টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

চন্দনাইশে উদ্বোধনের আগেই সেতুতে ধস

চট্টগ্রাম, ১০ জুলাই ২০১৭ (সিটিজি টাইমস): চন্দনাইশের দুর্গম পাহাড়ি জনপদ ধোপাছড়ি ইউনিয়নের চামাছড়ি গ্রামের ধোপাছড়ি খালের উপর টাকা ব্যয়ে নির্মিত ৬০ ফুট দীর্ঘ একটি সেতু উদ্বোধনের আগেই দেবে গেছে। ফলে শান্তির বাজার, মংলার মুখ, মায়ানী, ত্রিপুরা পাড়া ও নাইংছড়ি গ্রামের মানুষের চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। এত চরম দুর্ভোগে পড়েছেন তারা। গত মাসের মাঝামাঝি সময়ে শুরু হওয়া টানা বর্ষণে সৃষ্ট বন্যা ও পাহাড়ি ঢলে সেতুটি দেবে গেছে বলে দাবি নির্মাতা ঠিকাদারের। এসময় পাহাড়ি ঢল ও বন্যায় সেতুর দু’পাশের সংযোগ সড়কও বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। ফলে এলাকার লোকজনকে খালের পানি ডিঙিয়েই চলাচল করতে হচ্ছে। উদ্বোধনের আগেই সেতুটি ধসে পড়ায় সরকারের বিশাল অংকের অর্থ ভেস্তে যাওয়ায় সমালোচনার মুখে পড়েছে স্থানীয় প্রশাসন।

সরজমিনে দেখা যায়, উপজেলার ধোপাছড়ি বাজার থেকে চার কিলোমিটার দূরে ধোপাছড়ি খালের উপর ত্রাণ বিভাগের অর্থায়নে ৫৬ ল ৮৯ হাজার টাকা ব্যয়ে ৬০ ফুট দীর্ঘ সেতুটি নির্মাণ করা হয়। চলতি বছরের মার্চ মাসের প্রথম সপ্তাহে সেতুর নির্মাণ কাজ শুরু হওয়ার পর চারমাসের মধ্যে এর কাজ শেষ করে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। ঠিকাদার সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, ২০০ ফুট প্রস্থ খালের দুপাশে নিরাপত্তা দেওয়াল দিয়ে মাঝখানের মাত্র ৬০ ফুট প্রস্থ জায়গায় সেতু করাটা কোনোভাবেই যুক্তিসংগত হয়নি। সূত্রটি আরো জানায়, এমনিতেই সেতুর প্রস্থতা কম সেখানে ভারী বর্ষণের কারণে সৃষ্ট বন্যা ও পাহাড়ি ঢলের প্রবল স্রোতে ভেসে আসা গাছের গুড়ি সেতুর সাথে ধাক্কা লাগে। আর সেই কারণেই সেতুটি ধসে পড়েছে। একইসাথে ভেসে আসা এসব পাহাড়ি গাছের গুড়ি আঘাত করেছে সেতুর পাশের নিরাপত্তা দেওয়ালেও। ফলে সেতুর মাঝখানের বীমও ভেঙে যায়।

এ ব্যাপারে অনুসন্ধান করে জানা যায়, এ সড়কটির কাজ বাস্তবায়ন করেছে ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়। এ সেতুর জন্য উপজেলা প্রকৌশল অধিদপ্তর থেকে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে ইতোমধ্যে ১২০ ফুট সেতুর প্রাক্কলন ডিপিডি অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়েছে। সয়েল টেস্ট, বিচার বিশ্লেষণ করে টেন্ডার প্রক্রিয়ার কথা রয়েছে। কিন্তু ইতোমধ্যে প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে রহস্যজনকভাবে ১২০ ফুট সেতুর স্থলে মাত্র ৬০ ফুট সেতু করে সরকারের যে অর্থ অপচয় হয়েছে তা দেখার যেন কেউ নেই। ২০০ ফুট প্রস্থ খালের উপর ৬০ ফুট সেতু কোনো ভাবেই টিকে থাকার কথা নয় বলে জানান সংশ্লিষ্টরা। তবে প্রকৌশল সংশ্লিষ্টরা বলছেন, যারা এ সেতুর ডিজাইন করেছেন এবং যারা এটি অনুমোদন দিয়েছেন তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া প্রয়োজন।

ধোপাছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোরশেদুল আলম বলেন, ‘সেতুটি পাইলিং করে নির্মাণ করা উচিৎ ছিল। কিন্তু এখানে কোনো পাইলিং করা হয়নি। ফলে বানের পানিতে ভেসে আসা বড় বড় গাছের ধাক্কা লেগে এটি ধসে পড়েছে।’ এতে ধোপাছড়ির উত্তর এলাকার প্রায় ৮ হাজার জনগণকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে বলেও জানান তিনি। এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা জহিরুল ইসলাম বলেন, সেতুটি নির্মাণের পরপরই অতিবর্ষণে সৃষ্ট পাহাড়ি ঢলের স্রোতে ভেসে আসা গাছের টুকরায় ধাক্কা লেগে এর ক্ষতি হয়েছে।

ইতোমধ্যে সেতুটি ধসে পড়ার ব্যাপারে তদন্ত করতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লুৎফুর রহমান উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহাম্মদ মোবারক হোসেনকে প্রধান করে চার সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন। কমিটিকে ১০ কার্যদিবসের মধ্যে রিপোর্ট পেশ করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

মতামত