টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

চিকনগুনিয়ার ঝুঁকিতে চট্টগ্রাম, নিয়ন্ত্রণ কক্ষ খুলেছে চসিক

ইব্রাহিম খলিল
প্রধান প্রতিবেদক, সিটিজি টাইমস ডটকম

চট্টগ্রাম, ০৭  জুলাই ২০১৭ (সিটিজি টাইমস):   রাজধানী ঢাকার মতো মশাবাহিত চিকনগুনিয়া রোগের ঝুঁকিতে রয়েছে বন্দরনগরী চট্টগ্রামও। রাজধানীর সাথে চট্টগ্রামের মানুষের নিরবিচ্ছিন্ন যাতায়াত এবং বৃষ্টির পানিতে নগরীতে বার বার জলাবদ্ধতার কারনে এ ঝুঁকি তৈরী হয়েছে।

চসিকের স্বাস্থ্য ও পরিচ্ছন্ন বিভাগ এবং নগরীর স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা এ তথ্য ও মতামত জানিয়েছেন। যার ভিত্তিতে চিকনগুনিয়া রোধে নিয়ন্ত্রণ কক্ষ খুলেছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক)। চিকনগুনিয়ার বিস্তার রোধে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) ক্র্যাস প্রোগ্রাম এবং স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা এ ব্যাপারে নগরবাসীকে সচেতন ও সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন।

চসিকের স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্র জানায়, চিকনগুনিয়ার বাহক এডিস মশা নিধনে আগামী ১৫ জুলাই সোমবার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে দুই মাসব্যাপী ক্র্যাস প্রোগ্রাম শুরু হবে। এতে নগরীতে চিকনগুনিয়ার প্রাদুর্ভাব রোধ করা সম্ভব হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

চসিকের প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা শেখ শফিকুল মান্নান সিদ্দিকী যীশু বলেন, আমাদের নিয়মিত মশক নিধন কার্যক্রম চলমান আছে। প্রতিটি ওয়ার্ডে মশক নিধন কার্যক্রম চলছে। চিকনগুনিয়া রোধে আগামী সোমবার থেকে ক্র্যাস প্রোগ্রাম পরিচালিত হবে।

তিনি বলেন, সোমবার বিকেল তিনটায় জামালখান ওয়ার্ডে এ প্রোগ্রামের উদ্বোধন করবেন সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন। এরপর প্রতিদিনি তিনটি ওয়ার্ডে এ প্রোগ্রাম চলবে। ক্রমান্বয়ে ৪১টি ওয়ার্ডে এ কার্যক্রম ছড়িয়ে দেওয়া হবে। এক নাগাড়ে দুইমাস এ প্রোগ্রাম চলবে। প্রতিদিন আমরা নালা-নর্দমায় লার্বিসাইড এবং ঘরে ঘরে অ্যালাডি সাইড ¯েপ্র ছিটাবো।

তিনি আরও বলেন, স¤প্রতি রাজধানীতে মশাবাহিত চিকনগুনিয়া রোগের প্রকোপ দেখা দিয়েছে। তবে এখনো পর্যন্ত চট্টগ্রামে চিকনগুনিয়ায় আক্রান্ত কোন রোগী পাওয়া যায়নি। তবে গত এক সপ্তাহে ২৩ জন ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হয়েছে। তবে রাজধানীর সাথে নিয়মিত যাতায়াতের কারণে চট্টগ্রামেও রোগটির বাহক থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এছাড়া বার বার জলাবদ্ধতার কারনেও চিকনগুনিয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে চট্টগ্রাম।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, চট্টগ্রামে চিকনগুনিয়ায় আক্রান্ত কোন রোগী পাওয়া যায়নি। তবে যেহেতু ঢাকার সাথে আমাদের নিয়মিত যোগাযোগ হয়, সেহেতু আমরা ঝুঁকিতে আছি। কোন রোগী পাওয়া গেলে আমরা সংবাদ সম্মেলন করে জানাবো। এ জন্য আমরা কন্ট্রোল রুম খুলেছি।

চিকিৎসকদের মতে, চিকনগুনিয়ায় আক্রান্ত রোগীর তীব্র জ্বর হয়। শরীরে বিশেষ করে হাড়ের জোড়ায় প্রচন্ড ব্যথা হয় এবং কাঁশ দেখা যায়। সিটি করপোরেশনের মশক নির্ধন কার্যক্রম জোরালো করার পরামর্শ চিকিৎসকদের। একই সাথে মশার প্রজনন ক্ষেত্র চিহ্নিত ও ধ্বংস, মোটরযান মেরামতের দোকানগুলোর পুরনো টায়ার ফুটো করে দেওয়া, ফুলের টবে পানি জমতে না দেওয়া, ডাবের খোসা অপসারণ করা এবং বাসা বাড়িতে মশা প্রজননের ক্ষেত্রগুলো চিহ্নিত করে ধ্বংস করার পরামর্শ দিয়েছেন।

চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন ডা. আজিজুর রহমান সিদ্দিকী বলেন, চিকনগুনিয়া ডেঙ্গুর মতো ভাইরাস জনিত রোগ। এডিস মশার মাধ্যমে হয়। আক্রান্ত রোগীকে কামড়ানোর পর সেই মশা অন্য একজনকে কামড়ালে এই রোগ তার মধ্যেও ছড়িয়ে পড়বে। ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর মৃত্যু হলেও চিকুনগুনিয়ায় আক্রান্ত হলে মৃত্যু হয় না। তবে গিরায় প্রচন্ড ব্যাথা করে। নতুন বলে রোগ নিয়ে সবার মধ্যে একটি আতঙ্ক রয়েছে। এ রোগ থেকে দূরে থাকতে হলে এডিস মশা থেকে বাঁচতে হবে। মশারি ব্যবহার করতে হবে। বাড়ির ছাদ পরিষ্কার রাখতে হবে।

 

মতামত