয়েছে। পাঁচকুলায় জারি হয়েছে কার্ফু। পঞ্জাবের ভাতিন্ডা, মনসা, মুকতাসর, ফিরোজপুরেও কার্ফু জারি হয়েছে।

রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ হিংসাত্মক ঘটনাবলীর নিন্দা করেছেন। টুইটার বার্তায় তিনি বলেছেন, ‘আদালতের রায় ঘোষণার পরে হিংসা এবং সরকারি সম্পত্তি ধ্বংস করা ভীষণভাবে নিন্দনীয়। সব নাগরিকের কাছে শান্তি বজায় রাখার আহ্বান জানাচ্ছি।’ কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী রাজনাথ সিংহও একই আহ্বান জানিয়েছেন। পাঞ্জাব ও হরিয়ানার পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন কংগ্রেস সভানেত্রী সনিয়া গান্ধী।