টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

চট্টগ্রাম নগর বিএনপির পদবঞ্চিতরা ফুঁসে উঠছে ক্রমেই!

প্রধান প্রতিবেদক 

চট্টগ্রাম, ১৪ জুলাই ২০১৭ (সিটিজি টাইমস):  ২৭৫ সদস্য বিশিষ্ট চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষিত হয়েছে সোমবার। এ কমিটিতে ঠাঁই হয়েছে বর্তমান মহানগর ছাত্রদলের সভাপতি, সিনিয়র সহ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের। স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি ও সাধারণ স¤পাদকও হয়েছেন নগর বিএনপির সহসভাপতি।

এছাড়া বিভিন্ন সময়ে থানা ও ওয়ার্ড পর্যায়ের বিএনপির দায়িত্বে থাকা নেতারাও পদ পেয়েছেন এ কমিটিতে। এক যুগ পর কমিটি গঠন হওয়ার কারণেই সকল স্তরের নেতাকর্মীদের সমন্বয়ে বড় পরিসরে কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন মহানগর বিএনপির নেতারা।

তবে অভিযোগ উঠেছে, এ কমিটিতে পদায়নের ক্ষেত্রে মানা হয়নি জ্যেষ্ঠতা। বয়সে নবীনদের গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। একই সাথে বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা ঘোষিত এক নেতার এক পদ নীতিও এ কমিটিতে মানা হয়নি। এ কমিটির ৬০ শতাংশ নেতাকর্মীই নতুন মুখ। ফলে ক্রমেই ফুঁসে উঠছে পদবঞ্চিত নেতারা।

এ বিষয়ে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, বর্তমান কমিটির একটি বড় সফলতার অংশ এই পূর্ণাঙ্গ কমিটি। গণতন্ত্র ও আইনের শাসন নিশ্চিত করতে বেগম খালেদা জিয়ার নির্দেশনায় এ কমিটি গঠন করা হয়েছে।

তিনি বলেন, বর্তমান কমিটিতে চট্টগ্রাম মহানগরীর প্রায় সকল সাংগঠনিক এলাকার প্রতিনিধি রয়েছে। এছাড়া ছাত্রদল, যুবদলের বিভিন্ন সময়ে দায়িত্ব পালনকারীদের পদায়ন করা হয়েছে। এ কমিটির ৬০ শতাংশ নেতাকর্মীই নবীন। তরুণদের গুরুত্ব দিয়েই এবার পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হয়েছে।

জানা গেছে, নতুন কমিটির মোট ৩০ সহসভাপতির মধ্যে বেশিরভাগই বিএনপির মহানগর কমিটিতে পদ পেয়েছিলেন। তবে ১৩ জন যুগ্ম সাধারণ স¤পাদকের মধ্যে বেশির ভাগই নতুন মুখ। যারা বিভিন্ন সময়ে ছাত্রদল ও যুবদলের দায়িত্বে ছিলেন। ১৩ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের মধ্যে বর্তমান নগর ছাত্রদলের সভাপতি গাজী সিরাজও রয়েছেন।

এছাড়া নগর ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক বেলায়েত বুলুকে করা হয়েছে নগর বিএনপির সদস্য। ছাত্রদলের সিনিয়র সহসভাপতি মাঈনুদ্দীন মো, শহীদকে করা হয়েছে নগর বিএনপির ছাত্র বিষয়ক স¤পাদক। এছাড়া নগর স্বেচ্ছাসেবক দলের বর্তমান সভাপতি ও সাধারণ স¤পাদক সৈয়দ আযম উদ্দিন এবং এস. কে খোদা তোতনকে করা হয়েছে নগর বিএনপির সহ-সভাপতি।

ঘোষিত কমিটিতে ৩০জন সহ-সভাপতি, ১৩ জন সম্পাদক, ৩ জন সাংগঠনিক স¤পাদক, ১৮ জন সহ-সাধারণ স¤পাদক, ৮ জন সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক, ১১ জন সম্মনিত সদস্য, ১০৮ জন সদস্য এবং ১৫ জন উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য রয়েছেন।

নেতাকর্মীদের অভিযোগ, মহানগর বিএনপির কমিটিতে মানা হয়নি দলীয় গঠনতন্ত্র। ১৭১ জনের বেশি কমিটিতে পদায়ন করার সুযোগ না থাকলে এ কমিটিতে রাখা হয়েছে ২৭৫ জনকে। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ীএক নেতার এক পদ নীতিকে দেখানো হয়েছে বৃদ্ধাক্সগুলি। ছাত্রদল, সেচ্ছাসেবক দল ও যুবদলের পদধারী সিনিয়রদের এ কমিটিতে রাখা হয়েছে।

