টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

ফটিকছড়িতে সরকারী সড়কে যাতায়াতে বাধা: খামারে অভুক্ত গবাধি পশু

মীর মাহফুজ আনাম
সিটিজি টাইমস প্রতিবেদক

চট্টগ্রাম, ১৭ জুলাই ২০১৭ (সিটিজি টাইমস): ফটিকছড়ির উদালিয়া চা-বাগানের ভেতরের সড়ক হয়ে যেতে হয় এন.কে প্রজেক্ট নামক এক খামারে। এ খামারটি ব্যাক্তি মালিকানায় নিজস্ব জায়গায় সেখানে বিগত এক বছর পূর্ব থেকে তরুণ শিল্প উদ্যোক্তা জনৈক কাজী নজরুল ইসলাম গড়ে তুলেন। যেখানে রয়েছে গবাধি পশু, মৎস্য, এবং পলট্টি শিল্প। বাগানের ভেতর দিয়ে যাওয়া সরকারী সড়ক দিয়ে এ খামারের মালামাল তথা খাদ্য সামগ্রী আনা নেওয়া করা হলেও হঠাৎ বাগান কর্তৃপক্ষ তাদের ফটকে খাদ্য সামগ্রীর গাড়ি আটকে দেওয়া হয়। ফলে চরম বিপাকে পড়েন খামারি। খামারের ভেতর অভুক্ত দিন পার করছে গবাধি পশুগুলো। ফলে কোটি টাকা লোকসানের মুখে ফেলে দিয়েছে ওই খামাারিকে। উপজেলার সুয়াবিল ইউনিয়নের উদালিয়া চা-বাগান কর্তপক্ষের স্বেচ্ছাচারিতায় এমন ঘটনার ঘটেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ব্যাপারে সোমবার(আজ) উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়ে তার হস্তক্ষেপ কামনা করেছে খামার কর্তৃপক্ষ।


লিখিত অভিযোগে জানা যায়, গত বছরের ২ সেপ্টেম্বর জনৈক কাজী নজরুল ইসলাম নামের এক নবীন উদ্যোক্তা উদালিয়া চা-বাগানের পাশে কিছু জমি ক্রয় করে সেখানে খামার তৈরী করেন। যেখানে মূলত মৎস্য, গবাধি পশু এবং পলট্টি শিল্প গড়ে তুলেন। খামার নির্মাণ সামগ্রী বাগানের ব্যবহৃত সরকারী রাস্তা দিয়ে আনায়ন করা হতো। উক্ত খামারে এ পর্যন্ত দু কোটি টাকা বিনিয়োগ করেন। সম্প্রতি, উক্ত সড়ক দিয়ে খামারের খাদ্য সামগ্রী আনা হলে বাগান কর্তৃপক্ষ প্রধান ফটকে বাধা সৃষ্টি করে। তারা উক্ত খামার করার ক্ষেত্রে টি -বোর্ডের অনুমতি নেই মর্মে তাদের খামার থেকে গবাধি পশু সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেন। বিষয়টি নিয়ে কয়েক দফা স্থানীয় চেয়ারম্যানসহ সুরাহা করতে চাইলেও বাগান কর্তৃপক্ষের স্বেচ্ছাচারিতায় তা ভেস্তে যায়।

বাগানের সহকারী ব্যবস্থাপক প্রদীপ কান্তি বলেন, ‘যেহেতেু বাগানের সীমানার মধ্যে থাকা যে কোন স্থানে খামার স্থাপন করলে চা-বোর্ডের অনুমতির প্রয়োজন। সেক্ষেত্রে তারা কোন অনুমতি না নেওয়ায় আমরা বাধা সৃষ্টি করেছি। অনুমতি নিয়ে আসতে পারলে আমাদের কোন বাধা থাকবে না।’

এ বিষয়ে ভিন্নমত পোষণ করেছেন স্থানীয় চেয়ারম্যান আবু তালেব চৌধুরী। তিনি বলেন, অন্য কেউ অনুমতি ছাড়া সেখানে খামার করতে পারলে তাদের বাধা কোথায় ? রাস্তাটি সম্পূর্ণ সরকারী। এতে চলাচলে বাধা দেওয়ার কোন এখতিয়ার বাগান কর্তৃপক্ষের নেই।’

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বাগানের প্রধান ফটকের সামনে গবাধি পশুর খাদ্য সামগ্রী নিয়ে বাধা পড়েছে জীপ গাড়ি। বাগান কর্তৃপক্ষের কাছে প্রবেশের অনুমতি চেয়েও মেলেনি।

খামারে গিয়ে দেখা যায়, গবাধি পশুগুলো অভুক্ত দিন পার করছে। সেখানে কোন লোকজনকে যেতে দেওয়া হচ্ছে না। খাদ্যভাবে এসব গবাধি পুশু মরার উপক্রম হয়েছে।

খামার তত্ত্বাবধায়ক অব্দুল মুনাফ বলেন, ‘সম্পুর্ণ ব্যক্তি মালিকানাধীন জায়গায় খামার স্থাপন করে বাগান কর্তৃপক্ষের বিমাতাসুলভ আচরণের মুখোমুখি হয়েছে। সরকার যেখানে শিল্পের বিকাশে কথা বলে, দেশ উন্নয়নে অগ্রযাত্রার কথা বলে; ঠিক সেই সময় আমাদেরকে বাধা দিয়ে শিল্পকে ধ্বংস করে দিচ্ছে। খামারটি সৃষ্টি করার পর থেকে এলাকার বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হয়েছে। অবিলম্বে সড়কের বাধা তুলে নিয়ে কোটি টাকার লোকসান থেকে বাচানোর জন্য কর্তপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করছি।’

এ ব্যাপারে ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দীপক কুমার রায় বলেন, ‘অভিযোগের কপি আমি পেয়েছি। সরেজমিনে পরদির্শন করে বাগান কর্তৃপক্ষে সাথে কথা বলে বিষয়টি সুরাহা করার চেষ্টা করবো।’

মতামত