টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

‘চিকুনগুনিয়া সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে’

চট্টগ্রাম, ১১ জুলাই ২০১৭ (সিটিজি টাইমস): চিকুনগুনিয়া সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে মিডিয়াকে কোনো ধরনের আতঙ্ক তৈরি না করার অনুরোধ জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম।

মঙ্গলবার সংসদে ৩০০ বিধি ও ৭১ বিধিতে আনা একটি নোটিশের জবাব দিতে গিয়ে মন্ত্রী এ তথ্য জানান।

এন্টিবায়োটিক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অযৌক্তিক ব্যবহারের কারণে এন্টিবায়োটিক অকার্যকর হয়ে পড়ছে। এটা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সরকার এরই মধ্যে জাতীয় ঔষধ নীতি প্রণয়ন করেছে। সেখানে এন্টিবায়োটিক ব্যবহারে বেশ কিছু নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এন্টিবায়োটিক উৎপাদন ও মান নিয়ন্ত্রণের জন্য মন্ত্রণালয় নিয়মিত মনিটরিং করে থাকে। ঢাকাসহ সারাদেশে ১৫০টি মডেল ফার্মেসিতে প্রেসক্রিপশন ছাড়া এন্টিবায়োটিক বিক্রি করা হচ্ছে না। এই পদক্ষেপ সারাদেশে নেওয়া হবে। ঔষধ অধিদপ্তরও এন্টিবায়োটিকের যৌক্তিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে নানা উদ্যোগ নিয়েছে। ভবিষ্যতে উপজেলা পর্যায়ে হৃদরোগের চিকিৎসার ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে ঘোষণা দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

এন্টিবায়োটিকের যথেচ্ছ ব্যবহারে হুমকির মুখে বাংলাদেশ শিরোনামে নোটিশটি সংসদে উত্থাপন করেন নারায়ণগঞ্জ-২ আসনের এমপি নজরুল ইসলাম বাবু।

মন্ত্রী বলেন, যথেচ্ছ ব্যবহারের কারণে জীবন রক্ষাকারী এন্টিবায়োটিক ও অন্যান্য ওষুধের কার্যকারিতা দিন দিন কমছে। এ কারণে সংক্রামণ রোগের নিয়ন্ত্রণও কঠিন হয়ে পড়ছে। জনস্বাস্থ্যের প্রতি এই হুমকি জরুরি ভিত্তিতে বন্ধ করতে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বাংলাদেশসহ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের দেশগুলোর প্রতি তাগিদ দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।

তিনি বলেন, বর্তমান অবস্থা চলতে থাকলে সংক্রামক রোগে ব্যাধির প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে অর্জিত সব সাফল্য পুরোপুরি পাল্টে যাবে। কয়েক দশক ধরে যেসব সাধারণ সংক্রমণ ও হালকা ক্ষত চিকিৎসাযোগ্য ছিল সেগুলোর কারণে আবার লাখ লাখ প্রাণ হারাবে। এন্টিবায়োটিক প্রতিরোধ পরিস্থিতি শল্য চিকিৎসা জটিল করে তুলবে এবং ক্যান্সারের মতো অনেক জটিল রোগের চিকিৎসা আরও কঠিন হয়ে যাবে।

নোটিশে তিনি আরো বলেন, ইতিমধ্যে কার্যকর এন্টিমাইক্রোবিয়াল ওষুধ না থাকার কারণে বেশ কিছু রোগ যেমন হাসপাতালে সংক্রামিত ভেন্টিলেটর সংশ্লিষ্ট নিউমোনিয়া, মূত্রনালির সংক্রমণ ডায়রিয়া, যক্ষ্মা, ম্যালেরিয়া ইত্যাদি রোগের চিকিৎসা করা কঠিন হয়ে উঠেছে।

তিনি বলেন, এখনই পদক্ষেপ না নেওয়া হলে পরিণতি মোকাবেলা দুঃসাধ্য হয়ে উঠবে। এন্টিমাইক্রোবিয়াল প্রতিরোধ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে মানবিক ও অর্থনেতিক ক্ষতির পাশাপাশি প্রতিবছর আমাদের দেশেও লাখ লাখ মানুষের প্রাণহানি ঘটতে পারে। ২০৫০ সালের মধ্যে গড় উৎপাদন ২ থেকে ৩ দশমিক ৫ শতাংশ কম পেতে পারে। অব্যাহত রোগব্যাধির কারণে উৎপাদনশীলতা হ্রাস এবং চিকিৎসা ব্যয় অর্থনৈতিক ক্ষতি বাড়বে। নোটিশে তিনি চিকিৎসকদের লিখিত পরামর্শ ছাড়া ওষুধ বিক্রি না করা এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সময়মতো পুরোপুরি ওষুধ, খাবার বিষয়ে বিক্রেতা, জনসাধারণ ও স্বাস্থ্যকর্মীদের মধ্যে ব্যাপকভাবে জনসচেতনতা গড়ে তোলা জরুরি বলে উল্লেখ করেন।

এদিকে ৩০০ বিধিতে দেওয়া বিবৃতিতে চিকুনগুনিয়া নিয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নানা পদক্ষেপ তুলে ধরেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম।

তিনি বলেন, এডিস মশার কারণে চিকুনগুনিয়া হয়ে থাকে। এ রোগটি নিরাময়ের জন্য মন্ত্রণালয় কয়েক মাস ধরে কাজ করছে। এ রোগে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। এটা মরণঘাতী রোগও নয়।

মন্ত্রী জানান, ঢাকার বাইরে কেউ এ রোগে আক্রান্ত হয়েছে এ ধরনের কোনো তথ্য সিভিল সার্জনরা দেননি। যে কয়জনের খবর পাওয়া গেছে তারা আসলে ঢাকায় আক্রান্ত হয়ে গ্রামে গিয়েছিলেন। মন্ত্রী বলেন, চিকুনগুনিয়া রোগ প্রতিরোধে বিভিন্ন সরকারি হাসপাতাল ও জেলা-উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোর চিকিৎসক, নার্সদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। মোবাইল ফোনের মাধ্যমে তাদেরও এ নিয়ে সচেতন বাড়ানো হয়েছে। ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এ বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি জানান, চিকুনগুনিয়া নিয়ন্ত্রণ কক্ষ খোলা হয়েছে। দুই সিটি করপোরেশনের ৪৫টি ওয়ার্ডে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে নিয়মিত বার্তা জনগণের কাছে পৌঁছানো হচ্ছে। এছাড়া সামাজিক সচেতনতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, সারাদেশের সরকারি হাসপাতালগুলোতে চিকুনগুনিয়া হেল্প ডেস্ক খোলা হয়েছে। জেলা-উপজেলা পর্যায়ে এ নিয়ে সেমিনার করা হচ্ছে। এডিস মশা নিয়ে জনসচেতনতা বাড়ানো হচ্ছে।

মতামত