টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

রাতেই অনুমোদন পাচ্ছে ২৫১ সদস্যের চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপি’র কমিটি!

চট্টগ্রাম, ০৯  জুলাই ২০১৭ (সিটিজি টাইমস):   অনাকাঙ্ক্ষিত কোনো জটিলতা তৈরি না হলে রোববার রাতেই চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপি’র ২৫১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটির অনুমোদন হতে যাচ্ছে। বিএনপি’র শীর্ষ নেতৃত্ব রোববার সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

সূত্র মতে, দলীয় চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার অনুমোদন নিতে নগর বিএনপির শীর্ষ নেতারা শনিবার থেকে ঢাকায় অবস্থান করছেন। আজ (রোববার) রাত ৮টার দিকে বিএনপির গুলশান কার্যালয়ে দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সাথে এ নিয়ে নেতাদের সাক্ষাতের সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে। সেখানেই নগর বিএনপির নতুন কমিটি দলীয় প্রধানের কাছে উপস্থান করা হবে।

নতুন কমিটির কোনো বিষয় নিয়ে কোনোরকম যাচাই-বাছাইয়ের প্রয়োজন না থাকলে আজ রাতেই অনুমোদন হতে যাচ্ছে বহু প্রত্যাশিত চট্টগ্রাম নগর বিএনপি’র পূর্ণাঙ্গ কমিটি।

সূত্র মতে, কেন্দ্রের নির্দেশ অনুযায়ী প্রথমে ১৫১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি করার কথা থাকলেও দীর্ঘদিন কমিটি না হওয়ায় নতুন নেতৃত্ব সৃষ্টিতে জট তৈরি হয়। নেতৃত্বের সেই জট দূর করতে এবং প্রায়সব অনুসারীদের জায়গা দিতেই নতুন কমিটির কলেবর বাড়িয়ে ২৫১ সদস্যে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

অতীতে চট্টগ্রাম মহানগর যুবদল, ছাত্রদল ও অন্যান্য সহযোগী সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ পদে যারা আসীন ছিলেন এবং দলের দুঃসময়ে যারা মাঠে ছিলেন, ত্যাগ স্বীকার করেছেন, নির্যাতিত হয়েছেন তারাই থাকছেন নতুন কমিটির গুরুত্বপূর্ণ পদে। এছাড়া দলের জন্য ত্যাগ বিবেচনায় নগরীর থানা কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকদেরও নতুন কমিটির গুরুত্বপূর্ণ স্থানে রাখা হয়েছে।

২৫১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটিতে ২২ জন সহ সভাপতি ও ১২ জন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রাখা হয়েছে বলে সূত্র নিশ্চিত করেছে।

এ প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম নগর বিএনপি’র সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেন রোববার সকালে বলেন, ‘ম্যাডামের (খালেদা জিয়া) সঙ্গে দেখা করে ২৫১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটির অনুমোদন নিতে আমরা এখন ঢাকায় অবস্থান করছি। আশা করছি আজকে (রোববার) রাতের মধ্যেই আমরা কমিটির অনুমোদন পেয়ে যাবো।’

কোন্ মাপকাঠিতে নতুন কমিটির নেতৃত্ব নির্বাচন করা হয়েছে জানতে চাইলে ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, দলের জন্য যাদের ত্যাগ আছে, দলের দুঃসময়ে ঝুঁকি নিয়েছেন, জেল-জুলুম ও হুলিয়ার শিকার হয়েছেন তাদেরকেই আমরা নতুন কমিটিতে আনার চেষ্টা করেছি।

এরপরও যে সব ত্যাগী ও যোগ্য নেতাকে নগর কমিটিতে স্থান দেওয়া সম্ভব হয়নি তাদেরকে থানা এবং ওয়ার্ড কমিটির গুরুত্বপূর্ণ পদে রাখা হবে। আমরা চাই নগর, থানা ও ওয়ার্ড পর্যায়ে এমন নেতৃত্ব, যে নেতৃত্ব আসন্ন সরকারবিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় হয়ে দেশে জনগণের ভোটে নির্বাচিত একটি গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠায় অবদান রাখবে। আর সেটি বিবেচনায় রেখেই চট্টগ্রাম নগর বিএনপিকে সাজানোর চেষ্টা করা হয়েছে নতুন কমিটিতে। যোগ করেন ডা. শাহাদাত।

প্রসঙ্গত, ২০১৬ সালের ৬ আগস্ট ডা. শাহাদাত হোসেনকে সভাপতি, আবু সুফিয়ানকে সিনিয়র সহ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে আবুল হাশেম বক্করের নাম ঘোষণা করে পরবর্তী একমাসের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি করার নির্দেশ দেয়া হয় কেন্দ্র থেকে। কিন্তু ১১ মাসেও সেই কমিটি করতে না পারায় নগর বিএনপি’র একটি বড় অংশের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ তৈরি হয়। সেই ক্ষোভের মুখেই অবশেষে পূর্ণাঙ্গ কমিটি করতে মনোযোগী হন দলের নগর বিএনপি’র শীর্ষ নেতৃত্ব।

মতামত