টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

যেকারণে ঘটনা অস্বীকার করছে তামিম

চট্টগ্রাম, ১৩ জুলাই ২০১৭ (সিটিজি টাইমস):  গত ৭ জুলাই ইংল্যান্ডের কাউন্টি খেলতে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে দেশ ছাড়েন তামিম ইকবাল। গত রবিবার (০৯ জুলাই) ন্যাটওয়েস্ট টি-টোয়েন্টি ব্লাস্টে এসেক্স ঈগলসের হয়ে মাঠে নামেন। কথা ছিল, এসেক্সের হয়ে আরও ৭-৮টি ম্যাচ খেলবেন এই দেশ সেরা ওপেনার। কিন্তু হঠাৎ করে ১১ জুলাই দেশে ফেরার কথা জানান তামিম।

কিছু সংবাদ মাধ্যমে তামিমের আকস্মিক ফেরার কারণ নিয়ে প্রকাশিত সংবাদে মুখরিত পুরো ক্রিকেট পাড়া। সপরিবার রাতের খাবার খেয়ে রেস্টুরেন্ট থেকে বাসায় ফিরছিলেন তামিম ইকবাল। ঠিক তখনই কয়েকজন তাদের ধাওয়া করে। তাদের হাতে এসিড ছিল। দৌড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে গিয়ে বেঁচেছেন তারা। এ ঘটনার পর আতঙ্কিত তামিম লন্ডন থেকে স্ত্রী-পুত্র নিয়ে দেশের বিমান ধরেন।

এমন সংবাদে বিশ্ব মিডিয়ায় তোলপাড় শুরু হয়। পরে খোদ তামিম ইকবাল খবরের সত্যতা অস্বীকার করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেন।

তামিম বলেন, ‘আমি আমার সকল ভক্ত সমর্থকদের জানাতে চাই যে, আমি এসেক্সের সাথে অল্প সময় থেকে দেশে ফিরছি সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত কারণে। কিছু মিডিয়া রিপোর্ট করেছে যে, আমরা সন্ত্রাসী হামলার শিকার হয়েছি। এমন খবরের কোন সত্যতা নেই।’

কিন্তু তার এই দাবির পরও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) কয়েকজন কর্মকর্তা ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বলছে ঘটনা সত্য। তামিম ইকবালের স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা ইস্ট লন্ডনের স্ট্রাটফোর্ডে বর্ণবাদী আচরণের শিকার হয়েছেন।

পরশু বিসিবির এক পরিচালক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ‘লন্ডনে তামিমের পরিবারকে কিছু লোক ধাওয়া করে এবং তাদের হাতে নাকি অ্যাসিডও ছিল। কাল জানা গেছে আসল ব্যাপারটি। তামিমের ঘনিষ্ঠ সূত্র জানিয়েছে গত সোমবার রাতে একটি রেস্টুরেন্ট থেকে বের হওয়ার পর কাছেই থাকা কিছু শ্বেতাঙ্গ তরুণ তামিম ও তার পরিবারকে উদ্দেশ্য করে ‘অ্যাসিড, অ্যাসিড’ বলে চিৎকার করে ওঠে। ভয় পেয়ে দ্রুত সেখান থেকে চলে যান তামিমরা। ওই ঘটনায় আতঙ্কিত হয়েই তারা ফিরে আসেন দেশে।’

ক্রিকেট বিষয়ক ওয়েবসাইট ক্রিকইনফো ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম বলছে, ঘটনার পর এসেক্স ঈগলসের কর্তৃপক্ষকে জানান তামিম। তামিম দেশের ফেরার কথা জানালে সম্মতি দেন তারা। তবে তাদের মধ্যে মৌখিক সমঝোতা হয় ঘটনা প্রকাশ না করার।

তা ছাড়া কাউন্টি ক্রিকেটে নিজের ভবিষ্যতের কথাও ভাবতে হচ্ছে তাকে। ইংল্যান্ড থেকে নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে না খেলে চলে এলে ভবিষ্যতে কোনও দল তাকে আর না-ও নিতে পারে, এই শঙ্কাও বিষয়টি অস্বীকার করার একটি কারণ বলে জানা গেছে। তবে ঘটনা আড়ালে তামিমের কর্মকান্ডে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে বিসিবি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বোর্ড পরিচালক বলেন, ‘ও যদি ঘটনাটা অস্বীকারই করবে তাহলে চলে এল কেন? সভাপতি তাকে বলেছিলেন, বিষয়টা প্রকাশ করতে না চাইলে পরিবারকে দেশে পাঠিয়ে দিতে। কিন্তু ও যেন খেলে আসে।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক পরিচালক বলেন, ‘এটা নিরাপত্তার ব্যাপার। বিষয়টা তাই সবার জানা দরকার। আমাদের দেশে আসা নিয়ে অনেক দল আপত্তি করে। এখন তো প্রমাণ হয়ে গেল এ ধরনের ঘটনা যেকোনও দেশে ঘটতে পারে!’

সুত্র: ব্রেকিংনিউজ

মতামত