টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

সীতাকুণ্ড ট্র্যাজেডি: এ ভুল অমার্জনীয় অপরাধ

চট্টগ্রাম, ১৭ জুলাই ২০১৭ (সিটিজি টাইমস): শেষ পর্যন্ত চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে ৯ শিশুর মৃত্যুর কারণ জানা গেল। সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান-আইইডিসিআর জানিয়েছে, চার দিনের ব্যবধানে ত্রিপুরাপাড়ার ৯ শিশুর মৃত্যুর কারণ ‘হাম’। অপুষ্টির কারণে দ্রুত সংক্রমণ ঘটেছে।

প্রতিষ্ঠানটি বলছে, ওই এলাকার কোন শিশুকেই কখনও কোন রোগেরই টিকা দেয়া হয়নি। স্বাধীনতার পর থেকে এখন পর্যন্ত টিকাদান কার্যক্রমে শক্তিশালী ওয়ার্ডভিক্তিক মাইক্রোপ্ল্যানেও ত্রিপুরাপাড়া অন্তর্ভুক্ত না থাকায় বিস্মিত হয়েছেন স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্টারা। আমরা জানি, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা পরিচালিত সম্প্রসারিত টিকা দান কর্মসূচি, ইপিআই’র আওতায় সেই ১৯৭৯ সাল থেকে বাংলাদেশে ১ বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য প্রাণঘাতী হিসেবে পরিচিত যক্ষ্মা, ডিপথেরিয়া, হুপিংকাশি, হাম, পোলিও ও ধনুষ্টংকার রোগের টিকা দেয়া হয়। এর সঙ্গে ২০০৩ সালে হেপাটাইটিস, ২০০৯ সাল হিমোফাইলাস এবং ২০১৫ সাল থেকে নিউমোনিয়া রোগের টিকা যুক্ত হয়েছে।

বলা চলে, শিশুদের জন্য এই টিকা দেয়া বাধ্যতামূলক। তাই আমরাও শুনে অবাক হলাম; এই অাধুনিক যুগে এসেও দেশের একটি এলাকা এমন গুরুত্বপূর্ণ টিকাদান কর্মসূচির বাইরে থেকে গেছে। শুধু তাই-ই নয়, এই বিষয়টা দেখভালের দায়িত্ব যাদের ছিল; তারা কোনদিনও সেখানে যায়নি। অামরা মনে করি, যাদের ওপর ওই এলাকার শিশুদের টিকা দেয়ার দায়িত্ব ছিল, যাদের দেখভালের দায়িত্ব ছিল; তারা শুধু নিজেদের দায়িত্ব পালনে অবহেলাই করেননি-এতগুলো শিশুর প্রাণহানীর অপরাধেও অপরাধী। তাদের এমন নিস্পৃহতা অমার্জনীয় অপরাধ। এই ঘটনা আরও একটি বিষয় নিশ্চিত করেছে, আসলে ওই এলাকায় ন্যুনতম কোনো চিকিৎসা ব্যবস্থাও নেই। যদি থাকতো তাহলে হামের মতো রোগের চিকিৎসা তিন দিনেই শেষ করা সম্ভব হতো। আমরা নিশ্চিত নই যে সারাদেশে এমন ত্রিপুরাপাড়ার সংখ্যা কত? তবে এটা নিশ্চিত টিকাদান কার্যক্রমে যে শক্তিশালী ওয়ার্ডভিক্তিক মাইক্রোপ্ল্যান রয়েছে; তা শতভাগ সফল হয়নি। তাই আমরা মনে করি, গুরুত্বপূর্ণ এ কর্মসূচির বাস্তবায়ন নিয়ে নতুন করে ভাবতে হবে। না হলে এমন হৃদয়বিদারক ঘটনা দেখতে হবে বারবার।

সুত্রঃ চ্যানেল আইের সম্পাদকী থেকে

মতামত