টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

সিটিজি টাইমসের সম্পাদকীয় নীতি ও নৈতিকতা

চট্টগ্রাম, ০২ মে ২০১৭ (সিটিজি টাইমস):: হঠাৎ মনে পড়ল আমি মসরুর জুনাইদকে অনেকে চিনেন কিন্তু জানেন না। চট্টগ্রামের প্রথম জনপ্রিয় নিউজ পোর্টাল সিটিজি টাইমস ডটকমের সম্পাদক ও প্রকাশক হিসেবে আমার নীতি ও নৈতিকতা প্রকাশ করা দরকার। তাই সিটিজি টাইমস ডটকমের পাঠকদের জন্য আমার এ প্রয়াস।

২০১২ সালের শুরুতে আনলাইন নিউজ পোর্টাল হিসেবে সিটিজি টাইমস ডটকমের যাত্রা শুরু। বাংলাদেশে অনলাইন নিউজ পোর্টালের ডানা মেলতে শুরু করেছে সবে। বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর এ স্বপ্ন যেন স্বপ্নের মতই দুয়ার খুলতে শুরু করে। সরকার ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার কথা বললেও তখন এত সংখ্যক মানুষের মতো কেউ সেটা কি জিনিস বুঝতোই না।

গুটি কয়েক মানুষ যখন এ ডিজিটাল বাংলাদেশের জানালায় উঁকি মারছিল তখন আমিও এসে দাড়িয়েছিলাম এই সারিতে। ২০০১ সালে হট মেইলের মাধ্যমে অনলাইন জগতে হাতেখড়ি আমার। সেখান থেকে আজ আমি একজন ডিজিটাল কর্মী এবং জনপ্রিয় নিউজ পোর্টাল সিটিজি টাইমস ডটকমের সম্পাদক ও প্রকাশক।

কেন এবং কিভাবে জড়ালাম
সিটিজি টাইমস ডটকমের মাধ্যমে আমার জীবনের পথচলা। কিন্তু এর আগে কেন এবং কিভাবে এই অনলাইন জগতে এসে পড়লাম তা না বললে নয়। কারন আমার পথ হতে পারে হাজারো মসরুর জুনাইদের বেঁচে থাকার অবলম্বন।

বেকারত্বের অভিশাপ থেকে মুক্তির পথ। যেভাবে পথ খোঁজে নিয়েছি আমি। তবে এ জন্য বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী ও বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা এবং তারই সন্তান সজীব ওয়াজেদ জয়ের কাছে কৃতজ্ঞতা স্বীকার করতে হয়; যাদের কারনে ডিজিটাল বাংলাদেশ কি বুঝেছে, পেয়েছে মানুষ।

নিন্ম মধ্যবিত্ত পরিবারের আমার জন্ম। তবে সাতকানিয়া উপজেলার সবচেয়ে অভিজাত পরিবারগুলোর একটি আমাদের পরিবার। ছোট বেলায় দূরন্ত (দুষ্ট) থাকলেও বড় হওয়ার সাথে সাথে সাতকানিয়ার ঐতিহ্য অনুযায়ী ব্যবসায়িক মন-মানসিকতা নিয়ে বড় হতে থাকি। ছাত্রজীবনে (অষ্টম শ্রেণী) শুরু করি বই-খাতা, কলম ব্যবসা। ২০০৬ সালে থেকে আউটসোর্সিং এর পাশা-পাশি শুরু করি আইটি ব্যবসায়ী। পাশা-পাশি লেখালেখির প্রতি ঝোঁক ছিল একটু বেশি। তাই গণমাধ্যমকে বেচে নিই।

সাংবাদিকতায় ১৬ বছর..

