টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

চট্টগ্রামে সাড়ে ৪ বছরে বন্ধ হয়ে গেছে ২৮৫ গার্মেন্টস কারখানা

মীম ওসমান
বিশেষ সংবাদদাতা

চট্টগ্রাম, ১৪ জুলাই ২০১৭ (সিটিজি টাইমস): চট্টগ্রামে গত সাড়ে ৪ বছরে বন্ধ হয়ে গেছে ২৮৫টি গামের্ন্টস কারখানা । ৬৭৬ টির মধ্যে বর্তমানে চালু রয়েছে ৩৯১টি। এরমধ্যে আমদানি-রপ্তানি করছে ২৫০টি। সাব-কন্ট্রাক্টে কাজ করছে ১৪১টি। আগামী দুই মাসের মধ্যে আইএলও, সরকার ও বিজিএমইএ’র ত্রিপক্ষীয় পরিদর্শন কাজ শুরু হবে। এতে আরো অনেক কারখানা বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

জানা গেছে, পোশাকের বর্তমান বিশ্ব বাজার ৪৪৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। ২০২১ সালে তা হবে ৬৫০ বিলিয়ন ডলার। বিশ্ববাজারে গার্মেন্টস পণ্য রপ্তানিতে চীনের অবদান ৩৯ শতাংশ। বাংলাদেশের মাত্র ৬ শতাংশ। কিন্তু উচ্চমূল্যের মজুরির কারণে ২০২১ সালে চীনের অবদান কমে ২০ শতাংশে দাঁড়াবে বলে এক গবেষণায় দেখা গেছে। চীনের হারানো এই ১৯ শতাংশ বাংলাদেশের জন্য বড় সুযোগ। যা কাজে লাগাতে এখনই উদ্যোগী বিজিএমইএ। তবে গত অর্থবছরে কারখানা বন্ধ হওয়ার প্রভাবে পোশাক শিল্প খাতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে মাত্র ২ দশমিক ২১ শতাংশ।
বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিজিএমইএ) সূত্র জানায়, অ্যাকর্ড ও অ্যালায়েন্সের শর্তপূরণ করতে না পারা ও রপ্তানি আদেশ সংকটে সাড়ে ৪ বছরে বন্ধ হয়ে গেছে প্রায় ২৮৫ টি কারখানা। তারমধ্যে গত বছর বন্ধ হয় শতাধিক কারখানা। চট্টগ্রাম থেকে গত ২০১৪ সালে দেশের মোট রপ্তানির ১৪ দশমিক ৫ শতাংশ রপ্তানি হয়েছে। এছাড়া ২০১৫ সালে সেটি দাঁড়ায় ১৩ দশমিক ৬৫ শতাংশ এবং গত বছর রপ্তানি হয়েছে ১৩ দশমিক ৩ শতাংশে। অর্থাৎ গত তিন বছরে চট্টগ্রামের পোশাক শিল্প থেকে রপ্তানি হয় ১ দশমিক ৪৩ বিলিয়ন ডলার মূল্যের পোশাক।

বিজিএমইএ সূত্র জানায়, ২০১৭-১৮ অর্থবছরের বাজেটে পোশাক রপ্তানি খাতে উৎসে কর কর্তনের হার ১ শতাংশ করা হয়েছে। এতে পোশাক শিল্পের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। এছাড়া ডলারের বিপরীতে টাকার মূল্যমান বেড়েছে প্রায় ৭ দশমিক ৮৪ শতাংশ। বর্তমানে ডলার নেগোশিয়েট করতে হচ্ছে ৮০ টাকারও নিচে। গত ৫ বছর আগে ৮৫ টাকায় নেগোশিয়েট করা হতো। এরই মধ্যে ন্যূনতম মজুরি ও বেতন খাতে ব্যয় বেড়েছে ২২৩ শতাংশ। এছাড়া গত ১ মার্চ থেকে প্রতি ঘন মিটার গ্যাসের দাম ৭ দশমিক ২৪ টাকা বেড়েছে। এরআগে বিদ্যুতের ইউনিট মূল্যও গড়ে ২ দশমিক ৯৩ শতাংশ বেড়েছে। ফলে অনেক কারখানা মালিক প্রতিযোগিতামূলক বাজারে ঠিকতে না পেরে বন্ধ করে দিতে বাধ্য হচ্ছেন।

পোশাক কারখানা মালিকরা জানান, অ্যাকর্ড ও অ্যালায়েন্স জোট কিছু অস্বাভাবিক শর্ত জুড়ে দিচ্ছে। এতে তারা মানছে না দেশের প্রচলিত আইন-কানুন। কারখানার ভবন ইমারত বিধিমালা মেনে সরকারের সংশ্লিষ্ট দফতরের অনুমতি সাপেক্ষে গড়ে উঠে। সেক্ষেত্রেও জোট দুটি তাদের নিজস্ব যাচাই বাছাই প্রক্রিয়া শেষে তা বাতিল করে দেয়। এতে সম্পূর্ণ নতুন করে বিল্ডিং করতে গিয়ে প্রচুর আর্থিক লোকসানের সম্মুখীন হন মালিকরা। এতে কারখানার চলতি মূলধনেরও সংকট দেখা দেয়। যার ফলে বাজারে ঠিকে থাকা কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। এছাড়া চট্টগ্রাম বন্দরের সমতার অভাবে পণ্য খালাসে দুই সপ্তাহ পর্যন্ত লেগে যায়। বিশেষে কারখানা মালিকদের বিমানে পণ্য আমদানি করতে হচ্ছে। ফলে বাড়ছে ব্যয়। তবে বাজেটে পোশাক শিল্পের কর্পোরেট করের হার ১৫ শতাংশ থেকে ১০ শতাংশ করায় কিছুটা ব্যয় সংকোচন হবে বলে তারা জানান।

কারখানা মালিকদের অভিমত, দেশের মোট প্রবৃদ্ধির একটি বড় অংশই যোগান দেয় পোশাক শিল্পখাত। সরকারের রূপকল্প-২০২১ বাস্তবায়ন করতে হলে দেশের মোট প্রবৃদ্ধি লাগবে ৮ শতাংশ। পোশাক শিল্পখাত এতে বড় সহায়ক ভূমিকা পালন করতে পারবে। তাই পোশাক শিল্পে তারা সরকারি পৃষ্টপোষকতা চান। এছাড়া তারা পোশাক শিল্প খাতে সিঙ্গেল ডিজিটে ব্যাংক ঋণ দেয়ার দাবি জানান।

মতামত