টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

বিলীন হচ্ছে সেন্টমার্টিন

ইমাম খাইর
কক্সবাজার ব্যুরো

চট্টগ্রাম, ১০ জুলাই ২০১৭ (সিটিজি টাইমস):  প্রাকৃতি দূর্যোগ ও সাগরের ঢেউয়ের ধাক্কায় দিন দিন ভেঙ্গে যাচ্ছে সেন্টমার্টিন। জোয়ারের পানির ধাক্কায় তলিয়ে যাচ্ছে প্রাচীন গোরস্থান। অনিয়ন্ত্রিত বহুতল স্থাপনা, অবাধে বালু-পাথর উত্তোলন এবং সামুদ্রিক সম্পদ আহরণের কারণে ছোট হয়ে আসছে দ্বীপের আয়তন। কমে যাচ্ছে দ্বীপের উচ্চতা।

দ্বীপের একমাত্র কবরস্থানটির প্রায় দেড়শ ফুটেরও বেশি সাগরে তলিয়ে গেছে। মাটি সরে যাওয়ায় স্থানীয় পুলিশ ফাঁড়িসহ আশপাশের কয়েকটি সীমানা প্রাচীর ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে। ভাঙনের কবলে পড়ে কবর থেকে বেরিয়ে আসে মানুষের কঙ্কালও।

এলাকাবাসী জানিয়েছে, বসতি শুরুর পর এভাবে কোনোদিন দ্বীপে পানি ওঠেনি। এখন জোয়ারের পানি আর সুমদ্রের ঢেউয়ের ধাক্কায় দ্বীপের চারপাশেই ভাঙনের সৃষ্টি হয়েছে। বেশি ভেঙেছে উত্তর-পশ্চিম অংশে। ঘূর্ণিঝড়ে বিস্তীর্ণ কেয়াবন সাগরে বিলীন হয়ে গেছে। পর্যটন দ্বীপটি রক্ষায় সরকারী বরাদ্দ নেই। নেই কোন কর্মপরিকল্পনা। ফলে নিজেদের অস্তিত্ব নিয়ে চরম হতাশায় সেখানকার বাসিন্দারা।

স্থানীয় ইউপি সদস্য আলহাজ্ব মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান (হাবিব খান) বলেন, প্রায় দেড়শত বছরের পুরনো গোরস্থান একের পর এক ঘূর্নিঝড় ও বর্ষাকালীন জোয়ারে ভাঙনের কবলে পড়েছে। দ্বীপ রক্ষায় সরকার বা কোন সাহায্যকারী সংস্থা এগিয়ে আসছেনা। সাগরের করাল গ্রাস থেকে সেন্টমার্টিনকে বাঁচানো না গেলে গোটাদ্বীপ সাগরে পরিণত হবে। লাশ দাফন করারও জায়গা থাকবেনা। দ্বীপের কোন নিশানাও খোঁজে পাওয়া যাবেনা।

তিনি বলেন, দ্বীপ রক্ষায় আমরা সাধ্যমতো চেষ্টা করছি। দ্বীপের চারপাশে কেয়া গাছ লাগাচ্ছি। এলাকাবাসীকে সাথে নিয়ে ভাঙনরোধে স্বেচ্ছাশ্রমে বাঁধ নির্মাণ করছি।

সরকারী বরাদ্দের দিকে আর না থাকিয়ে নিজস্ব তহবিল এবং শ্রম দিয়ে দ্বীপ রক্ষার চেষ্টা করা ছাড়া বিকল্প নেই বলে মনে করেন এই জনপ্রতিনিধি। এ জন্য তিনি প্রতিরক্ষার কাজে সবাইকে অংশ নেয়ার অনুরোধ করেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ৮.৩ বর্গ কিলোমিটার আয়তনের প্রবালদ্বীপে আট হাজার মানুষের বসবাস। বিভিন্ন সময়ের প্রকৃতিক দূর্যোগে ক্ষয় হয়ে যাচ্ছে দ্বীপের মাটি। নষ্ট হয়ে গেছে সবুজ বেষ্টনি। সাগরে বিলীন হয়ে গেছে দ্বীপ রক্ষা বাঁধ। সম্প্রতি বয়ে যাওয়া ঘূর্ণিঝড় ‘মোরা’র আঘাতে দ্বীপের বসতভিটার অধিকাংশ গাছপালা ভেঙ্গে যায়। লোকালয়ে ঢুকে পড়ছে জোয়ারের পানি। দ্বীপের মানুষ আশংকা করছে, সেন্টমার্টিন রক্ষায় এগিয়ে না আসলে প্রবালদ্বীপ একদিন মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাবে।

ইউপি চেয়ারম্যান নুর আহমদ জানান, ঘূর্ণিঝড় এবং টানা বৃষ্টিপাতে প্রবালদ্বীপের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ঘূর্ণিঝড়ে গাছ পালা ভেঙ্গে যাওয়ায় বৃষ্টিপাতে এবং ঢেউয়ে সেন্টমার্টিন দ্বীপ রক্ষা করা যাচ্ছেনা। তিনি জরুরী ভিত্তিতে দ্বীপ রক্ষায় পরিবেশবান্ধব প্রকল্প নেয়ার জন্য সরকারের দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষের জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

মতামত