টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

আক্রমণের শিকার হয়েছিলেন তামিম পরিবার: ইংলিশ গণমাধ্যম

চট্টগ্রাম, ১৪ জুলাই ২০১৭ (সিটিজি টাইমস): হেইট ক্রাইম। মুসলিমদের উপর সন্ত্রাসী হামলার অপর নাম। ইংল্যান্ডসহ বেশ কয়েকটি দেশে প্রায়শই খবরের শিরোনামে পরিচিত একটি টার্ম। যার ভুক্তভোগী মূলত মুসলিমরা। সেই আতঙ্কের বাক্যের সঙ্গে যুক্ত হলো টাইগারদের ড্যাশিং ওপেনার তামিম ইকবালের নাম।

এক বুক আশা নিয়ে গেল শনিবার ইংল্যান্ডে কাউন্টি খেলতে যান তামিম। এসেক্সের হয়ে মাঠেও নেমেছিলেন এক ম্যাচে। কিন্তু হঠাৎ করেই দেশে ফিরলেন তিনি। কারণটা ‘ব্যক্তিগত’ জানালেন তামিম এবং তার কাউন্টি দল। ‘ব্যক্তিগত কারণে এই মুহূর্ত থেকেই আর দলের সঙ্গে নেই তামিম। এই সময়ে তামিমের প্রাইভেসি রক্ষা করতে অনুরোধ করছি।’ এসেক্স তাদের ওয়েবসাইটে এমন বার্তাই প্রকাশ করে।

তাতেই জেগে উঠে শঙ্কা। শেষমেশ জানা গেল ভিন্ন কথা। ‘ব্যক্তিগত কারণ’ নয় ‘হেইট ক্রাইম’ এর শিকার তামিম এবং তার পরিবার। আসল ঘটনা, মাথায় হিজাব থাকায় ইস্ট লন্ডনের স্ট্রাটফোর্ডে কিছু শ্বেতাঙ্গ তরুণের বর্ণবাদী আচরণের শিকার হন তামিমের স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা। ব্যাপারটি এসেক্সকে জানিয়ে পরদিনই সপরিবারে দেশের উদ্দেশ্যে লন্ডন ছাড়েন তামিম। ততক্ষণে দেশীয় বিভিন্ন গণমাধ্যমে এ খবর ভাইরাল হয়ে পড়ে।

হামলার খবর রীতিমত উড়িয়ে দেন তামিম ইকবাল। ‘আমি আমার সব ভক্ত ও শুভাকাঙ্ক্ষীকে জানাতে চাই যে, এসেক্সে আমার মৌসুম আগেই শেষ করে দেশে ফিরছি ব্যক্তিগত কারণে। কিছু সংবাদমাধ্যম রিপোর্ট করেছে যে আমরা হেইট ক্রাইমের শিকার হয়েছি। এটি আসলে সত্যি নয়।’

এখানেই শেষ নয়, ভবিষ্যতে আবারও ইংল্যান্ডে খেলতে চান জানান তামিম। ‘ক্রিকেট খেলার জন্য আমার প্রিয় জায়গাগুলোর একটি ইংল্যান্ড। আগে চলে আসলেও এসেক্স আমার প্রতি ছিল দারুণ সৌজন্যময়। সব ভক্ত ও শুভাকাঙ্ক্ষীকে আমি ধন্যবাদ জানাচ্ছি তাদের ভাবনা ও নানা বার্তার জন্য। ভবিষ্যতেও ইংল্যান্ডে খেলার অপেক্ষায় থাকবো।’

ইংলিশ ট্যাবলয়েড পত্রিকা ডেইলি মেইল এনিয়ে একটি প্রতিবেদন ছেপেছে। তারা বলছে, হামলার কবলে পড়েছেন তামিম। রাতের খাবার খেতে একটি রেস্টুরেন্টে স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে গিয়েছিলেন বাংলাদেশি ক্রিকেটার তামিম, সেখানেই ‘হেইট ক্রাইম’ এর শিকার হয় তামিমের পরিবার।

ঘটনাটিকে লন্ডনে বাংলাদেশি কমিউনিটির জন্য বড় ধাক্কা উল্লেখ করে পত্রিকাটি জানায়, এ ব্যাপারে পুলিশের কাছে কোনো অভিযোগ করা হয়নি। সম্ভবত তামিম ও এসেক্স বিষয়টি নিয়ে নাড়াচাড়া করতে চায়নি।

তবে ব্রিটিশ দৈনিক দ্য টেলিগ্রাফ মূল ঘটনাকে সামনে না আনলেও তেমন আভাসই দিয়েছে। তারা জানিয়েছে, বর্ণবাদের শিকার হয়েছেন তামিম। সূত্র হিসেবে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কোনো কর্মকর্তাকে উল্লেখ করা হয়।

দ্য টেলিগ্রাফ তাদের প্রতিবেদনে বলছে, লন্ডনে তামিম এবং তার পরিবার বাজে একটি পরিস্থিতির শিকার হয়েছিলেন। এরপরেই তিনি তার ক্লাব এসেক্সের কাছে চুক্তি বাতিল এবং দেশে ফিরে যাওয়ার আবেদন করেন। এসেক্স তামিমের প্রস্তাবে রাজী হয়। তবে মূল ঘটনা নিয়ে ক্লাবের কেউ মুখ খুলতে রাজী নন। বিবৃতির বাইরে একটি কথাও বলবে না এসেক্স।

এদিকে খালি পকেটে দেশে ফিরেন তামিম। এসেক্সে ম্যাচপ্রতি প্রায় তিন হাজার পাউন্ড করে পাওয়ার কথা ছিল তামিম ইকবালের। কিন্তু এক ম্যাচ খেললেও তামিম দেশে ফিরেছেন খালি পকেটেই! অর্থাৎ এসেক্সের কাছ থেকে কোনো টাকা নেননি তিনি। অবশ্য এসেক্স কিছু টাকা তাকে অগ্রিম দিয়ে রেখেছিল। দেশে ফেরার আগে তামিম সব টাকাই ফিরিয়ে দিয়েছেন এসেক্সকে।

মতামত