টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

হালদার পেটে বিলীন নাজিরহাট-কাজিরহাট সড়ক !

যে কোন মুহুর্তে হাওড়ে পরিনত হতে পারে মন্দাকিনি, সুয়াবিল

মীর মাহফুজ আনাম
সিটিজি টাইমস প্রতিবেদক

চট্টগ্রাম, ০৪  জুলাই ২০১৭ (সিটিজি টাইমস):  অবৈধ বালু উত্তোলনের ফলে হালদার পাড় ভেঙ্গে নাজিরহাট-কাজিরহাট সড়ক ডুকে পড়ছে হালদার পেটে। যে কোন মুহূর্তে নাজিরহাটের সাথে বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতে পারে নাজিরহাট পৌরসভার একটি অংশ, সুয়াবিল ইউনিয়ন, হারুয়ালছড়ি ইউনিয়ন ও ভুজপুরের একাধিক অংশ। ভাঙ্গনের ফলে হাওড় অঞ্চলে পরিনত হতে পারে হাটহাজারী উপজেলার ফরহাদাবাদ ইউনিয়নের মন্দাকিনি গ্রাম ও সুয়াবিলের একটি অংশ। এমনকি হুমকির মুখে পড়তে পারে নাজিরহাট কলেজ।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নাজিরহাট-কাজিরহাট সড়কের নাজিরহাট কলেজ গেইট ও মন্দাকিনি বেইলি ব্রিজের মাঝামাঝি প্রায় তিনশত ফুট রাস্তা ভেঙ্গে হালদার পানিতে বিলিন হয়ে যাচ্ছে। এমনকি ৩০ ফিট কার্পেটিং সড়কটির প্রায় প্রায় ১০ ফিট ভেঙ্গে ডুকে পড়েছে হালদায়। বিশেষ করে সা¤প্রতিক সময়ে সৃষ্ট বন্যায় এ ভাঙ্গনের ব্যাপকতা সৃষ্টি হয়। সোমবার থেকে পূনরায় আবারো ভারী বর্ষণ শুরু হলে মারাত্বক হুমকির মুখে পড়ে সড়কটি। হালদার এ অংশ হতে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে আসছে একটি মহল। যার ফলে হালদার গভীরতা বেড়ে যায়।

জানা যায়, ভাঙ্গন রোধ করতে জরুরি ভিত্তিতে পানি উন্নয়ন বোর্ড বালির বস্তা দিয়ে বাঁধ রক্ষার নির্দেশ দেন। সেখানে কয়েকশ বস্তা বালি ভর্তি করে রাখা হলেও এখনো তা হালদায় ফেলে বাঁধ সৃষ্টি না করায় এলাকায় চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে।

মঙ্গলবার(আজ) ভাঙ্গন কবলিত এলাকাটি পরিদর্শনে এসে আ.লীগের কেন্দ্রিয় নেতা ও ফটিকছড়ির সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান এটিএম পেয়ারুল ইসলাম চরম হতাশা ব্যাক্ত করেন। তিনি বলেন,‘ কর্তৃপক্ষের অবহেলায় এখানে আজকের এ পরিনিতি হয়েছে। সড়কটি হালদার পেটে চলে যাচ্ছে কয়েক বছর পূর্ব থেকে । এতোদিন কোথায় ছিল পানি উন্নয়ন বোর্ড কিংবা সড়কটির মালিক এলজিইডি ? এখন তারা জরুরি ভিত্তিতে যে কয়েকশ বালুর বস্তা দিয়ে বাঁধরক্ষা প্রক্রিয়া শুরু করার কথা; তাও দীর্ঘসূত্রিতা করা হচ্ছে। আমি পানিসম্পদ মন্ত্রী সাংসদ ব্যারিষ্ট্রার আনিসুল ইসলাম মাহমুদকে বিষয়টি নিয়ে এ মুহুর্তে ফোনে কথা বলেছি। দ্রুত যেন বস্তাগুলো পানিতে ফেলে বাঁধ তৈরী করে সড়কটি রক্ষা করতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের চট্টগ্রামের নির্বাহী কর্মকর্তাকেও ফোন করে বলেছি।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের চট্টগ্রামের নির্বাহী কর্মকর্তা বিদ্যুৎ কুমার সাহা বলেন,‘ জায়গাটিতে আজকের এ পরিনতি হওয়ার পেছনে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের গাফেলতিও রয়েছে। তারা বিষয়টি সংশ্লিষ্ট দপ্তরে ইতিপূর্বে জানায়নি কেন ? বর্তমানে জরুরি ভিত্তিতে যেসব বস্তা দিয়ে বাঁধ নির্মাণ করা হবে, তা ঢাকা থেকে একটি টিম এসে পরিদর্শনের পর তা পানিতে ফেলা হবে। নদীর পানি শুকানো ছাড়া তা সম্ভবপর নয়।

ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকতা দীপক কুমার রায় বলেন,‘ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে বহু তদবির করে জরুরি ভিত্তিতে বালির বস্তা ফেল বাঁধ নির্মাণের জন্য ব্যবস্থা করেছি। বিভিন্ন জটিলতায় এখনো বস্তাগুলো ফেলে বাঁধটা নির্মাণ করা হয়ে উঠেনি। আশা করি শীঘ্রই তা সম্ভব হবে।’

মতামত