টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

টানা বর্ষনে টেকনাফে পাহাড় ধসের আশংকা

আমান উল্লাহ আমান
টেকনাফ (কক্সবাজার) প্রতিনিধি

চট্টগ্রাম, ০৫ জুলাই ২০১৭ (সিটিজি টাইমস): মৃত্যুর ঝুঁকি নিয়ে পাহাড়ে বসবাস করছে টেকনাফ উপজেলায় প্রায় ২৫ হাজার মানুষ। উপজেলা প্রশাসন থেকে ইতিমধ্যে মাইকিং করে সতর্ক করে দেয়া হয়েছে। টানা তিন দিনের টানা ভারী বর্ষনে পাহাড় ধসের আশংকা রয়েছে। তবুও বাড়ী ছেড়ে সরছেনা মানুষ।

উপজেলা প্রশাসন ও বনবিভাগের পক্ষ থেকে টেকনাফ সদর, পৌরসভা, হ্নীলা, হোয়াইক্যং ও বাহারছড়া ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় মাইকিং করেছে। এতে পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণভাবে অবৈধভাবে বসবাসকারীদেরকে সরে যেতে বলা হয়েছে। অন্যথায় আইনের আওতায় এনে শাস্তি দেয়ার ঘোষনা করেছে। তবুও সরছেনা মানুষ।

টেকনাফ উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা মো. জাহিদ হোসেন ছিদ্দিক বলেন, ‘এখন বর্ষাকাল। তার উপর টানা ভারী বৃষ্টিপাতের ফলে পাহাড় ধসের আশঙ্কা রয়েছে। তাই পুরো উপজেলার বিভিন্ন পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসকারী লোকজনকে সরে যেতে মাইকিং করে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, সরে আসা মানুষের জন্য নিরাপদ আশ্রয় কেন্দ্রসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্টানে আশ্রয়ের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। গত ৩ ও ৪ জুলাই এলাকায় এলাকায় মাইকিং করা হলেও এখনো কোন লোকজন সরে আসছে না।

বনবিভাগ সূত্রে জানা গেছে, টেকনাফ উপজেলায় দক্ষিন বনবিভাগের আওতাধীন ৩৯ হাজার হেক্টর বনভূমিতে অবৈধভাবে প্রায় ৫০ হাজার মানুষ বসবাস করে আসলেও তার মধ্যে পাহাড়ের ঝুকিপূর্ণ পাদদেশে বসবাস করছে ২৫ হাজারের মতো মানুষ। এলাকাগুলো হলো-পৌরসভার ফকিরামোরা, নাইট্যংপাড়া, ধুমপেরাংঘোনা, বৈদ্যরঘোনা, নাজিরঘোনা, সদরের গিলাতলি, শিয়াইল্যারঘোনা, উরুমেরছড়া, কেরুনতলি, বরুইতলি, হ্নীলার রোজারঘোনা, জাদিমুরা, উলুচামারী, লেচুয়াপ্রাং, হোয়াইক্যংয়ের সাতঘরিয়াপাড়া, কম্বনিয়াপাড়া, মরিচ্ছ্যাঘোনা, আমতলি, লাতুরিখোলা, হরিখোলা, দৈংঘ্যাকাটা, বাহারছড়ার নোয়াখালী, হাজমপাড়া, বাইন্ন্যাপাড়া ও আছারবনিয়া এলাকার পাহাড়কে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নীত করা হয়েছে। পাহাড়ের পাদদেশে স্থানীয় লোকজনের পাশাপাশি মিয়ানমার থেকে অবৈধভাবে অনুপ্রবেশকারী রোহিঙ্গারা পলিথিন ও বাঁশের ঝুপঁড়ি ঘর, মাটিঘর, সেমিপাকা ঘর তৈরি করে বসবাস করে আসছে।

এদিকে গত সোমবার দুপুরে টেকনাফের বিভিন্ন পাহাড়ের ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে বসবাসরত লোকজনকে সরে যেতে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) তুষার আহমদের নেতৃত্বে বাহারছড়া ইউনিয়নে একটি দল ও বনবিভাগের উদ্যোগে টেকনাফ সদরের বিট কর্মকর্তা সাজ্জাদ হোসেন, মোচনীর বিট কর্মকর্তা আবদুল মালেক, হ্নীলার বিট কর্মকর্তা ছৈয়দুল হক ও মধ্যম হ্নীলার বিট কর্মকর্তা আবদুল মতিনের নেত্বতে চারটি দল কাজ করছে। তাঁরা সকলেই বাড়ি বাড়ি গিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ স্থান থেকে সরে যেতে নির্দেশ দিচ্ছেন।

টেকনাফ বনবিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা তাপস কুমার দেব বলেন, পুরো উপজেলায় পাহাড়ের মধ্যে প্রায় চার শতাধিক পরিবার অধিকতর ঝুঁকিপূর্ণ ভাবে বসবাস করলেও টানা বৃষ্টিপাতে কেহ নিরাপদ নেই। তাই সকলকে নিরাপদ আশ্রয় চলে যেতে মাইকিং করা হয়েছে।

উল্লেখ্য যে, গত ২০১০ সনে টেকনাফে পাহাড় ধসে ৩৩ জনের প্রানহানী ঘটে। এছাড়াও বর্ষা এলে বিভিন্ন সময়ে পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটে থাকে।

মতামত