টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

‘জুমল্যান্ডের অভান্তর স্বপ্ন দেখিয়ে বিভ্রান্ত করতে চায় পাহাড়বাসীদের’

করিম শাহ
রামগড় (খাগড়াছড়ি) প্রতিনিধি

চট্টগ্রাম, ০৬  জুলাই ২০১৭ (সিটিজি টাইমস): চাঁদাবাজরা জুমল্যান্ড গঠনের অভান্তর স্বপ্ন দেখিয়ে বিভ্রান্ত করতে চায় পাহাড়বাসীদের। সরকারী কোটি কোটি টাকা ব্যায়ে পাহাড়ের সকল সম্প্রদায়ের মানুষের উন্নয়নে খরচ করছে। অথচ সন্ত্রাসীরা পাহাড়ের খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষদের থেকে কোটি টাকা চাঁদা তুলছে তাঁরা একটি টাকাও এ পাহাড়বাসীর উন্নয়নের খরচ করেছে তার কোন প্রমাণ নেই। এসব সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে আপনারা তথ্য দিন প্রশাসন এদের বিরুদ্ধে কঠোর শান্তি নিশ্চিত করবে। আর এ সভা থেকে আমরা জানাতে চাই এটিই শেষে আলোচনা সভা এখন থেকে চাঁদাবাজ সন্ত্রাস নিরসনে আমরা কঠোর থেকে কঠোর হবে। জেলার রামগড় ৪৩ বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়ন আয়োজিত চাঁদাবাজিই শান্তি, সম্প্রীতি, উন্নয়নের প্রধান অন্তরায় র্শীষক মতবিনিময় ও জনসচেতনতামূলক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য এসব কথা বলেন জোন কমান্ডার লে. কর্ণেল এম জাহিদুর রশীদ।
বৃহস্পতিবার বেলা ১১টা থেকে বেলা ২টা পর্যন্ত রামগড়ের সোনাইআগা এলাকায় সম্প্রতি সন্ত্রাসীদের ফাঁকাগুলি ও চাঁদাবাজিকে কেন্দ্র করে পাহাড়ী-বাঙ্গালীদের মধ্যে সৃষ্ট উত্তেজনা ও আতংক এবং উপজেলার সন্ত্রাস চোরাচালানসহ বিভিন্ন বিষয়ে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় উপজেলার বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ তাদের মতামত তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন।

ত্রিপুরা প্রতিনিধি ধনজয় ত্রিপুরা বলেন, উপজেলার কয়েকটি এলাকায় চাঁদাবাজদের দৈরাত্ব বেড়ে গেছে। সম্প্রতিকালের সোনাইআগায় পাহাড়ী-বাঙ্গালীরা সন্ত্রাসীদের ধাওয়া করেছে। ঐ এলাকায় একটি বিজিবি আউট পোষ্ট (বিওপি) স্থাপনের দাবী জানান তিনি।

হেডম্যান প্রতিনিধি আশুতোষ রোয়াজা বলেন, কে সন্ত্রাস, কে চাঁদাবাজ সবাই জানে আর সবাই চাঁদা দেয় এদের বিরুদ্ধে সম্মিলিত প্রতিরোধে পাহাড়ী-বাঙ্গালীদের ঐক্য দরকার।

সভায় ইউপি সদস্য নবরায় ত্রিপুরা তাঁর বক্তব্য বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের ৩০ হাজার পাহাড়ী-বাঙ্গালী হত্যাকারী সরকারী প্রটোকলে দেশের সম্মানিত নাগরিকের মর্যাদা নিয়ে চলে। আমাদের কি দুর্বাগ্য অর্থাভাবে নিজের সন্তানকে ভালো প্রতিষ্ঠানে ভর্তি করাতে পারিনা অর্থচ চাঁদা দিয়ে পাহাড়ের সন্ত্রাসীদের পড়াতে হচ্ছে। তিনি বলেন, আমাদের মধ্যেই এসব চাঁদাবাজদের চোর্স রয়েছে সবার আগে এদের গ্রেফতার করা উচিত।

কাউন্সিলর আবুল বশর বলেন, মানুষ উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে দেশ ও জাতীর উন্নয়নে কাজ করবে এটাই কথা ছিলো কিন্তু পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রেক্ষাপট ভিন্ন এক শ্রেনীর উপজাতী সম্প্রদায়ের সন্তানেরা উচ্চ শিক্ষা অর্জন করে চাঁদাবাজ হচ্ছে, সড়কে গাছ ফেলে গাড়ি ভাংচুর করে, পুলিশ-বিজিবির উপর হামলা করছে। এরা আমাদের কারো না কারো ভাই-বোন এদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে আগামী প্রজন্ম নিরাপদ নয়।
পাতাছড়া ইউপি চেয়ারম্যান মনিন্দ্র ত্রিপুরা বলেন, উপজেলার সোনাইআগা, গুজাপাড়া, মরাকয়লা, বালুখালী, গৈয়াপাড়ার এসব এলাকা চাঁদাবাজদের স্বর্গরাজ্য উল্লেখ করে এখানে নিরাপত্তা ক্যাম্প স্থাপনের দাবী জানান।

আওয়ামীলীগ নেতা কাজী নুরুল আলম বলেন, যারা পাহাড় অশান্ত করে সরকার ও জনগণের উন্নয়নকে ব্যহত করছে এরা বাহিরের কেউ নয়। এরা আমাদের মধ্যেই আছে সবার আগে এদের আইনের আওতায় নিয়ে এলে পাহাড়বাসী নিরাপদ থাকবে।

