টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

কক্সবাজার সরকারী উচ্চবিদ্যালয়ে মডেল টেস্টের প্রশ্ন দিয়েই অর্ধবার্ষিক পরীক্ষা

কক্সবাজার ব্যুরো অফিস 

চট্টগ্রাম, ১৭ জুলাই ২০১৭ (সিটিজি টাইমস):  কক্সবাজার সরকারী উচ্চবিদ্যালয়ের এক শিক্ষকের বাসায় নেয়া দশম শ্রেনীর ‘হিন্দু ধর্ম ও নৈতিক শিক্ষা’ বিষয়ে মডেল টেস্টের প্রশ্ন দিয়ে ওই স্কুলের অর্ধবার্ষিক পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠেছে। একটা-দুইটা নয়, পুরো ৩০টি প্রশ্নই হুবহু মিল রয়েছে। গত ১২ জুলাই ‘হিন্দু ধর্ম ও নৈতিক শিক্ষা’ বিষয়ে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এর আগের দিন (১১ জুলাই) একই প্রশ্নে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের বাসায় নেয়া হয় মডেল টেস্ট।

একইভাবে সোমবার (১৭ জুলাই) অনুষ্ঠিত ৯ম শ্রেনীর রসায়ন বিষয়ের (সৃজনশীল অংশ) প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছে। গত ১৩ জুলাই একই প্রশ্ন দিয়ে মডেল টেস্ট নেয়া হয়। সাধারণ মানুষের প্রশ্ন- প্রশ্নপত্র জালিয়াতি কোন ধরণের শিক্ষা?

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ফাঁস হওয়া ‘হিন্দু ধর্ম ও নৈতিক শিক্ষা’ বিষয়ের শিক্ষকের নাম মিন্টু শর্মা। তিনি ভৌত বিজ্ঞান ও রসায়ন বিষয়ের শিক্ষক। পড়ান ডে-শিফ্টে। বাসা স্কুলের একটু পূর্বে গোলদিঘীর পাড়ে। পরীক্ষায় ‘শতভাগ কমন’ পড়ার নিশ্চয়তা দিয়ে দীর্ঘ দিন কোচিং বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছেন মিন্টু শর্মা। সরকারীভাবে প্রাইভেট/কোচিং নিষিদ্ধ হলেও তিনি এ আদেশ মানেন না। বাসায় দিনে ৪/৫ টি ব্যাচ পড়ান। প্রতি ব্যাচে একশ কাছাকাছি ছাত্রছাত্রী রয়েছে। প্রতি ছাত্র থেকে নেন মাসিক ন্যূনতম ৬০০ টাকা। ওই শিক্ষকের বাসা যেন আরেকটি স্কুল। পড়ার জন্য নয়, মূলতঃ প্রশ্ন কমন পাওয়ার নিশ্চয়তায় তার কাছে হুমড়ি খেয়ে মরেন শিক্ষার্থীরা। আর এটিকে ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের মেধাশুণ্য করার ষড়যন্ত্র মনে করছেন অভিভাবকরা।

অভিযোগ রয়েছে, স্কুলের প্রধান শিক্ষক রাম মোহন সেন যোগদানের পর থেকে স্কুলের পরীক্ষা, প্রশ্নপত্র, শিক্ষার মান নিয়ে বিভিন্ন মহল থেকে প্রশ্ন ওঠছে। অভিযোগ রয়েছে ব্যাপক স্বেচ্ছারিতা ও কোচিং বাণিজ্যের। শিক্ষক মিন্টু শর্মার সাথে তার গভীর সখ্যতা। স্কুলের প্রায় সব কাজে চলে মিন্টু শর্মার একক আধিপত্য। শিক্ষার্থীদের বাধ্য করান প্রাইভেট পড়তে। যারা তার কাছে প্রাইভেট পড়েনা তাদের পরীক্ষায় ফেল করার ভয় ঢুকিয়ে দেন। এসব জেনেও না জানার ভান করে থাকেন প্রধান শিক্ষক।

স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন সোর্সে পাওয়া তথ্যে জানা গেছে, প্রধান শিক্ষক রাম মোহন সেন তার কর্তৃত্ব নিশ্চিত করতে কয়েকজন শিক্ষক নিয়ে সিন্ডিকেট করেছেন। সেই সিন্ডিকেটে রয়েছেন ভৌত বিজ্ঞান ও রসায়ন বিষয়ের শিক্ষক মিন্টু শর্মা, ব্যবসায় শিক্ষার মোক্তার আহমদ, ইংরেজির মোঃ জাকারিয়া, সুমন দত্ত ও জীববিজ্ঞানের শাহজাহান কুতুবী।

সুত্র জানায়, অতীতের পরীক্ষাগুলোতে খাতায় কোড ব্যবহার ও বিপরীত সিফটের শিক্ষক দিয়ে মূল্যায়ন করা হতো। কিন্তু প্রধান শিক্ষক রাম মোহন সেন অতীতের সব নিয়ম পাশ কাটিয়ে কোচিং বাণিজ্য করে এমন কিছু শিক্ষককে পরীক্ষা পরিচালনা কমিটির দায়িত্ব দেন। শ্রেনী রোল অনুযায়ী সীটপ্ল্যান করার কথা থাকলেও কোচিং বাণিজ্যে অভিযুক্ত শিক্ষকরা তাদের সুবিধা মতো সীটপ্ল্যান করেন। দশম শ্রেনীর ছাত্রদের প্রাক-নির্বাচনীর প্রশ্ন দিয়ে পরীক্ষা নেয়ার বিধান থাকলেও অর্ধবাষির্কী পরীক্ষা বলে চালিয়ে নিচ্ছেন। ভিন্ন বিষয়ের শিক্ষকদের দেয়া হচ্ছে খাতা মূল্যায়নের দায়িত্ব। যে কারণে শিক্ষকরাও বিব্রতবোধ করছেন। এসব দূর্নীতির বিষয় তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়ার দাবী অভিভাবকদের।

অভিযোগ প্রসঙ্গে স্কুলের প্রধান শিক্ষক রাম মোহন সেনের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বোর্ডের নির্দেশনার আলোকে স্কুল কর্তৃপক্ষের সরবরাহকৃত প্রশ্নে পরীক্ষা নেয়া হচ্ছে। কোন প্রশ্নের বিষয়ে অভিযোগ ওঠলে তা বাতিলের এখতিয়ার আমাদের আছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। শিক্ষকদের নিয়ে সিন্ডিকেট গড়ে তুলার অভিযোগ সত্য নয় বলে তিনি দাবী করেন। অভিযুক্ত শিক্ষক মিন্টু শর্মার সঙ্গে যোগাযোগ করতে চাইলে তাকে পাওয়া যায়নি।

এ প্রসঙ্গে জেলা শিক্ষা অফিসার সালেহ উদ্দিন চৌধুরী বলেন, সরকার শিক্ষকদের সর্বোচ্চ সম্মানিত করেছে। বেতনভাড়া দ্বিগুন করেছে। প্রাইভেট-কোচিং নিষিদ্ধ করার পরও যারা আইন অমান্য করছেন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। তিনি বলেন, প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঠিক তথ্য প্রমাণ পেলে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

জেলা প্রশাসব মো. আলী হোসেন জানান, প্রশ্নপত্র ফা৭সের বিষয়ে খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

মতামত