টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

চট্টগ্রামে সব রোগের পরীক্ষা এক মেশিনে, সাথে বিশেষ ওষুধ

ইব্রাহিম খলিল
প্রধান প্রতিবেদক, সিটিজি টাইমস ডটকম

চট্টগ্রাম, ১৫ জুলাই ২০১৭ (সিটিজি টাইমস): কোয়ান্টাম রিসেনেন্স ম্যাগনেটিক অ্যানালাইজার নামের একটি মেশিনে সব রোগের পরীক্ষা। সাথে ব্যবস্থাপত্র ও বিশেষ ধরণের ওষুধ বিক্রী করে সাধারণ মানুষের পকেট হাতিয়ে নিচ্ছেন একটি সংঘবদ্ধ চক্র।

চট্টগ্রামের বিভিন্ন আবাসিক এলাকায় বাসায় গিয়ে এ ধরণের তৎপরতা চালাচ্ছেন চক্রটি। ডায়াবেটিস থেকে ক্যান্সারসহ এমন কোন রোগ নেই এই মেশিনে পরীক্ষা করা হয় না। চীন থেকে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ও কথিত স্বাস্থ্য কনসালটেন্ট হিসেবে পরিচয় দিয়ে এ কাজ করছেন চক্রের সদস্যরা।

ভুক্তভোগীরা জানান, এ মেশিনে পুরো শরীর চেকআপ করা হয়। শরীরের যত ধরণের রোগ আছে সবধরণের রোগের রিপোর্ট বের হয় মেশিন থেকে। যা ইসিজি মেশিনের মতো। সব রোগের পরীক্ষার জন্য ফি নেওয়া হয় এক হাজার টাকা।

রিপোর্ট দেখে ব্যবস্থাপত্রও দেন তারা। এসব রোগের ওষুধ হিসেবে বিক্রী করা হয় চীনের তৈরী বিশেষ ধরণের ওষুধ। যার মূল্য আলাদা। তবে বাজার মূল্যের চেয়ে ১০-২০ গুণ বেশি চড়া।

সম্প্রতি নগরীর চান্দগাঁও আবাসিক এলাকার বাসিন্দা মাওলানা নুরুল ইসলামের ডায়াবেটিস রোগের পরীক্ষা ও ব্যবস্থাপত্র দেন এ চক্রের সদস্য মো. নাছের। এ ওষুধ খাওয়ার পর ডায়াবেটিস বেড়ে গিয়ে মারাত্মক অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। নগরীর মেট্টোপলিটন হাসপাতালে এখন চিকিৎসাধীন রয়েছেন মাওলানা নুরুল ইসলাম। এমন তথ্য জানালেন তার স্ত্রী জেবুন্নেছা।

জেবুন্নেছা বলেন, ৫-৬ বছর আগে তার স্বামী ডায়াবেটিস রোগে আক্রান্ত হলেও চিকিৎসকের পরামর্শে তিনি নিয়ন্ত্রিত সুস্থ জীবন যাপন করছিলেন। কিন্তু নাছের নামে ওই লোক মেশিনে কোনরকম রক্ত ও প্র¯্রাব পরীক্ষা ছাড়াই ডায়াবেটিস পরীক্ষার কথা বলেন। তা বিশ্বাস করে পরীক্ষার পর উচ্চ ডায়াবেটিসের কথা বলে ওষুধ লিখে দেন। ওষুধও দেন তিনি। সে ওষুধ খেয়ে ডায়াবেটিস আরও বেড়ে যায়।

একই কথা জানিয়েছেন, নগরীর মোহাম্মদপুর আবাসিক এলাকার বাসিন্দা মো. ছাবের উদ্দিন, জহির উদ্দিন বাবর, মৌসুমী আবাসিক এলাকার বাসিন্দা মো. হোসেন, শাহ আলম পাটোয়ারি, শাহাজাহনসহ অনেকেই।

রোগীরা জানান, মেশিন দিয়ে পরীক্ষা করে রোগের ধরণ অনুসারে ব্যবস্থাপত্র দেন তারা। ওই ব্যবস্থাপত্র নিয়ে রোগীরা তাদের নির্ধারিত চীন থেকে আমদানিকৃত তিয়ানশি কোম্পানির বিভিন্ন ধরণের খাদ্যপণ্য ও ওষুধ উচ্চ মূল্যে কিনতে বাধ্য হন।

পুরাতন চান্দগাঁওয়ের বাসিন্দা সাদ্দাম হোসেন বলেন, সবরোগ চেকআপ ফি এক হাজার টাকা শুনে আমি প্রলুব্দ হই। চিকিৎসকের কথামতে ওই মেশিনে হাত রাখি। তিনি পরীক্ষা করে আমাকে জানিয়েছেন আমার শরীর দূর্বল। পরীক্ষা ও ব্যবস্থাপত্রের জন্য তাকে এক হাজার টাকা দিয়েছি। তার দেয়া ওষুধ ছয় মাস খাওয়ার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন। ওষুধ খেয়েও কোন উপকার পানিনি বলে জানান তিনি।

রোগীরা অভিযোগ করেন, কথিত এসব চিকিৎসক আবাসিক এলাকাগুলোতে বাসায় বাসায় ঢু মেরে সাধারণ মানুষের সাথে প্রতারণা করে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন। এদের নির্দিষ্ট কোন চেম্বারও নেই। যাতে প্রতারণার শিকার কোন রোগী এদের গিয়ে ধরতে পারে।

চট্টগ্রাম মেট্টোপলিটন হাসপাতালের চিকিৎসক আবদুল মতিন এ প্রসঙ্গে বলেন, কোয়ান্টাম রিসেনেন্স ম্যাগনেটিক অ্যানালাইজার যন্ত্রের সাহায্যে ৬২ ধরণের রোগ নির্ণয় এবং শরীরের সকল অর্গান পরীক্ষা করার এ যন্ত্রের বিষয়ে আমি শুনেছি। কিন্তু এটা নির্ভরযোগ্য নই। এ যন্ত্র দিয়ে প্রতারকরা সাধারণ মানুষের সাথে প্রতারণা করছে। সাধারণ মানুষকে এ প্রতারক চক্র থেকে সাবধান থাকা উচিত।

মতামত