টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

চট্টগ্রামের ভাগ্যে জুটছে না আমদানি করা সরকারি চাল!

ইব্রাহিম খলিল
প্রধান প্রতিবেদক, সিটিজি টাইমস

চট্টগ্রাম, ১৩ জুলাই ২০১৭ (সিটিজি টাইমস): চট্টগ্রামের ভাগ্যে জুটছে না আমদানি করা সরকারি চাল। ভিয়েতনাম থেকে আমদানিকৃত ২০ হাজার টন চালের প্রথম চালান চট্টগ্রাম সমুদ্র বন্দরে খালাস হলেও জেলার বুকের ওপর দিয়ে চলে যাবে হাওর অঞ্চলে।

আজ বৃহস্পতিবার  ২০ হাজার টন চাল নিয়ে ভিয়েতনামের জাহাজ ভিসাই ভিসিটি জিরো ফাইভে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে নোঙর করে। এসব চাল পরীক্ষা-নিরীক্ষাসহ খালাস প্রক্রিয়া শুরু করেছে খাদ্য নিয়ন্ত্রন অধিদপ্তর।

চট্টগ্রাম জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক জহিরুল ইসলাম জানান, আবহাওয়া প্রতিকূলে থাকায় ভিয়েতনাম থেকে সরকারি চালবাহী জাহাজটি নির্ধারিত সময়ের তিনদিন পর আজ ১৩ জুলাই চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে এসে পৌঁছে। খালাসের পর সরকারের প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী আমদানিকৃত চালের সিংহভাগ পাঠানো হবে সিলেট বিভাগে। কিছু অংশ তিন পার্বত্যজেলায় সরবরাহ করা হতে পারে।

জহিরুল ইসলাম জানান, সরকারি পরিকল্পনা অনুযায়ী সাম্প্রতিক বন্যায় বেশিক্ষতিগ্রস্ত হিসেবে সিলেটের হাওর অঞ্চলের জন্য আমদানিকৃত চালের প্রথম চালানটি সরবরাহ করা হবে। কক্সবাজার ও তিন পার্বত্য জেলায় কিছু অংশ বিতরণ করা হতে পারে। তবে সরকারি পরিকল্পনায়ও পরিবর্তন আসতে পারে।

জানা যায়, ভিয়েতনাম থেকে আমদানিকৃত চালের ২৭ হাজার টনের দ্বিতীয় চালানটি ১৮ জুলাই চট্টগ্রাম বন্দরে আসবে। পরের সপ্তাহে ২১ হাজার টনের তৃতীয় চালানটি আসার শিডিউল রয়েছে। ভিয়েতনামে যথাসময়ে চাল জাহাজিকরণকরা হলে এক সপ্তাহের ব্যবধানে আরো তিনটি চালানে ৬৮ হাজার টন চাল নিয়ে তিনটি কার্গো জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছাবে। এছাড়া আরো ৫০ হাজার টন চাল আমদানির জন্য দরপত্র আহবানের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।

জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক অফিসের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, প্রাথমিকভাবে ভিয়েতনাম থেকে আমদানিকৃত দেড় লাখ টন চালের যৎ সামান্য চট্টগ্রামের ভাগ্যে জুটতে পারে। সরকারি পরিকল্পনা অনুযায়ী বন্যায় ও পাহাড় ধসে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় নানা প্রকল্পে এ চাল সরবরাহ করা হবে।

জানা যায়, সরকারিভাবে পর্যায়ক্রমে আট লাখ টন চাল আমদানির পরিকল্পনা রয়েছে। ইতোমধ্যে ৫০ হাজার টন করে তিন পর্যায়ে দেড় লাখ টন চাল আমদানির জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। সরকারি পর্যায়ে ভিয়েতনাম এবং থাইল্যান্ড থেকে চাল আমদানির পরিকল্পনাও রয়েছে।

এরই ধারাবাহিকতায় গত মে মাসে খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলামের নেতৃত্বে চার সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল ভিয়েতনাম সফরে যান। এ সময় জি টু জি পর্যায়ে দু দেশেরমধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এ চুক্তিটি ২০২২ সাল পর্যন্ত বলবৎ থাকবে। সরকার চালের নমুনা ও মান দেখে ভিয়েতনাম থেকে পর্যায়ক্রমে এ চাল আমদানি করবে। ইতোমধ্যে দেড় লাখ টন চাল আমদানির সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়েছে। ভিয়েতনাম থেকে সরাসরি এ চাল চট্টগ্রাম বন্দর ও মংলা বন্দরে আনা হবে।

খাদ্য অধিদপ্তরের চাল মজুদের দৈনিক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ৯ জুলাই পর্যন্ত সারাদেশে সরকারি গুদামে চাল মজুদ রয়েছে এক লাখ ৬৭ হাজার টন। কিন্তু গত মঙ্গলবার পর্যন্ত চট্টগ্রাম জেলায় চাল মজুদের পরিমাণ মাত্র ১০ হাজার টন।

এদিকে ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, গুণগত মান রক্ষা করে সরকারিভাবে চাল আমদানির সিদ্ধান্ত দ্রুত বাস্তবায়ন করা না হলে চালের বাজার আরো অস্থিতিশীল হয়ে উঠতে পারে। বিদেশ থেকে চাল আমদানিতে সরকার চালের ওপর শুল্ক হ্রাস এবং ঋণ পরিশোধের সময় এ বছরের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বর্ধিত করলেও এর সুফল প্রান্তিক পর্যায়ে পাওয়া যাবে কি না তা নিয়েও সন্দেহ রয়েছে।

ব্যবসায়ীরা মনে করেন, দেশের উত্তরাঞ্চলে নানা কারণে ধানের ফলন ভালো হয়নি। সাম্প্রতিক সময়ে বৃষ্টি এবং বন্যার কারণে কম দামে সরকারি পর্যায়ে চাল সংগ্রহ অভিযানে চাল ব্যবসায়ীরা সায় দেয়নি।

এ প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম চাল ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি ওমর আজম জানান, বর্তমানে বস্তা প্রতি মোটা চালে ১৫০ থেকে ২০০ টাকা কমেছে। এখন বাজার অনেকটা স্থিতিশীল। তিনি বলেন, দেশে পর্যাপ্ত পরিমাণ চাল মজুদ নেই।সরকারিভাবে ১০ লাখ টন চাল আমদানির সিদ্ধান্ত দ্রুত কার্যকর করা না হলে চালের দাম বাড়তে পারে।

শুল্ক হ্রাসও ঋণ পরিশোধের সময়সীমা বাড়ানোর কারণে চালের দাম কিছুটা কমলেও স্থায়ীভাবে চালের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখা যাবে না। তবে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, সরকারিভাবে আমদানিকৃত চাল চট্টগ্রামে সরবরাহ করা না হলে খাতুনগঞ্জের পাইকারি বাজারে চালের বাজারে এর প্রভাব পড়তে পারে।

মতামত