টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

সাতকানিয়ায় মায়ের পরকীয়ার বলি নিস্পাপ শিশু জিসান

শিশু জিসানকে হত্যার পর লাশ গুমের চেষ্টা করে মায়ের প্রেমিক

শহীদুল ইসলাম বাবর
সিটিজি টাইমস প্রতিবেদক

চট্টগ্রাম, ০৮  জুলাই ২০১৭ (সিটিজি টাইমস):  মিজানুর রহমান জিসান মাত্র ৭ বছর বয়স তার। দুনিয়ার কোন সমীকরণই বুঝার কথা নয়। এই দুনিয়ার কঠিন সে না বুঝলেও দুনিয়ার সমীকরনের বলি হয়ে পরপারের বাসিন্দা হতে হলো জিসানকে। অত্যান্ত নির্মম ভাবে হত্যা করে লাশটিও গুম করার জন্য তার লাশটিকে বাড়ির পাশের ডোবায় মাঠির নিচে পুতে পেলে খুনের ঘটনায় অভিযুক্ত আলী আহমদ(৩৫)। পরে ঘটনার অন্তত আট ঘন্টা পর লোকজনের সন্দেহবসত আলী আহমদকে স্থানীয়রা আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে খুনের ঘটনা স্বীকার করে লাশের সন্ধান দেন। স্থানীয় লোকজন ডোবার কিনারায় মাঠির নিচ থেকে জিসানের লাশ উদ্ধার করেন। এসময় জিসানের পা দুটি ছিল উপরমুখী।

গত শুক্রবার দিনে এ হৃদয়বিদারক ঘটনাটি ঘটেছে দক্ষিন চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার চরতী ইউনিয়নের দক্ষিন চরতী গ্রামে। পুলিশ ঘটনার খবর পেয়ে লাশ উদ্ধার করেন এবং জনতার হাতে আটক আলি আহমদকে আটক করে থানায় নিয়ে আসেন।

থানার সেকেন্ড অফিসার সিরাজুল ইসলাম ও চরতীর চেয়ারম্যান ডা: রেজাউল করিম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এ ঘটনায় বেশ চঞ্চাল্য সৃষ্টি হয়েছে। এদিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে খুনের ঘটনায় অভিযুক্ত আলী আহমদকে জনতার হাত থেকে উদ্ধার করতে গেলে বাধা দেয় জনতা। এসময় পুলিশ ও জনতার মধ্যে মৃদু সংর্ঘষ হয়। এতে আহত হয় চার পুলিশ। উত্তেজিত জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ বেশ কয়েক রাউন্ড ফাকা গুলি ছুড়ে।

এ বিষয়ে সাতকানিয়া থানায় একটি হত্যা মামলা ও অপরটি পুলিশের উপর হামলার মামলা মিলিয়ে দুটি পৃথক মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আব্দুল জলিল। জিসান হত্যাকন্ডের বিষয়ে বিস্তারিত জানা না গেলেও জিসানের মায়ের পরকিয়ার কারনেই জিসানকে হত্যা করা হয়েছে বলে একাধিক সূত্র দাবী করেছে।

ঘটনার বিবরণে জানা যায়,জিসানের মায়ের সাথে পরকিয়া ছিল আলী আহমদের। সেই সূত্রে আলী আহমদ জিসানদের বাড়িতে নিয়মিত যাওয়া আসা করত। ঘটনার কয়েক দিন আগে উপরোক্ত বিষয় নিয়ে জিসানের মায়ের সাথে আলী আহমদের ঝগড়ার হয়, ঝগড়ার সময় আলি আহমদ জিসানের মাকে কাদিঁয়ে ছাড়বে বলে হুংকার দেয়।

এরি মধ্যে গত পরশু শুক্রবার সকাল সাড়ে দশটার সময় সাতকানিয়ার চরতী ইউনিয়নের দক্ষিণ চরতী এলাকার মৃত ইয়াকুব হোসেনের পুত্র আলী আহমদ জাল দিয়ে মাছ ধরতে সাঙ্গু নদীতে যাওয়ার সময় তার সাথে পাশ্ববর্তি আবুল হাসেমের পুত্র মিজানুর রহমান জিসানকেও সাথে নিয়ে যায়। দুপুরে আলী আহমদ মাছ ধরে ফিরে আসলেও জিসান আসেনি। দুপুরে জিসানকে না পেয়ে বিভিন্ন জায়গায় খোজঁ খবর করেও জিসানের খোজঁ না পাওয়াতে জিসানের আলী আহমদকে তার ছেলে কোথাই জিজ্ঞেস করেন। তাতে আলী আহমদ ক্ষিপ্ত হয়ে জিসান কোথাই আছে জানেনা বলে জানান। এবং জিসানের বিষয়ে জিজ্ঞেস করলে এক সময় একেক ধরনের কথা বলতে থাকেন।

এতে স্থানীয় লোকজনের সন্দেহ হলে আলী আহমদকে আটক করে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করলে সেই ডোবার মধ্যে জিসানের লাশ দেখিয়ে দেয়। পরে স্থানীয় লোকজন লাশ উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে আসে। খবর পেয়ে থানা পুলিশের পরির্দশক (তদন্ত) আব্দুল জলিল সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে জনতার হাতে আটককৃত আলী আহমদকে উদ্ধার করতে গেলে জনতা পুলিশ বাধা প্রদান করে। আলী আহমদকে হত্যার উদ্যেশে গনপিঠুনির চেষ্টা করে। পরে থানা থেকে আরো বিপুল সংখ্যক পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে জনতার কবল থেকে উদ্ধার থানায় নিয়ে আসার সময় জনগন সংগঠিত হয়ে আবারো পুলিশের উপর হামলা করে।

এতে এএসআই নেয়ামত উল্লাহসহ অন্তত চার পুলিশ আহত হয়। এসময় পুলিশ জনগনকে ছত্রভঙ্গ করতে ৩৬ রাউন্ড সর্টগানের গুলি ব্যবহার করেন।

থানার পরির্দশক (তদন্ত) আব্দুল জলিল বলেন,খুনের ঘটনায় আটককৃত আসামীকে পুলিশের কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়ে গনপিঠুনি দেওয়ার চেষ্টা করেছিল কিছু উশৃঙ্খল লোকজন। আমরা পাকা গুলি বর্ষণ করে তাদের ছত্রভঙ্গ করে তাকে (আলী আহমদ) থানায় নিয়ে আসি। শিশু জিসানকে হত্যার অভিযোগে তার বাবা আবুল হাসেম থানায় একটি মামলা দায়ের করেছে।

অপরদিকে পুলিশের উপর হামলা গাড়ি ভাংচুরের অভিযোগ এনে থানার এএসআই নেয়ামত উল্লাহ বাদী হয়ে অপর একটি মামলা দায়ের করেন। হত্যা মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে থানার এস আই মাহমুদুল করিমকে।

এস আই মাহমুদুল করিম জানান, আজ শনিবার সকালেই আসামী আলী আহমদকে বিজ্ঞ আদালতে সোর্পদ করা হয়েছে।

মতামত