টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

বিশ্বাস আর ভালবাসা

চট্টগ্রাম, ১২  জুলাই ২০১৭ (সিটিজি টাইমস):  বিশ্বাস আর ভালবাসা দুটি একই মুদ্রার এপিঠ ওপিঠ। একপাশে আঘাত করলে অন্যপাশেও সম আঘাত লাগে।তোমার সাথে আমার প্রতিনিয়ত তর্ক লেগেই তাকে,কখনো কখনো আমি ভীষন রেগে যাই।আমি জানি এটা আমার বদ অভ্যাস।এটার আবার স্হায়ীত্ব ও কম। আমার রাগটা ততক্ষন পর্যন্ত স্হায়ী থাকে যতক্ষন না তুমি সরি বললে। ঠিক পরক্ষনেই আবার সব কিছু ভুলে যাই। মনে থাকেনা কেন তোমার সাথে আমার মনোমালিন্য বা তর্ক হয়েছিল।তোমার প্রতি আমার বিশ্বাস আমাকে সব ভুলিয়ে দেয়।আর এই বিশ্বাসটাই আমার সবচেয়ে বড় সম্পদ, আমি মনেকরি তোমার প্রতি ঐ অগাধ বিশ্বাসটাই আমার প্রকৃত ভালবাসা।আমি ভুল বলছি কিনা জানিনা! তবে আজ তোমার কাছে এটাই ভুল। যার কারনে তুমি তোমাকে ভুলে যেতে বলেছ,কারন কেন আমি বিশ্বাসটাকে ভালবাসার উপরে রাখলাম?তোমাকে কিছু কথা বলবো আজ, পৃথিবীতে সবচেয়ে দামী বস্তুটার নাম হচ্ছে “বিশ্বাস”। এই বস্তুতা না হলে পৃথিবীর সব কিছুই যেন মূল্যহীন। জীবনের প্রথম চোখটা মেলে যখন মা’কে দেখেছিলাম তখন জানতাম না তিনিই আমার মা। মহান রাব্বুল আলামীন ছোট্ট মনটার ভেতর এমন একটা বিশ্বাসের অঙ্কুর একে দিলেন যে অনায়েসেই মেনে নিলাম তিনিই আমার মা। তখন পরম নির্ভরতায় মায়ের বুকে মাথা রেখে ঘুমিয়ে থাকতাম। মায়ের কোলটা ছিল পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ নিরাপদ স্থান। কেমন যেন বুঝতে পারতাম, মা নিজে কষ্ট করবেন কিন্তু আমার শরীরে একটা ফুলের আঁচড়ও কাটতে দিবেন না। কারণ ফুলের মধ্যেও যে জীবাণু থাকতে পারে।

প্রথম যেদিন বাবাকে দেখেছিলাম, কেমন ভয়াতুর,প্রশ্নবোধক দৃষ্টি নিয়ে মায়ের দিকে চেয়েছিলাম। মা মুচকি হেসে আমার প্রশ্নের অর্ধেক জবাব দিয়ে দিলেন।কারণ মায়ের হাসি দেখে ততক্ষনে ভয়টা কেটে গেছিলো আমার।সেদিন হয়তো আমিও ঠোঁট বাঁকিয়ে একটু হেসে ফেলেছিলাম। এবার মা পরিচয় করিয়ে দিলেন – ইনি তোমার বাবা। এই মানুষটাও তোমার মায়ের সাথে সাথে পাক্কা নয় মাস দশদিন তোমার অপেক্ষার প্রহর গুনেছন।কতশত স্বপ্ন বুনেছেন তোমাকে নিয়ে।এবার বাবার হাসিটাকেও পরিচিত মনে হল আমার কাছে। দুই তিন মাস পর যখন পিটপিট করে ঘুরে ঘুরে এদিক সেদিক তাকাতে শিখলাম, তখন ছোট্ট মনটায় আরেকটা বিশ্বাসের রেখা অঙ্কুরিত হল। সেটা হল এই আমার পৃথিবী। এই বিছানা , এই চাদর । ঠিক উপরের দিকটায় টুকটুকে লাল একটা কাগজের ফুল।যেটা দেখলে ঘুম থেকে জেগেই চিৎকার করে কাঁদতাম না। মাথার উপর ঝুলে থাকা টকটকে লাল ফুলটার দিকে চেয়ে থাকতাম, আর হাত পা ছুড়াছুড়ি করে আপন মনে খেলতাম।কিন্তু খিদে পেলে ঠিকই ওয়া ওয়া করে কেঁদে আমার খিদার জানান দিতাম।মনে হতো না কাঁদলে মা খাবার দিবে না। এই হল আমার নিজের উপর বিশ্বাসের প্রাথমিক স্তর। সেই থেকেই শুরু। ধীরে ধীরে আমার বেড়ে ওঠা, হাঁটতে শেখা।এবং এই পর্যন্ত এসে পৌছা। নয়তো প্রথম কদমে যখন ধপাস করে পড়ে গেছিলাম সেদিন তখন আর উঠে দাঁড়ানো হতো না যদি নিজের উপর আত্মবিশ্বাস না থাকতো। এসবই হল বিশ্বাস আর ভালোবাসার চাদরে মোড়ানো একটি জীবন।তাই আমি মনেকরি বিশ্বাসই মানুষের সুন্দর জীবনের মূল মন্ত্র । কারো প্রতি বিশ্বস্ত হও অথবা কারো বিশ্বাস আদায় করা এবং বিশ্বাসের যথাযথ মূল্যায়নই সমগ্রবিশ্বকে তথা প্রত্যেক ব্যক্তিকে আলাদা আলাদা ভাবে শান্তি দিতে পারে। বিশ্বাস কোন খোলা বাজারের পণ্য নয়…. এটা বিক্রয় হয় না এটা অর্জন করতে হয়। আর যখন বিশ্বাস বিক্রয় হয় তখন সেটা আর বিশ্বাস থাকে না।আর নিজের প্রতি আত্মবিশ্বাস যেন নিজেকে সর্বোচ্চ শিখরে উঠিয়ে নিতে পারে ঠিক তেমনই নিজের ভালবাসার প্রতি বিশ্বাস মানুষকে স্বর্গের সুখ দিতে পারে। ভালবাসা বাঁচে বিশ্বাসে…. সেখানে যদি একবার অবিশ্বাসের বিষ ঢোকে সেখানে আর ভালবাসা থাকতে পারে না…। সেখানে এককী রাজত্ব করে একটি ভালবাসার মৃত কঙ্কাল। যার শরীরে অবিশ্বাসের জ্বালায় জ্বলতে থাকে এক মরন যন্ত্রণা।সুতরাং স্বাভাবিক সাবলীল সুন্দর জীবন যাপনের জন্য চাই নির্মল বিশ্বাস ও স্বচ্ছ ভালোবাসা।

আমার এই লেখাটা উৎসর্গ করলাম সেই মানুষটাকে যার হাত ধরে পরম বিশ্বাস আর ভালোবাসা নিয়ে কাটিয়ে দিতে পারি যুগের পর যুগ।এ যেন স্বর্গ প্রেমের হাতছানি যেখানে ক্লান্তিরা এসে বাসা বাঁধে না। চির অটুট থাকুক এ বন্ধন, এই কামনায়………………….♥♥

লেখকঃ ইমরান খান। জেদ্দা প্রবাসী, সৌদি আরব। 

মতামত