টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

‘চিরকুট’ লিখে নাজিরহাটে যুবকের আত্মহত্যা !

মীর মাহফুজ আনাম
সিটিজি টাইমস প্রতিবেদক

চট্টগ্রাম, ১৩ জুলাই ২০১৭ (সিটিজি টাইমস): (আমার মৃত্যুর জন্য নির্দিষ্ট কোন কেয় দায়ি নাই। আল্লাহ তায়ালাই আমার ভাগ্যটা এ রকমেই লিকেছে পারলে ক্ষমা করে দিও সবাই আমাকে। ইতি মো: রাশেদ)

উপরের কথাগুলো একটি চোট্ট চিরকুটে লিখে নিজের প্যান্টের পকেটে রেখেছিলেন রাসেদ (২২)। পুলিশ তার ঝুলন্ত লাশটি উদ্ধার করে এটি পায়। বৃহস্পতিবার (আজ) সকালে ফটিকছড়ি উপজেলার নাজিরহাট বাজারের আল সাহারা মার্কেট সংলগ্ন মহিউদ্দিন প্রকাশ জুলুর মোটর-ফ্রিজ মেরামতের গ্যারেজের ভিমের সাথে কাপড় সদৃশ বস্তু দিয়ে গলায় ফাঁস লাগানো অবস্থায় তার লাশ উদ্ধার করা হয়। সকালে গ্যারেজের মালিক আসলে ভেতরে তার লাশ দেখে পুলিশকে খবর দেন। রাসেদ ওই গ্যারেজে বিগত ১১ বছর যাবৎ মেকানিকের কাজ করে আসছেলিনে। তিনি প্রতিরাতেই সেখানে ঘুমাতেন। তার বাড়ি উপজেলার নাজিরহাট পৌরসভাধীন ডাইনজুরি তাজ ফকির বাড়িতে। তিনি ওই এলাকার কাশেমের চতুর্থ পুত্রের মধ্যে দ্বিতীয়। পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য মর্গে পাঠিয়েছে।

তর এ আত্মহত্যা করার কারণ উদঘাটন করতে নানা চেষ্টা করেও সঠিক তথ্য পাওয়া সম্ভব হয়নি। তবে, তার ব্যবহৃত মুঠোফোন থেকে বেশ কিছু তথ্য পাওয়া যায়। রাসেদ মৃত্যুর আগে বেশ কয়েকজন কাছের মানুষের সাথে ওয়াটসআপ রেকর্ড পাঠান। তার কিছু বন্ধুদের সাথে রেকর্ড পাঠালেও কেউ রিপ্লে দেননি। রাত বারোটার কিছু আগ পর্যন্ত রাসেদ অনেকের সাথে ফোন করে শেষবারের মতো কথা বলেন। তার আত্মহত্যার পেছনে কোন নারী ঘটিত কোন বিষয় রয়েছে কিনা তা জানতে মোবাইলে কল আদান প্রদান, ম্যাসেজসহ অনেক কিছু চেক করেও এ ধরণের কোন তথ্য পাওয়া যায়নি।

সর্বশেষে রাত ৩ টা ৩৩ মিনিটে প্রবাসে থাকা তার ছোট ভাই মোরশেদকে ২ মিনিট ১৭ সেকেন্ড এর একটি অডিও পাঠান। সেখানে তিনি বলেন, ‘জীবনে সুখ পাইনি, পাবোও না; তাই চলে যাচ্ছি। আমাকে মাফ করে দিস। জীবনে সুযোগ পেলে কাজে লাগাস। আমার মতো যেন কষ্ট না পাস। বাবা-মা, ভাইদের দেখে রাখিস। ভাইয়াকে লাইন করে দিস। পারলে কিছুদিন পর তাকে বিয়ে করাস। দুনিয়াতে অনেক মানুষ যাবে আসবে, যারা বেঁচে আছে তাদের নিয়ে চলিস, যারা চলে গেছে তাদের নিয়ে টেনশন করিস না।

আরেকটা কথা, আমি ডিপিএস এ জমানো ৪৪ হাজার ৫ শত টাকা আম্মুকে দিয়ে এসেছি। সেগুলো দিয়ে ভাইয়াকে কিছু একটা করতে বলিস। সুখে থাকিস।’

তার বড় ভাই এরশাদ বলেন,‘পরিবারে কোন জামেলা ছিল না। গ্যারেজের মালিকের সাথেও সুসম্পর্ক ছিল। সম্প্রতি তার বেতনও বাড়িয়েছে। তারপরও কেন যে সে এমন করলো বুঝতে পারছি না ।’

মতামত