টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

ঈদের আগেই মন্ত্রিসভায় পরিবর্তনের আভাস, গুঞ্জনে যারা এগিয়ে

চট্টগ্রাম, ০৯  জুলাই ২০১৭ (সিটিজি টাইমস):: ক্ষমতাসীন শেখ হাসিনা সরকারের মন্ত্রীসভায় বড় ধরনের রদবদলের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। আগামী জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে সরকার ও দলকে চাঙ্গা করতে ঈদুল আযহার আগেই এই পরিবর্তন আনার ব্যাপারে চিন্তাভাবনা চলছে বলে দলের নীতিনির্ধারক পর্যায়ের নেতাদের মধ্যে এ নিয়ে কথাবার্তা চলছে।

এরই মধ্যে দলের নীতিনির্ধারক পর্যায়ের নেতাদের সেই ইঙ্গিতও নেত্রী দিয়েছেন বলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রভাবশালী নেতা জানান।

অবশ্য সম্প্রতি দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের সাংবাদিকদের জানিয়েছেন মন্ত্রীসভার এই পরিবর্তনের কথা। এর আগে আওয়ামী লীগের ২০তম জাতীয় সম্মেলনের পর মন্ত্রিসভায় পরিবর্তন আসতে পারে এমন কথাই জানিয়েছিলেন তিনি। ১০ মাস পর ফের একই কথা জানান তিনি।

মন্ত্রিসভায় নতুন কারা আসতে পারেন অথবা কবে নাগাদ রদবদল হতে পারে সে বিষয়ে স্পষ্ট কিছুই না বললেও এ নিয়ে দলের ভিতরে বাইরে ব্যাপক গুঞ্জন চলছে। সেই সঙ্গে মন্ত্রীসভায় স্থান পেতে চলছে অদৃশ্য লবিং। তবে প্রধানমন্ত্রী ও সরকারের ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো থেকে জানা গেছে, মন্ত্রিসভায় রদবদলের ক্ষেত্রে অপেক্ষাকৃত তরুণ ও নতুন মুখ আসতে পারে। পাশাপাশি রাজনীতিতে পরীক্ষিতদের মূল্যায়ন করা হতে পারে।

সূত্রগুলো বলছে, প্রধানমন্ত্রীর গুডবুকে রয়েছেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও সাবেক খাদ্যমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক, সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী কর্নেল (অব.) ফারুক খান, দলটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনি। এছাড়া বঙ্গবন্ধুর মন্ত্রীসভার সদস্য শহীদ এএইচএম কামরুজ্জামানের ছেলে রাজশাহীর সাবেক মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটনও গুডবুকে রয়েছেন বলে জানা যাচ্ছে। তাকে টেকনোকেট মিনিস্টার করা হতে পারে বলে গুঞ্জন রয়েছে।

সাবেক মেয়র লিটনের ঘনিষ্ঠজনদের ভাষ্য, বেশ কয়েক মাস আগে নেতা গণভবনে গিয়ে নেত্রীর সঙ্গে দেখা করার সময় ছোট একটি আবদার করেছিলেন। তখন নেত্রী তাকে বলেছিলেন, এতো ছোট পদে যাবা কেন, অপেক্ষা কর, তোমার ভালো কিছু হবে।

এদিক থেকে লিটনের সমর্থকরা আশা করছেন সামনে মন্ত্রীসভায় পরিবর্তন হলে রাজশাহীর সাবেক মেয়র লিটন স্থান পেতে পারেন। এছাড়াও পারিবারিক রাজনীতির ঐতিহ্যের পাশাপাশি একজন ত্যাগী নেতা হিসেবেও নেত্রীর গুডবুকে রয়েছেন তিনি।

এদিকে সম্ভাব্য পুনর্গঠিত মন্ত্রীসভায় অনেকের নাম উচ্চারিত হলেও সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছেন সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী আবুল হোসেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটিতে নিজের পদ ফিরে পাওয়ার পাশাপাশি মন্ত্রিসভায় যুক্ত হতে পারেন তিনি।

আলোচনায় রয়েছেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন। তিনি প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পেতে পারেন এমন আভাস দিচ্ছে সূত্রগুলো। আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক ও সাবেক বনমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদও আলোচনায় রয়েছেন।

প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পেতে পারেন এমন আলোচনায় রয়েছেন নওগাঁর সংসদ সদস্য ইসরাফিল আলম, সিরাজগঞ্জের সংসদ সদস্য ডা. হাবীবে মিল্লাত, লক্ষ্মীপুর ৩ আসনের সংসদ সদস্য এ কে এম শাজাহান কামাল।

তবে এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, মন্ত্রিপরিষদে পরিবর্তন আসবে। বহুদিন হলো মন্ত্রিপরিষদে রদবদল হয় না। তবে কারা আসবেন, এটা শুধু প্রধানমন্ত্রী বলতে পারেন। তিনি আরো বলেন, মন্ত্রিপরিষদের নতুন সদস্য কারা হবেন, তা এখন বলা সম্ভব নয়। আকাশে চাঁদ উঠলে সবাই দেখবেন।

মতামত