এছাড়া সিনিয়র নেতাদের দেওয়া হয়েছে সদস্য পদ, নবীনদের রাখা হয়েছে গুরুত্বপূর্ণ পদে। ১৯৯৭ সালে মহানগর বিএনপির সহ-সভাপতি ছিলেন মো. মিঞা ভোলা এবং যুগ্ম স¤পাদকছিলেন এম এ সবুর। নতুন কমিটিতে পদায়নের ক্ষেত্রে প্রবীণ দুই নেতার আগে সহ সভাপতি করা হয়েছে এম এ আজিজ নামে নতুন এক নেতাকে।

এ বিষয়ে নতুন কমিটির সহ-সভাপতি এ্যাডভোকেট আবদুস সাত্তার সারোয়ার বলেন, কমিটিতে বিএনপির ঐতিহ্য রক্ষা হয়নি। সিনিয়রদের ডিঙিয়ে জুনিয়রকের গুরুত্বপূর্ণ পদ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া এক নেতার এক পদ নীতিও মানা হয়নি এ কমিটিতে।

এদিকে নতুন কমিটিতে সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেন, সিনিয়র সহ-সভাপতি আবু সুফিয়ান এবং সাধারণ স¤পাদক আবুল হাশেম বক্করের পাশাপাশি সহ সভাপতি করা হয়েছে এম এ আজিজ, মো. মিঞা ভোলা, এস, এসবুর, কাউন্সিলর শামসুল আলম, এডভোকেট আবদুস সাত্তার, মো. আলী, সৈয়দ আযম উদ্দিন, এস. কে খোদা তোতন, জয়নাল আবেদীন জিয়া, নাজিমুর রহমান, মো. আলী সবুক্তগীন সিদ্দিকী মক্কী, জামাল আহমেদ, মোর্শেদ কাদরী, আশরাফ চৌধুরী, এম এ হালিম, শফিকুর রহমান স্বপন, হারুন জামান, ছৈয়দ আহমেদ, সোহরাব কো¤পানি, কমিশনার মাহবুবুল আলম, কমিশনার নাজিম উদ্দিন, এডভোকেট মফিজুল হক ভূইয়া, নিয়াজ মো. খান, কামাল উদ্দিন, অধ্যাপক নুরুল আলম রাজু, ইকবাল চৌধুরী, এ্যাডভোকেট আবদুস সাত্তার সারোয়ার ও এস.এম আবুল ফয়েজকে।

যুগ্ম স¤পাদক করা হয়েছে এস, এম সাইফুল আলম, কাজী বেলাল উদ্দিন, মো. শাহা আলম, ইসকান্দর মির্জা,আর ইউ চৌধুরী শাহীন, ইয়াছিন চৌধুরী লিটন, আবদুল মান্নান, আহমেদুল আলম চৌধুরী রাসেল, জাহাঙ্গীর আলম দুলাল, কমিশনার আবুল হাশেম, মঞ্জুরুল আলম মঞ্জু, আনোয়ার হোসেন লিপু এবং বর্তমান নগর ছাত্রদল সভাপতি গাজী মো. সিরাজ উল্লাহকে।

কোষাধ্যক্ষের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সৈয়দ শিহাব উদ্দিন আলম, দপ্তর স¤পাদক করা হয়েছে টিংকু দাশকে। এছাড়া সাংগঠনিক স¤পাদক করা হয় মনজুরুল আলম (মনজু), কামরুল ইসলাম ও হাজী মো. তৈয়বকে।

উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ৬ আগস্ট চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়। এতে ডা.শাহাদাতকে সভাপতি, সহ-সাংগঠনিক স¤পাদক আবুল হাশেম বক্করকে সাধারণ সম্পাদক এবং আবু সুফিয়ানকে সিনিয়র সহ-সভাপতি করা হয়।

দীর্ঘ ১১ মাস পর সোমবার নগর বিএনপির পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদন কওে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। মহানগর বিএনপির সর্বশেষ পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করাহয়েছিল ১৯৯৭ সালে। ২০০৫ সালে ওই কমিটি ভেঙে দেওয়া হয়। এর ১২ বছর পর সোমবার চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির পূর্ণাঙ্গ কমিটি আলোর মুখ দেখে।

মতামত