রামগড় উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুধীর চন্দ্র সরকার বলেন, পার্বত্যঞ্চলে চাঁদাবাজী রাতারাতি শুরু হয়নি এটি দীর্ঘকালের। এ মহাযগ্য অপরাদ এখন নিয়ন্ত্রনের বাহিরে এজন্য সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকে বিষয়টি নিয়ে ভাবার সময় হয়েছে।

মারমা প্রতিনিধি বাবু রুই¤্রচাই কার্বারী বলেন, গুটি কয়েক চাঁদাবাজের কাছে হাজার হাজার মানুষ জিম্মি। এদের চাঁদাবাজি বন্ধে পাহাড়ী-বাঙ্গালী ঐক্যমত জরুরী। সকল সম্পদায়ের উদ্ধে উঠে চাঁদাবাজ প্রতিরোধ কমিটি গঠনের দাবী জানান।

সাংবাদিক প্রতিনিধি নিজাম উদ্দিন বলেন, যে কোন সাম্পদায়িক অপরাধ যাতে মাথা চাড়া দিয়ে উঠতে না পারে এজন্য সাংবাদিকের কলম সর্বদা তৎপর ছিলো। সম্প্রতি পাহাড়ী-বাঙ্গালী উত্তেজনা যাতে ভিন্ন খাতে না যায় সেটি আমরা তুলে ধরেছি। তবে কতিপয় সুশীল দুস্কৃতিকারী নামদারী পত্রপত্রিকা ও ফেসবুক কেন্দ্রিক অপ-প্রচার সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার উসকানি দিচ্ছে। এসব দুস্কৃতিকারীদের আইনের আওতায় নিয়ে আসতে হবে।

অফিসার ইনচার্জ মোঃ শরিফুল ইসলাম বলেন, যেখানে ঘটনা ঘটুক দ্রুত জানান আমরা ব্যবস্থা নেবো। সোনাইআগা গ্রামের উদৃতি দিয়ে বলেন, আপনারা জানিয়েছেন আমারা দ্রুত ব্যবস্থা নিয়েছি এ কারনেই কোন ধরণের অপ্রীতিকর ঘটনার জন্ম হয়নি।

পৌর মেয়র মোহাম্মদ শাহজাহান বলেন, একটি স্বাধীন সার্বভৌম দেশে এমন চাঁদাবাজী সন্ত্রাসী কর্মকান্ড চলতে দেয়া যায়না। আমরা একি মায়ের অভিন্ন সন্তান হয়ে কাজ করি কোন চাঁদাবাজদের আশ্রয় না দিয়ে প্রশাসনকে সহায়তা করি এবং আগামীর উজ্জল ভবিষ্যত নির্মানে সু-শিক্ষায় শিক্ষিত হওয়ার পরিবেশ তৈরী করি তাহলেই চাঁদাবাজ নির্মুল হবে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার আল-মামুন মিয়া বলেন, সরকার এদেশ ও জনগণের উন্নয়নে কাজ করছে অপরদিকে পাহাড়ের কিছু সন্ত্রাসী নিজেদের অযাচিত উন্নয়নে চাঁদাবাজী করছে। আর এ চাঁবাজিই সাম্পদায়িক দাঙ্গা অশান্তি সৃষ্টির কারণ। প্রশাসন জনগণের পক্ষে তাই ধৈর্য্য নিয়ে যে কোন অন্যয়ে প্রশাসনকে অবহিত করুন। এসময় তিনি সম্প্রতি রামগড়ে সোনাইআগা পাহাড়ী-বাঙ্গালী উত্তেজনায় ধৈর্য্যর পরিচয় দেয়ায় সকলকে ধন্যবাদ জানান।
উপজেলা চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, আমরা জন প্রতিনিধিরা সংগাত নিরসনে চেষ্টা করেছি। সংগাত সৃষ্টি করলে প্রশাসন কঠোর ভূমিকা নেবে। পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে কেউ কোথাও যাবেনা এমন অবান্তর স্বপ্ন দেখা ভূল দাবী করে তিনি আরো বলেন, আমরা পাহাড়ী-বাঙ্গালীরা সম্প্রীতির বন্ধন তৈরী করতে পারলে এসব সন্ত্রাসী চাঁদাবাজ দমন করে স্থায়ী উন্নয়ন প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব।

সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য জোন কমান্ডার গত জানুয়ারী হতে ৫ জুন পর্যন্ত রামগড় জোন কর্তৃক ৪ কোটি ৩৯ লক্ষ ১ শত ৯৮ টাকার বিভিন্ন মালামাল উদ্ধার করা হয়েছে উল্লেখ করে বলেন এসব শুধু বিজিবির একা সাফল্য নয় এতে আপনাদের সহযোগীতাও রয়েছে। তিনি আরো বলেন, যুব ফোরাম নামে কোন কিছু নাই এসব জঙ্গীপনা এদের বিরুদ্ধে তথ্য দিয়ে সহযোগীতা করুন। এসময় রামগড়ের সোনাই আগা এলাকায় একটি নিরাপত্তা ক্যাম্প স্থাপনে উর্দ্বতন কর্তৃপক্ষের সহযোগীতা চাওয়ার কথা জানিয়ে বলেন, বিজিবির টহল পূর্বের তুলনায় আরো বাড়ানো হয়েছে।

মতামত