২০০১ সালে মাসিক সংস্কার নাম এক কিশোর পত্রিকায় কিশোর রিপোর্টার হিসাবে সাংবাদিকতা শুরু। এরপর সাতকানিয়া প্রতিনিধি হিসাবে দৈনিক জাগরন ও বার্তাসংস্থা এমএনএ কাজ করি বেশ কিছু দিন। এরপর জীবিকার তাগিদে স্টাফ রিপোর্টার হিসেবে যোগদান করি চট্টগ্রামের দৈনিক কর্ণফুলি পত্রিকায়। কিন্তু শুরু থেকে ধাক্কা খেতে থাকি পত্রিকার সম্পাদকীয় নীতি ও নৈতিকতার। যার সাথে তাল মিলাতে না পারায় প্রায় মালিক পক্ষের অমানবিক, অসৌজন্যমূলক আচরণের মুখোমুখি হই। ফলে কয়েকমাস পর দে ছুট।

বলা বাহুল্য এ অবস্থার সম্মুখীন শুধু আমি নই। আমার মতো অনেকেই হোঁচট খেয়েছেন এ পত্রিকার মালিক পক্ষের ধাক্কায়। যারা দল-মতের উর্ধ্বে থেকে ন্যায় ও নিষ্ঠার পথিক ছিলেন। তবে কর্ণফুলি পত্রিকায় কাজ করে পিঠে তকমা লেগেছে। কর্ণফুলী ছেড়ে আসার এত বছর পরও যা লেগে আছে। এ নিয়ে বলেন। সন্দেহ পোষণ করেন!!

রাজনীতি
২০০৬ সাল থেকে আজ পর্যন্ত কোনো রাজনৈতিক দলের সাথে আমার নূন্যতম সম্পর্ক নেই। এর আগেও আমি পদ-পদবি নিয়ে কোনো রাজনীতি করিনি। এমনকি মা-বাবা, চাচা-চাচীরাও কোন দিন রাজনীতি করেনি। আমার বাবা একজন সহজ সরল শিক্ষক। হয়তো সে কারনে রাজনীতি ছুঁতে পারেনি।

আমার পরিচয় একজন ব্যবসায়ী, ডিজিটাল কর্মী, সর্বোপরি একজন সংবাদকর্মী। সিটিজি টাইমস ডটকমের সম্পাদক ও প্রকাশক হিসেবেও আমি যে কোন রাজনৈতিক দলের সাথে সক্রিয়ভাবে জড়িত নয় তার প্রতিবেদন রয়েছে দেশের একাধিক এবং সর্বোচ্চ গোয়েন্দা সংস্থার কাছেও।

আয়ের উৎস :
আগেই বলেছি আমি একজন আইটি ব্যবসায়ী। একজন সাংবাদিক। বর্তমানের সবচেয়ে জনপ্রিয় পেশা” আউটসোর্সিং ”চট্টগ্রামে প্রথম ২০০৬ সালে যাত্রা শুরু হয় আমার হাত ধরে (কারো অর্থায়নে নয় নিজের পকেটের পয়সায়)।

আউটসোর্সিংকে জনপ্রিয় করতে কাজ করি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে। আইটি ব্যবসায়ী আমার আয়ের মূল উৎস। কারো অর্থায়নে নয়, নিজে কাজ করি জীবিকা নির্বাহ করি। প্রতিষ্ঠান চালায় নিজের কষ্টার্জিত অর্থ দিয়ে। আমার গর্ব একটাই, এই পর্যন্ত আসতে কেউ কখনো আমাকে অর্থায়ন করেনি; এমন কি আত্মীয় স্বজনও !!!

দায়বদ্ধতা
নিজে কাজ করি কিন্তু মনে করি এদেশের প্রতিটি মানুষের, সমাজের প্রতি আমি দায়বদ্ধ। সে দায়বদ্ধতা থেকে সিটিজি টাইমস ডটকমের যাত্রা। একজন সংবাদকর্মী হিসেবে মানুষের কাছে বস্তুষ্ঠি সংবাদ পৌছে দেওয়ার সেবাই ব্রত হই। কোন ব্যক্তি বা গোষ্ঠি নয়, দেশের প্রতিটি নাগরিক আমার কাছে বড়। দল নয় দেশ এবং রাষ্ট্রই সর্বার্গ্রে। ব্যক্তি, গোষ্ঠি, দলের যেই হোক একজন সুনাগরিকই দেশের বড় সম্পদ। এটাই আমার মূলনীতি ও নৈতিকতা।