টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

চট্টগ্রামে ৩ কোটি টাকার বিষাক্ত লবণের চালান আটক

চট্টগ্রাম, ১০ জুলাই ২০১৭ (সিটিজি টাইমস): চট্টগ্রাম বন্দর থেকে ক্ষতিকর রাসায়নিক মিশ্রিত ২ হাজার টন বিষাক্ত খাবার লবণের চালান আটক করেছে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর। শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মইনুল খান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, চট্টগ্রাম খাতুনগঞ্জের দুইটি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান মেসার্স আজমির ট্রেডিং কর্পোরেশন এবং মেসার্স আশা এন্টারপ্রাইজ চীন থেকে এগুলো আমদানি করেছে। খালাসের জন্য এগুলো বন্দরে আনা হয়।

পণ্যের শুল্কায়নযোগ্য মূল্য প্রায় ১ কোটি ৬৮ লাখ টাকা এবং প্রযোজ্য শুল্ক করাদি প্রায় দেড় কোটি টাকা। অর্থাৎ শুল্ক করাদিসহ এই পণ্যের আনুমানিক সর্বমোট বাজার মূল্য প্রায় ৩ কোটি ১৯ লাখ টাকা।

সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত ২০ জুন সাময়িকভাবে এই পণ্য আটক করা হয়। পরে চালানগুলো থেকে নমুনা সংগ্রহ করে চট্টগ্রামের রাসায়নিক পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়। প্রাথমিকভাবে এতে সোডিয়াম ক্লোরাইডের অস্তিত্ব পাওয়া যায়।

এ ব্যাপারে অধিকতর নিশ্চিত হওয়ার জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফলিত রসায়ন ও কেমিক্যাল বিভাগে আরও এক দফা পরীক্ষা হয়। আজ সোমবার শুল্ক গোয়েন্দা দপ্তরে তার প্রতিবেদনে পৌঁছেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, এতে ৯১.৫% সোডিয়াম ক্লোরাইড, ৭.৫% সোডিয়াম সালফেট এবং ১.০% আর্দ্রতার উপস্থিতি রয়েছে। অর্থাৎ এগুলো মূলত সোডিয়াম ক্লোরাইড এর চালান, যার সাথে অল্প কিছু পরিমাণ সোডিয়াম সালফেট মিশ্রিত অবস্থায় আছে।

কাস্টমস সূত্র বলছে, আমদানিকারকরা ক্লিনিং এজেন্ট ঘোষণা দিয়ে সোডিয়াম সালফেট আমদানি করেছেন বলে আমদানি দলিলাদিতে উল্লেখ করেছিল। কিন্তু রাসায়নিক পরীক্ষায় ৯১.৫% সোডিয়াম ক্লোরাইডের উপস্থিতি প্রমাণ করে, আমদানি করা নিষিদ্ধ খাবার লবণ অবৈধভাবে বাজারজাতকরণের উদ্দেশ্যে এগুলো আনা হয়।

উল্লেখ্য, সোডিয়াম সালফেট রাসায়নিক পদার্থটি মানবদেহের জন্য খুবই ক্ষতিকর।এটি মূলত ডিটারজেন্ট তৈরিতে এবং ড্রাইং এজেন্ট হিসেবে বিভিন্ন শিল্পে ব্যবহৃত হয়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভেজাল হিসেবে এটি শরীরে প্রবেশ করলে কিডনি সমস্যাসহ নারী ও শিশুদেহে মারাত্মক ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে।

আমদানি নীতি আদেশ ২০১৫ – ২০১৮ অনুযায়ী, সোডিয়াম ক্লোরাইড আমদানি মূলত নিষিদ্ধ। কিন্তু, একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী এই নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে দীর্ঘদিন সোডিয়াম সালফেটের ঘোষণায় সোডিয়াম ক্লোরাইডের সাথে সোডিয়াম সালফেট মিশ্রিত অবস্থায় আমদানি ও বাজারজাত করে আসছে।

শুল্ক গোয়েন্দার তদন্তে দেখা যায়, মেসার্স আজমির ট্রেডিং ও মেসার্স আশা এন্টারপ্রাইজসহ আরও বেশ কিছু আমদানিকারক একইভাবে প্রায় ৩০০০ টন ভেজালমিশ্রিত সোডিয়াম ক্লোরাইড চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে খালাস করেছে এবং একই উপায়ে বাজারজাত করেছে।

এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কাস্টমস আইন অনুযায়ী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

মতামত