টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

দাম কমার আভাস চালের বাজারে

চট্টগ্রাম, ০৭  জুলাই ২০১৭ (সিটিজি টাইমস): সম্প্রতি চালের দাম বৃদ্ধির ক্ষেত্রে অতীতের সব রেকর্ড ভেঙেছে দেশ। ফলে বিদেশ থেকে কমমূল্যে চাল আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। আমদানিকৃত চালের ওপর ধার্য করা শুল্কের হারও ২৮ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাশ করা হয়েছে। তবে এতকিছুর সুফল এখনো ভোগ করতে পারছেন না সাধারণ ক্রেতারা। রাজধানীর খুচরা বাজারে আগের মতোই বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে চাল। তবে খুব শিগগিরই চালের দাম কমার আভাস দিয়েছেন সকল শ্রেণীর চাল ব্যবসায়ীরা।

সরেজমিনে দেখা যায়, রাজধানীর প্রায় সব খুচরা বাজারে আগের দামে বিক্রি হচ্ছে চাল। তবে মিল ও পাইকারি বাজারে চালের দাম কমতে শুরু করলেও খুচরা বাজারে কমেনি। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে দাম কমবে বলে আশা প্রকাশ করছেন বিক্রেতারা। তাদের দাবি, আমদানি করা নতুন চাল হাতে পৌঁছালেই চালের দামে স্বস্তি আসবে। চলতি সপ্তাহে রাজধানীতে মোটা চাল বিক্রি হচ্ছে ৪৮ থেকে ৫০ টাকা, মিনিকেট ৫৫ থেকে ৫৮ টাকা, নাজিরশাইল ৫৮ থেকে ৫২ টাকা।

শুক্রবার রাজধানীর কারওয়ান বাজার ও নিউমর্কেট কাঁচাবাজারসহ কয়েকটি পাইকারি বাজার ঘুরে দেখা যায়, মোটা চাল, মিনিকেট ও নাজিরশাইল চালের দাম কেজিতে এক থেকে দুই টাকা পর্যন্ত কমেছে। তবে চালের দাম সবচেয়ে বেশি কমেছে মিল পর্যায়ে। মিলে সব ধরনের চাল কেজিতে তিন থেকে চার টাকা পর্যন্ত কমেছে। আগামী কয়েকদিনের মধ্যে চালের দাম আরো কমবে বলে জানিয়েছেন পাইকারি বিক্রেতারা।

পাইকারি বাজারে চালের দাম কমলেও খুচরা বাজারে চালের দাম কমছে না কেন- এমন প্রশ্নের জবাবে রাজধানীর আজিমপুর এলাকার চাল ব্যবসায়ী হাজী ইসরাফিল মিয়া বিবার্তাকে বলেন, পাইকারি বাজারে চালের দাম কমেছে কথা সত্য। কিন্তু আমাদের কাছে ওই চাল পৌঁছায়নি। আমাদের কাছে যে চালগুলো এখন কেনা সেগুলো সব ইদের আগে। সে কারণে আমাদের আগের দামে চাল বিক্রি করতে হচ্ছে।

অন্যান্য চালের দামের বিষয়ে তিনি বলেন, যখন মোটা চাল বাজারে সহজলভ্য হয়ে যাবে তখন চিকন চালের দাম এমনিতেই কমে যাবে। কারণ, চালের বাজারের বড় অংশের ক্রেতারা মোটা চালের ওপর নির্ভরশীল। যখন মোটা চালের সংকট দেখা দিয়েছে, তখন চিকন চালের চাহিদাও বেড়েছে। তাই মোটা চাল বেশি পরিমাণে আসা শুরু করলেই সকল প্রকারের চালের দাম কমবে।

চলতি সপ্তাহে সবজির দাম তুলনামূলকভাবে কম। প্রতিকেজি আলু ১৮-২০, বেগুন ২৮ থেকে ৩২ টাকা, চালকুমড়া ৩৫ থেকে ৪০ টাকা, কচুর লতি ৪০ থেকে ৫০ টাকা, পটল ১৮ থেকে ২০ টাকা, ঢেঁড়স ২০ থেকে ২৫, ঝিঙ্গা-চিচিঙ্গা-কাকরোল ৩০ থেকে ৩৫ টাকা, পেঁপে ২০ থেকে ২২ টাকা, কচুরমুখি ৩০ থেকে ৩৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া লেবু হালি প্রতি ১৬ থেকে ২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পালং শাক, লালশাক, পুঁইশাক, লাউশাক প্রভৃতি আঁটি প্রতি ১৫-২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

পেঁয়াজ রসুনের দামও যথেষ্ট কম। প্রতিকেজি দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৩০ থেকে ৩২ টাকা এবং আমদানি করা পেয়াজ বিক্রি হচ্ছে ২৪ থেকে ২৬ টাকা। এছাড়া, দেশি রসুন ১০০ থেকে ১১০ টাকা ও আমদানি করা রসুন ১৪০ থেকে ১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

মাছের বাজার ঘুরে দেখা যায়, আকারভেদে প্রতি কেজি রুই ও কাতলা মাছ ২৫০-৩০০ টাকা, তেলাপিয়া ১৪০-১৮০ টাকা, সিলভার কার্প ১৫০-২০০ টাকা, সরপুঁটি ৩০০-৩৫০ টাকা, হাইব্রিড কৈ মাছ ২২০-২৫০, ভেটকি ৩৫০ থেকে ৪৫০টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া আকারভেদে প্রতিটি ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ৩০০ থেকে ৮০০ টাকা দরে।

চলতি মপ্তাহে মাংসের দাম স্থিতিশীল রয়েছে। এছাড়া, গরুর মাংস ৪৯০-৫২০ টাকা, খাসির মাংস ৭৩০-৭৫০ টাকা কেজিদরে বিক্রি হচ্ছে। প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৫০ থেকে ১৬০ টাকায়। এছাড়া লেয়ার মুরগি ১৯০ থেকে ২০০, দেশি মুরগি ৩৫০ থেকে ৩৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

মতামত